ঢাকা ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউএনওকে কাতার সোজা করতে বলায় চাকরি গেল ইমামের, পানিতে চুবানোর হুমকি

কুমিল্লা ব্যুরো
  • আপডেট সময় : ০৮:৫০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৩
  • / 229

কুমিল্লার লালমাইয়ে নামাজের কাতার সোজা করতে বলায় চাকরি গেল আবুল বাসার নামে এক ইমামের। ওই ইমামকে পানিতেও চুবাতে চাইলেন ইউএনও। শুক্রবার জুমার নামাজে কাতার সোজা করতে ইউএনওর গায়ে হাত দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওই মসজিদের ইমামের চাকরি চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তবে বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফোরকান এলাহী অনুপম। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক সমালোচনা চলছে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে উপজেলার ভাটরা কাছারি জামে মসজিদে যান লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফোরকান এলাহী অনুপম। এ সময় মসজিদে খুতবা চলছিল। খুতবা শেষ হলে ইকামত দেওয়ার সময় সবাইকে কাতার সোজা করে দাঁড়াতে বলেন ইমাম আবুল বাসার। এতে প্রথমসারিতে থাকা ইউএনও ফোরকান এলাহী অনুপম একটু বেশি সামনে থাকায় ইমাম তাকে হাতে ধরে একটু সরিয়ে দেন।

মসজিদ ভর্তি মানুষের সামনে হাতে ধরে সরিয়ে দেওয়াটাই মাওলানা আবুল বাসারের কাল হলো। নামাজ শেষ করেই মসজিদের পুকুরপাড়ে ইমাম আবুল বাসারকে এবং মুয়াজ্জিন পারভেজ হোসেনকে ডেকে নিয়ে ইমামকে উদ্ভট প্রশ্ন করেন। পরে তার জবাব দিতে না পারায় ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ওই ইমামকে আর নামাজ পড়াতে হবে না বলে জানান।

ইমাম মাওলানা আবুল বাসার বলেন, আমি ইউএনও স্যারকে চিনতে পারিনি। তিনি একটু সামনে এসে দাঁড়ালে আমি কাতার সোজা করে দাঁড়াতে বলি। তিনি শার্ট-প্যান্ট পরা ছিলেন। হাত দিয়ে একটু সরিয়ে দিয়ে কাতারটা সোজা করি। পরে নামাজ শেষ হলে একজন মসজিদে এসে খবর দেয় পুকুরপাড়ে যাওয়ার জন্য। আমি আর মুয়াজ্জিন পুকুরপাড়ে গেলে একজন বলে ওঠেন- আপনি কি উনাকে চেনেন? তিনি হলেন আমাদের উপজেলার নির্বাহী অফিসার। আমি তাকে বললাম, স্যার আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। ক্ষমা করে দেন। এটা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে বলেন, আপনি কত বড় ইমাম হয়েছেন তা এখনই বোঝা যাবে, আপনাকে পানিতে চুবাব। আপনার এখন ইন্টারভিউ হবে। আপনি কিভাবে চাকরি পেলেন? বলে তিনি উদ্ভট প্রশ্ন করতে থাকেন। পরে চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে বলেন আপনার আর নামাজ পড়াতে হবে না এখানে। পরে আমি চলে আসি বাড়িতে।

ঘটনার বিষয়ে পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুল্লাহ বলেন, ঘটনা শুনে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে শুনি দোষটা ইমামের ছিল। তিনি ইউএনও স্যারকে গায়ে হাত দিয়ে সরিয়ে দিতে পারেন না। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মুসল্লি ইমামের বিরুদ্ধে চলে গেছেন। আমি শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বলেছি আপনি আর নামাজ পড়াতে আসবেন না। তবে এটা সাময়িক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি আবার নামাজ পড়াতে পারবেন।

এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফোরকান এলাহী অনুপম বলেন, ইমামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এসেছিল আমার কাছে। নামাজে আমার সঙ্গে ইমামের কিছুই হয়নি। যা বলা হচ্ছে তা একদমই মিথ্যা। খুতবায় ইমাম সাহেব রাষ্ট্রদ্রোহের মতো বক্তব্য দেন বলে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। আমি তাই তাকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেছি। তার চাকরি যাবে কেন? একটা নিরপরাধ মানুষ কেন ভিকটিম হবে? যেহেতু রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ উঠেছে, সেহেতু বিষয়টি তদন্ত হবে, একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। বাকি সব কথা মিথ্যা রটাচ্ছে একটি মহল।

ট্যাগস :

ইউএনওকে কাতার সোজা করতে বলায় চাকরি গেল ইমামের, পানিতে চুবানোর হুমকি

আপডেট সময় : ০৮:৫০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৩

কুমিল্লার লালমাইয়ে নামাজের কাতার সোজা করতে বলায় চাকরি গেল আবুল বাসার নামে এক ইমামের। ওই ইমামকে পানিতেও চুবাতে চাইলেন ইউএনও। শুক্রবার জুমার নামাজে কাতার সোজা করতে ইউএনওর গায়ে হাত দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগে ওই মসজিদের ইমামের চাকরি চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তবে বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফোরকান এলাহী অনুপম। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচক সমালোচনা চলছে।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার জুমার নামাজ আদায় করতে উপজেলার ভাটরা কাছারি জামে মসজিদে যান লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফোরকান এলাহী অনুপম। এ সময় মসজিদে খুতবা চলছিল। খুতবা শেষ হলে ইকামত দেওয়ার সময় সবাইকে কাতার সোজা করে দাঁড়াতে বলেন ইমাম আবুল বাসার। এতে প্রথমসারিতে থাকা ইউএনও ফোরকান এলাহী অনুপম একটু বেশি সামনে থাকায় ইমাম তাকে হাতে ধরে একটু সরিয়ে দেন।

মসজিদ ভর্তি মানুষের সামনে হাতে ধরে সরিয়ে দেওয়াটাই মাওলানা আবুল বাসারের কাল হলো। নামাজ শেষ করেই মসজিদের পুকুরপাড়ে ইমাম আবুল বাসারকে এবং মুয়াজ্জিন পারভেজ হোসেনকে ডেকে নিয়ে ইমামকে উদ্ভট প্রশ্ন করেন। পরে তার জবাব দিতে না পারায় ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ওই ইমামকে আর নামাজ পড়াতে হবে না বলে জানান।

ইমাম মাওলানা আবুল বাসার বলেন, আমি ইউএনও স্যারকে চিনতে পারিনি। তিনি একটু সামনে এসে দাঁড়ালে আমি কাতার সোজা করে দাঁড়াতে বলি। তিনি শার্ট-প্যান্ট পরা ছিলেন। হাত দিয়ে একটু সরিয়ে দিয়ে কাতারটা সোজা করি। পরে নামাজ শেষ হলে একজন মসজিদে এসে খবর দেয় পুকুরপাড়ে যাওয়ার জন্য। আমি আর মুয়াজ্জিন পুকুরপাড়ে গেলে একজন বলে ওঠেন- আপনি কি উনাকে চেনেন? তিনি হলেন আমাদের উপজেলার নির্বাহী অফিসার। আমি তাকে বললাম, স্যার আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। ক্ষমা করে দেন। এটা বলার সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে বলেন, আপনি কত বড় ইমাম হয়েছেন তা এখনই বোঝা যাবে, আপনাকে পানিতে চুবাব। আপনার এখন ইন্টারভিউ হবে। আপনি কিভাবে চাকরি পেলেন? বলে তিনি উদ্ভট প্রশ্ন করতে থাকেন। পরে চেয়ারম্যান সাহেব আমাকে বলেন আপনার আর নামাজ পড়াতে হবে না এখানে। পরে আমি চলে আসি বাড়িতে।

ঘটনার বিষয়ে পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুল্লাহ বলেন, ঘটনা শুনে আমি দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে শুনি দোষটা ইমামের ছিল। তিনি ইউএনও স্যারকে গায়ে হাত দিয়ে সরিয়ে দিতে পারেন না। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মুসল্লি ইমামের বিরুদ্ধে চলে গেছেন। আমি শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য বলেছি আপনি আর নামাজ পড়াতে আসবেন না। তবে এটা সাময়িক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তিনি আবার নামাজ পড়াতে পারবেন।

এ বিষয়ে লালমাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফোরকান এলাহী অনুপম বলেন, ইমামের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এসেছিল আমার কাছে। নামাজে আমার সঙ্গে ইমামের কিছুই হয়নি। যা বলা হচ্ছে তা একদমই মিথ্যা। খুতবায় ইমাম সাহেব রাষ্ট্রদ্রোহের মতো বক্তব্য দেন বলে আমার কাছে অভিযোগ এসেছে। আমি তাই তাকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেছি। তার চাকরি যাবে কেন? একটা নিরপরাধ মানুষ কেন ভিকটিম হবে? যেহেতু রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ উঠেছে, সেহেতু বিষয়টি তদন্ত হবে, একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। বাকি সব কথা মিথ্যা রটাচ্ছে একটি মহল।