আম বয়ানে শুরু বিশ্ব ইজতেমা, লাখো মুসল্লির ঢল
- আপডেট সময় : ১২:০০:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৩
- / 262
শুক্রবার বাদ ফজর পাকিস্তানের মাওলানা মাওলানা জিয়াউল হক রায়বেন্ড’র বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইজতেমার প্রথম পর্বের আনুষ্ঠানিকতা। এবারের বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আজ প্রথম দিন। উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লি বয়ান, তাশকিল, তাসবিহ—তাহলিলে সময় কাটাচ্ছেন।
ইজতেমা শুরুর আ’ম বয়ান
একিনের সঙ্গে আমল করতে হবে। যেভাবে আমল করলে আল্লাহ রাজিখুশি হয় সেভাবে তা শিখতে হবে। খেয়ালের সাথে আমল করতে হবে। একিনের সঙ্গে আমল করলে কামিয়বী লাভ করা যায়। আমল করতে হবে দুনিয়াবি কিছু পাওয়ার জন্য নয়, আল্লাহকে রাজি-খুশির জন্য আমল করতে হবে। মে নিজের চাহিদা রেখে আল্লাহর চাহিদাকে আগে রাখবে, প্রাধান্য দেবে, সে-ই সফলকাম হবে।
বিশ্ব মুসলিমের অন্যতম বৃহৎ এ ধর্মীয় জমায়েতে দেশ বিদেশের লাখ লাখ মুসল্লি অংশ নিয়েছেন। ইতোমধ্যে পুরো ইজতেমা ময়দান ছাপিয়ে গেছে। মুসুল্লিরা এখন অবস্থান নিয়েছে ইজতেমা মাঠের বাইরে, রাস্তা, ফুটপাতে ও খোলা জায়গায়। আরো দুই দিন তারা সেখানে অবস্থান করার জন্য পলিথিন – ত্রিপল দিয়ে ছাউনি ত তৈরি করেছেন মুসুল্লিরা।
বিশ্ব ইজতেমায় পযাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রোববার দুপুরের আগেই আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমার প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় পর্ব শুরু হবে ২০ জানুয়ারি।
ইজতেমায় অংশ নিতে মঙ্গলবার থেকেই মুসল্লিরা তুরাগ তীরে আসতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার দুপুরের আগেই পুরো ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। অনেক মুসল্লি ময়দানে স্থান না পেয়ে রাস্তার পাশে ফুটপাত এবং বিভিন্ন মসজিদে অবস্থান করছেন। এবারের বিশ্ব ইজতেমায় প্রথম পর্বে স্মরণকালের সবচে বেশি মুসল্লি জমায়েত হয়েছেন বলে ইজতেমা আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।
শুক্রবার ভোর থেকে মুসল্লিদের ঢল আরও বাড়তে থাকে। ইজতেমায় অংশ নিতে ট্রেন, নৌকা, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমা মাঠে সমবেত হচ্ছেন। তারা জামাতবদ্ধ হয়ে দলে দলে ইজতেমা মাঠের নির্ধারিত স্থানে (খিত্তায়) প্রয়োজনীয় মালামাল ও ব্যাগ নিয়ে অবস্থান করছেন। বৃহস্পতিবার বাদ ফজর থেকে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে প্রস্তুতিমূলক প্রাথমিক আম বয়ান দেয়া হয়। এতে ইজতেমায় আসা মুসল্লিদের তিন দিন অবস্থানের নিয়মকানুনের বয়ান করা হয়।
বৃহত্তম জুমার জামাত
শুক্রবার দুপুরে দেশের সর্ববৃহৎ জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হবে ইজতেমা ময়দানে। এতে ১৫৫ লাখের ও বেশি মুসল্লি এক জামাতে শরিক হয়ে জুমার নামাজ আদায় করবেন ধারণা করছেন কতৃপক্ষ। রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুরের বিভিন্ন উপজেলা এবং আশপাশের জেলা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি এ বৃহৎ জুমার নামাজে শরিক হবেন। ইতোমধ্যে অনেকে টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় আত্মীয় স্বজনের বাসায় ও আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিচ্ছেন।
দেশ—বিদেশের কয়েক লাখ মুসল্লি দূর—দূরান্ত থেকে চলে আসায় ইতোমধ্যে টঙ্গী স্টেশন রোড ও কামারপাড়াসহ বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের আশপাশের এলাকায় মুসল্লিদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে। তিল ধারণের ঠাঁই নেই কোথাও। এত বিপুল সংখক মুসল্লির নিরাপত্তায় হিমশিম খেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
ইজতেমা মাঠের মুরব্বি প্রকৌশলী আব্দুন নূর জানান, তাবলিগ জামাতের উদ্যোগে প্রতি বছর বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়। মাঠের সব কাজ করা হচ্ছে পরামর্শের মাধ্যমে। এখানে বিদ্যুৎ, পানি, প্যান্ডেল তৈরি, গ্যাস সরবরাহ প্রতিটি কাজই আলাদা আলাদা গ্রুপের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। বিশ্বের প্রায় সব মুসলিম দেশ থেকেই তাবলিগ জামাতের অনুসারী মুসলমানরা অংশ নেন। তারা এখানে তাবলিগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শোনেন এবং ইসলামের দাওয়াতি কাজ বিশ্বব্যাপী পৌঁছে দেয়ার জন্য জামাতবদ্ধ হয়ে বেরিয়ে যান।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান জানান, বিশ্ব ইজতেমার সার্বিক কর্মকান্ড সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষে বিভিন্ন বিভাগের কাজের সমন্বয় করে থাকে জেলা প্রশাসন। বিদেশি মেহমানগণের আবাসস্থল নির্মাণের নিমিত্তে টিন সরবরাহ, বিভিন্ন দফতরের কন্ট্রোল রুমের স্থান নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা বিভাগীয় প্রশাসনের দিক নির্দেশনায় বিভিন্ন কার্যাদি তদারকি করে থাকে। সর্বোপরি বিশ্ব ইজতেমার সকল দিক জেলা প্রশাসন পর্যবেক্ষণ করে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোল্লা নজরুল ইসলাম জানান, বিশ্ব ইজতেমার চারপাশ এবং বাহির সিসি টিভির আওতায় আনা হয়েছে। খিত্তায় খিত্তায় পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য সাড়ে ১০ হাজার পুলিশ, র্যাবসহ নিরাপত্তা কর্মী কাজ করবে। এর মধ্যে রয়েছে জেলা পুলিশ, আর্ম পুলিশ ব্যাটালিয়ন, শিল্প পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, মেট্রো পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ রয়েছে। যেকোনো প্রকার নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে।


















