ঢাকা ০৩:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আ.লীগের বহিষ্কৃত নেতা এনু রুপনের ৭ বছর কারাদণ্ড

বিশেষ প্রতিবেদক ঢাকা
  • আপডেট সময় : ১১:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩
  • / 128

রাজধানীর বংশাল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা মামলায় গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই থানা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক রুপন ভূঁইয়ার ৭ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৫২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ-৮-এর বিচারক মো. বদরুল আলম ভূঞা রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় এনু-রুপন ভূঁইয়াসহ ৬ জন উপস্থিত ছিলেন। মেরাজুল হক ও ভুলু চন্দ্র দেব পলাতক রয়েছেন। মামলার বিচারকালে ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

রায়ে বলা হয়, ‘আসামি এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো এবং ৫২ কোটি ৮৮ হাজার ৭৮৮ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হলো। অর্থদণ্ডের টাকা অনাদায়ে আসামিদের আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া এ মামলায় এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার জব্দকৃত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হলো।’

রায়ের অবজারভেশনে বিচারক বলেন, ‘যারা দুর্নীতিবাজ, মানি লন্ডার, তারা শুধু আমাদের সম্পদ চুরি করছে না। তারা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ চুরি করছে এবং আমাদের স্বপ্ন চুরি করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের উচিত তাদের আইনের আওতায় আনতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা। এটা সত্য যে, এদেশের মানুষ দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করে। তবে আমাদের উচিত তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা।’

২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসাবে দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াদের পুরান ঢাকার বাসা এবং ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের তাদের দুই সহযোগী আবুল কালাম ও হারুন অর রশিদের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এরপর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা হয়। ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট বংশাল থানায় সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম স্কোয়াডের পরিদর্শক মো. মেহেদী মাকসুদ একটি দায়ের করেন। এ মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি এনু ও রুপন গ্রেফতার হয়। ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল ওয়ারী থানায় অর্থ পাচারের মামলায় এনু-রুপনসহ ১১ জনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ইকবাল হোসেনের আদালত। একই সঙ্গে তাদের চার কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।

ট্যাগস :

আ.লীগের বহিষ্কৃত নেতা এনু রুপনের ৭ বছর কারাদণ্ড

আপডেট সময় : ১১:৫০:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৩

রাজধানীর বংশাল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা মামলায় গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সহসভাপতি এনামুল হক এনু ও তার ভাই থানা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক রুপন ভূঁইয়ার ৭ বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া ৫২ কোটি ৮৮ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এ মামলায় ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ-৮-এর বিচারক মো. বদরুল আলম ভূঞা রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় এনু-রুপন ভূঁইয়াসহ ৬ জন উপস্থিত ছিলেন। মেরাজুল হক ও ভুলু চন্দ্র দেব পলাতক রয়েছেন। মামলার বিচারকালে ১০ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

রায়ে বলা হয়, ‘আসামি এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাষ্ট্রপক্ষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তাদেরকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো এবং ৫২ কোটি ৮৮ হাজার ৭৮৮ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হলো। অর্থদণ্ডের টাকা অনাদায়ে আসামিদের আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া এ মামলায় এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়ার জব্দকৃত সম্পদ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হলো।’

রায়ের অবজারভেশনে বিচারক বলেন, ‘যারা দুর্নীতিবাজ, মানি লন্ডার, তারা শুধু আমাদের সম্পদ চুরি করছে না। তারা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ চুরি করছে এবং আমাদের স্বপ্ন চুরি করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকের উচিত তাদের আইনের আওতায় আনতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা। এটা সত্য যে, এদেশের মানুষ দুর্নীতিবাজদের ঘৃণা করে। তবে আমাদের উচিত তাদের সামাজিকভাবে বয়কট করা।’

২০১৯ সালে ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের অংশ হিসাবে দুই ভাই এনামুল হক এনু ও রুপন ভূঁইয়াদের পুরান ঢাকার বাসা এবং ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের তাদের দুই সহযোগী আবুল কালাম ও হারুন অর রশিদের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। এরপর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ১২টি মামলা হয়। ২০২০ সালের ৩১ আগস্ট বংশাল থানায় সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম স্কোয়াডের পরিদর্শক মো. মেহেদী মাকসুদ একটি দায়ের করেন। এ মামলায় ১১ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে তিনজনকে অব্যাহতি দিয়ে ৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়।

২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি এনু ও রুপন গ্রেফতার হয়। ২০২২ সালের ২৫ এপ্রিল ওয়ারী থানায় অর্থ পাচারের মামলায় এনু-রুপনসহ ১১ জনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক ইকবাল হোসেনের আদালত। একই সঙ্গে তাদের চার কোটি টাকা জরিমানা করা হয়।