ঢাকা ০৫:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘূর্ণিঝড়ে ঘর হারিয়ে পাগলপারা অসহায় বিধবা হোসনে আরা

হারুন আনসারী ফরিদপুর
  • আপডেট সময় : ১২:১৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৩
  • / 184

‘আমাগো থাকার ঘর ভাইঙ্গ্যা গ্যাছে। আর কোন উপায় নাই। এহন আমরা খোলা আকাশের নিচেই রাইত কাটাইতেছি।’ কথাগুলো বলছিলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের সোনাতুন্দী চর পাড়া গ্রামের মৃত রায়েব আলী মোল্লার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৪৫)। গত বৃহস্পতিবারের বিরামহীন প্রবলবর্ষণের সময় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এই বিধবা নারীর বসত ঘর।

ঝড়ের সময় একটি নারকেল গাছ ঘরের উপর পড়লে দৌঁড়ে বের হওয়ার সময় বাম হাতে প্রচণ্ড ব্যাথাও পেয়েছেন তিনি। ঝড়ে ঘর বিধ্বস্ত হওয়া ছাড়াও বৃষ্টিতে ঘরের প্রায় সব মালামাল ও খাবার নষ্ট হয়ে যায়। সব হারিয়ে এখন তিনিঙ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই আর তার নেই।

ছোট ছোট ৪টি শিশুসন্তান রেখে অনেক আগেই মারা যান হোসনে আরার স্বামী। অন্যের বাড়িতে কাজ করে অনেক কষ্ট করে সংসার চলে তার। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় তার ঘরের উপর একটি নারকেল গাছ উপড়ে পড়ে।

হোসনে আরা বলেন, ভাঙ্গা ঘর আবার ঠিকঠাক  করবো, সেই টাকাও আমার কাছে নাই। গতকাল খবর পেয়ে একজন চাল, ডাল, তেল, লবণ ও কিছু টাকা দিয়ে গেছেন। তাছাড়া কোন সাহায্য সহযোগিতা পাই নাই। আমার এই ঘর মেরামত করার জন্য আমি সকলের নিকট সহযোগিতা কামনা করছি।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহিন বলেন, গ্রামের একপাশে হওয়ায় ঐ মহিলার বাড়ি কারো চোখে পরেনি। বিষয়টি আমি জানতে পেরে খোঁজ খবর নিয়েছি। ঐ মহিলাকে ঘর তোলার জন্য সহায়তা করা হবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিচুর রহমান বালী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। বল্লভদী ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশের সাথে কথা বলে যাচাই করে বিস্তারিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুরের সালথায় ভারি বর্ষণের মধ্যে মাত্র তিন মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে ২৫টি কৃষক পরিবারের অন্তত ৩০টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়। অসংখ্য গাছপালা ভেঙে যায়। বিদ্যুতের তাঁর ছিড়ে অন্ধকার হয়ে যায় গোটা গ্রাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের সোনাতুন্দী গ্রামে ভয়াবহ ঝড় হয়।

ট্যাগস :

ঘূর্ণিঝড়ে ঘর হারিয়ে পাগলপারা অসহায় বিধবা হোসনে আরা

আপডেট সময় : ১২:১৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৩

‘আমাগো থাকার ঘর ভাইঙ্গ্যা গ্যাছে। আর কোন উপায় নাই। এহন আমরা খোলা আকাশের নিচেই রাইত কাটাইতেছি।’ কথাগুলো বলছিলেন ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের সোনাতুন্দী চর পাড়া গ্রামের মৃত রায়েব আলী মোল্লার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৪৫)। গত বৃহস্পতিবারের বিরামহীন প্রবলবর্ষণের সময় আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এই বিধবা নারীর বসত ঘর।

ঝড়ের সময় একটি নারকেল গাছ ঘরের উপর পড়লে দৌঁড়ে বের হওয়ার সময় বাম হাতে প্রচণ্ড ব্যাথাও পেয়েছেন তিনি। ঝড়ে ঘর বিধ্বস্ত হওয়া ছাড়াও বৃষ্টিতে ঘরের প্রায় সব মালামাল ও খাবার নষ্ট হয়ে যায়। সব হারিয়ে এখন তিনিঙ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। মাথা গোঁজার ঠাঁই আর তার নেই।

ছোট ছোট ৪টি শিশুসন্তান রেখে অনেক আগেই মারা যান হোসনে আরার স্বামী। অন্যের বাড়িতে কাজ করে অনেক কষ্ট করে সংসার চলে তার। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘূর্ণিঝড়ের সময় তার ঘরের উপর একটি নারকেল গাছ উপড়ে পড়ে।

হোসনে আরা বলেন, ভাঙ্গা ঘর আবার ঠিকঠাক  করবো, সেই টাকাও আমার কাছে নাই। গতকাল খবর পেয়ে একজন চাল, ডাল, তেল, লবণ ও কিছু টাকা দিয়ে গেছেন। তাছাড়া কোন সাহায্য সহযোগিতা পাই নাই। আমার এই ঘর মেরামত করার জন্য আমি সকলের নিকট সহযোগিতা কামনা করছি।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহিন বলেন, গ্রামের একপাশে হওয়ায় ঐ মহিলার বাড়ি কারো চোখে পরেনি। বিষয়টি আমি জানতে পেরে খোঁজ খবর নিয়েছি। ঐ মহিলাকে ঘর তোলার জন্য সহায়তা করা হবে।

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনিচুর রহমান বালী বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। বল্লভদী ইউপি চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশের সাথে কথা বলে যাচাই করে বিস্তারিত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ফরিদপুরের সালথায় ভারি বর্ষণের মধ্যে মাত্র তিন মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে ২৫টি কৃষক পরিবারের অন্তত ৩০টি বসতঘর বিধ্বস্ত হয়। অসংখ্য গাছপালা ভেঙে যায়। বিদ্যুতের তাঁর ছিড়ে অন্ধকার হয়ে যায় গোটা গ্রাম। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের সোনাতুন্দী গ্রামে ভয়াবহ ঝড় হয়।