ঢাকা ১১:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গ্রাহকের টাকা নিয়ে লাপাত্তা, চার মাসেও অধরা ক্যাশিয়ার

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৩
  • / 188

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ‘ব্যাংক এশিয়া’র ইউনিয়ন শাখা থেকে গ্রাহকের প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা ক্যাশিয়ার সানোয়ার হোসেন সাগর। ঘটনার চার মাসেও তাঁকে ধরতে পারেনি পুলিশ। অভিযুক্ত সাগর মোহনগঞ্জের সহিলদেও গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে।

বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক বজলুর রহমান তালুকদার। এ জন্য পুলিশের গাফিলতিকে দায়ী করছেন। বৃহস্পতিবার নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান তিনি।

জানা গেছে, মোহনগঞ্জের সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নে একটি শাখা খোলে ‘ব্যাংক এশিয়া’। এখানে ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন সানোয়ার হোসেন সাগর (২৩)। গত ৮ আগস্ট গ্রাহক বজলুর রহমানসহ পরিচিতদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান ক্যাশিয়ার সাগর। বিষয়টি জানার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে সাগরকে না পেয়ে ১৭ আগস্ট মোহনগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেন গ্রাহক বজলুর রহমান।

তাঁর দাবি, তাঁর ২২ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন সাগর। টাকাগুলো ব্যাংকে জমা রাখার জন্য সাগরের কাছে দিয়েছিলেন। ইন্টারনেট সমস্যা দেখিয়ে পরে জমা দেওয়া হবে বলে টাকাগুলো নিজের কাছে রাখেন সাগর। পরে সুযোগ বুঝে টাকা নিয়ে ভেগে যান। এ ছাড়া মেদি পাথরকাটা গ্রামের রবিন নামে এক ব্যক্তির ৬০ হাজার টাকাসহ পরিচিত লোকদের কাছ থেকে আরও টাকা নিয়ে পালিয়ে যান সাগর।
সব মিলিয়ে টাকার পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ। বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ গ্রাহক বজলুর রহমানের অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। এ মামলায় সানোয়ার হোসেন সাগরসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

টেংগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে জমা ছিল তাঁর টাকা। সেখান থেকে তুলে ২২ লাখ টাকা ব্যাংক এশিয়ায় রাখি। সাগর কৌশলে সেই টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করলেও পুলিশ চার মাসেও তাকে ধরতে পারেনি।’

মেদি পাথরকাটা গ্রামের মোহাম্মদ আলী খান জানান, তাঁর ছেলে রবিনের ৬০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা ছিল। সাগর সেই টাকা তুলে নিয়ে পালিয়েছেন। সাগরের চুরির রেকর্ড আছে। জেনেশুনে এমন একটা ছেলেকে যারা ব্যাংকে চাকরি দিয়েছে এই দায় তাদের।

অভিযোগের বিষয়ে সানোয়ার হোসেন সাগরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে কথা হয় ‘ব্যাংক এশিয়া’র সমাজ সহিলদেও ইউনিয়ন শাখার ম্যানেজার মাকসুদ রানার সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো ধরনের লেনদেন হয়নি। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি শুনেছেন। এতে তাদের করার কিছু নেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজুল ইসলাম বলেন, ওই মামলায় সাগরসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি সাগর ছাড়া বাকিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। সাগরকে ধরতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাগর খুবই ধূর্ত, সহজে তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।

ট্যাগস :

গ্রাহকের টাকা নিয়ে লাপাত্তা, চার মাসেও অধরা ক্যাশিয়ার

আপডেট সময় : ১০:১৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৩

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে ‘ব্যাংক এশিয়া’র ইউনিয়ন শাখা থেকে গ্রাহকের প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিয়ে লাপাত্তা ক্যাশিয়ার সানোয়ার হোসেন সাগর। ঘটনার চার মাসেও তাঁকে ধরতে পারেনি পুলিশ। অভিযুক্ত সাগর মোহনগঞ্জের সহিলদেও গ্রামের মঞ্জিল মিয়ার ছেলে।

বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক বজলুর রহমান তালুকদার। এ জন্য পুলিশের গাফিলতিকে দায়ী করছেন। বৃহস্পতিবার নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের বিষয়টি জানান তিনি।

জানা গেছে, মোহনগঞ্জের সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নে একটি শাখা খোলে ‘ব্যাংক এশিয়া’। এখানে ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন সানোয়ার হোসেন সাগর (২৩)। গত ৮ আগস্ট গ্রাহক বজলুর রহমানসহ পরিচিতদের কাছ থেকে প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যান ক্যাশিয়ার সাগর। বিষয়টি জানার পর অনেক খোঁজাখুঁজি করে সাগরকে না পেয়ে ১৭ আগস্ট মোহনগঞ্জ থানায় অভিযোগ দেন গ্রাহক বজলুর রহমান।

তাঁর দাবি, তাঁর ২২ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন সাগর। টাকাগুলো ব্যাংকে জমা রাখার জন্য সাগরের কাছে দিয়েছিলেন। ইন্টারনেট সমস্যা দেখিয়ে পরে জমা দেওয়া হবে বলে টাকাগুলো নিজের কাছে রাখেন সাগর। পরে সুযোগ বুঝে টাকা নিয়ে ভেগে যান। এ ছাড়া মেদি পাথরকাটা গ্রামের রবিন নামে এক ব্যক্তির ৬০ হাজার টাকাসহ পরিচিত লোকদের কাছ থেকে আরও টাকা নিয়ে পালিয়ে যান সাগর।
সব মিলিয়ে টাকার পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ। বিষয়টি তদন্ত করে পুলিশ গ্রাহক বজলুর রহমানের অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। এ মামলায় সানোয়ার হোসেন সাগরসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

টেংগাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা বজলুর রহমান বলেন, ‘বিভিন্ন ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে জমা ছিল তাঁর টাকা। সেখান থেকে তুলে ২২ লাখ টাকা ব্যাংক এশিয়ায় রাখি। সাগর কৌশলে সেই টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করলেও পুলিশ চার মাসেও তাকে ধরতে পারেনি।’

মেদি পাথরকাটা গ্রামের মোহাম্মদ আলী খান জানান, তাঁর ছেলে রবিনের ৬০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা ছিল। সাগর সেই টাকা তুলে নিয়ে পালিয়েছেন। সাগরের চুরির রেকর্ড আছে। জেনেশুনে এমন একটা ছেলেকে যারা ব্যাংকে চাকরি দিয়েছে এই দায় তাদের।

অভিযোগের বিষয়ে সানোয়ার হোসেন সাগরের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। পরে কথা হয় ‘ব্যাংক এশিয়া’র সমাজ সহিলদেও ইউনিয়ন শাখার ম্যানেজার মাকসুদ রানার সঙ্গে। তাঁর ভাষ্য, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোনো ধরনের লেনদেন হয়নি। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি শুনেছেন। এতে তাদের করার কিছু নেই।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তাজুল ইসলাম বলেন, ওই মামলায় সাগরসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি সাগর ছাড়া বাকিরা আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। সাগরকে ধরতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাগর খুবই ধূর্ত, সহজে তাঁকে গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।