ঢাকা ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আ.লীগ কার্যালয়ে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:২১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩
  • / 167

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. সজিব মৃধাকে (৩৫) কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ১০টার সময় শহরের কুমারপট্টিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসের ভিতরে এ ঘটনা ঘটেছে।

গুরুতর আহত সজিব মৃধা এ ঘটনার জন্য উপজেলা যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. রকিবুল ইসলাম (রকি) এবং উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জনি সরদারকে দায়ী করেছেন।

আহত সজিব মৃধা অভিযোগ করে বলেন, রকি ও জনি আগে থেকেই তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। উভয়পক্ষই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মহিববুর রহমানের নৌকা প্রতীকের সমর্থক। তবে সজিবকে কোনোভাবেই রকি ও জনি মানতে পারছিল না। সজিব কখনো দলীয় কার্যালয়ে গেলে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হতো। তার ওপর হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা তিনি দলের সিনিয়র নেতাদেরও জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে সজিব নৌকা প্রতীকের নির্বাচনি কাজ শেষ করে পৌর শহরের কুমারপট্টির দলীয় কার্যালয়ে গেলে হামলার শিকার হন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সজিব মৃধা আক্ষেপ করে আরও বলেন, যখন রামদা নিয়ে ওরা আমার ওপর হামলা করেছে তখন দলের কার্যালয়ের ভিতর অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তারা কেউই আমাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেননি। রামদা-ছেনা দিয়ে ওরা আমাকে কুপিয়েছে। হামলাকারীরা তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিল। এ হামলায় রকি ও জনির সঙ্গে মুছা, সুমন, মহিবুল্লাহ, মোস্তফাসহ অন্তত ১০-১২ জন জড়িত ছিল বলে সজিব জানায়।

কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব তালুকদার গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, রোববার রাতে আমি বাসায় এসে রাত ১০টায় ঘুমিয়ে পড়ি। সোমবার সকালেই এ ঘটনা শুনি। বড় সংগঠনে এ রকম ঘটনা ঘটেই থাকে। নিজেদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, সজিবের পিঠে ছুরি বা ধারালো কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ডান পায়ের গোড়ালির ওপরে কোপ লেগেছে। ডান পায়ের কোপের আঘাতটি গভীর হয়েছে এবং হাড় কেটে গেছে। হাড় কেটে যাওয়ায় ওই ছেলেটার উন্নত চিকিৎসা দরকার। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও মারধরের চিহ্ন রয়েছে।

মিনহাজ উদ্দিন ভূঁইয়া আরও বলেন, তাকে বরিশাল বা ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো দরকার। তার আত্মীয়স্বজন বা শুভাকাঙ্ক্ষী কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা দিয়েছি।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ জানান, এ ঘটনার খবর পেয়েই টহলে থাকা আমাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনার নিকটবর্তী জায়গা থেকে মেহেদী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কেউই আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়নি।

ট্যাগস :

আ.লীগ কার্যালয়ে যুবলীগ কর্মীকে কুপিয়ে জখম

আপডেট সময় : ০৭:২১:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৩

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মো. সজিব মৃধাকে (৩৫) কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। রোববার রাত সাড়ে ১০টার সময় শহরের কুমারপট্টিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসের ভিতরে এ ঘটনা ঘটেছে।

গুরুতর আহত সজিব মৃধা এ ঘটনার জন্য উপজেলা যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. রকিবুল ইসলাম (রকি) এবং উপজেলা শ্রমিক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জনি সরদারকে দায়ী করেছেন।

আহত সজিব মৃধা অভিযোগ করে বলেন, রকি ও জনি আগে থেকেই তার ওপর ক্ষিপ্ত ছিল। উভয়পক্ষই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. মহিববুর রহমানের নৌকা প্রতীকের সমর্থক। তবে সজিবকে কোনোভাবেই রকি ও জনি মানতে পারছিল না। সজিব কখনো দলীয় কার্যালয়ে গেলে নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হতো। তার ওপর হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা তিনি দলের সিনিয়র নেতাদেরও জানিয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাতে সজিব নৌকা প্রতীকের নির্বাচনি কাজ শেষ করে পৌর শহরের কুমারপট্টির দলীয় কার্যালয়ে গেলে হামলার শিকার হন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন সজিব মৃধা আক্ষেপ করে আরও বলেন, যখন রামদা নিয়ে ওরা আমার ওপর হামলা করেছে তখন দলের কার্যালয়ের ভিতর অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তারা কেউই আমাকে বাঁচাতে চেষ্টা করেননি। রামদা-ছেনা দিয়ে ওরা আমাকে কুপিয়েছে। হামলাকারীরা তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিল। এ হামলায় রকি ও জনির সঙ্গে মুছা, সুমন, মহিবুল্লাহ, মোস্তফাসহ অন্তত ১০-১২ জন জড়িত ছিল বলে সজিব জানায়।

কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব তালুকদার গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, রোববার রাতে আমি বাসায় এসে রাত ১০টায় ঘুমিয়ে পড়ি। সোমবার সকালেই এ ঘটনা শুনি। বড় সংগঠনে এ রকম ঘটনা ঘটেই থাকে। নিজেদের মধ্যে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা নিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা মিনহাজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, সজিবের পিঠে ছুরি বা ধারালো কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। ডান পায়ের গোড়ালির ওপরে কোপ লেগেছে। ডান পায়ের কোপের আঘাতটি গভীর হয়েছে এবং হাড় কেটে গেছে। হাড় কেটে যাওয়ায় ওই ছেলেটার উন্নত চিকিৎসা দরকার। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও মারধরের চিহ্ন রয়েছে।

মিনহাজ উদ্দিন ভূঁইয়া আরও বলেন, তাকে বরিশাল বা ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো দরকার। তার আত্মীয়স্বজন বা শুভাকাঙ্ক্ষী কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা দিয়েছি।

কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ জানান, এ ঘটনার খবর পেয়েই টহলে থাকা আমাদের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনার নিকটবর্তী জায়গা থেকে মেহেদী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কেউই আমাদের কাছে অভিযোগ দেয়নি।