টুনটুনি সংসার-নাদিয়া নওশাদ
- আপডেট সময় : ০৭:০৩:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩
- / 569
রেবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের
সমাজবিজ্ঞান বিভাগে মাস্টার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষার্থী। পড়াশোনায় যেমন মেধাবী দেখতেও তেমনি সুন্দরী। রেবার বাবা আশফাকুল চৌধুরী একজন ব্যবসায়ী। এলাকায় মোটামুটি একটা পরিচিতি আছে। পাশাপাশি অল্প বিস্তর সমাজসেবাও করে থাকেন। রেবার মা রেহানা একজন গৃহিণী।
রেবার বিষয়ের ফিল্ডওয়ার্ক তথা মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম করার জন্য একটা এনজিওতে রেবা ভিজিট করতে যায়। সেই এনজিওতে সায়ন ইসলাম প্রকল্প ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। প্রথম দেখাতেই সায়ন রেবার প্রেমে পড়ে যায়।
ফিল্ডওয়ার্কের জন্য প্রায়শই রেবা আর সায়নের দেখা-সাক্ষাত হতে থাকে। ধীরে ধীরে দুজনের মধ্যে পরস্পরকে ভালোলাগা,ভালোবাসা ঘটতে থাকে। সায়ন ও রেবা উভয়ই তাদের পরিবারের একমাত্র সন্তান। সায়নের বাবা আজ এ পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে গিয়েছেন তা প্রায় পাঁচ বছর কেটে গিয়েছে। সংসারে সদস্য বলতে শুধু সায়ন আর তার মা কাবেরী ইসলাম।
রেবার অধ্যয়নের পাঠ চুকে গিয়েছে। রেবা বিদ্যাপীঠ স্কুলের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষিকা। বাড়ি থেকে বাবা-মায়ের চাপ বিয়ে করতে হবে। পাত্রের খোঁজ চলছে জোরেসোরে! রেবা সায়নের সাথে তার প্রণয় সম্পর্কের কথা বাড়িতে জানায়।
সব শুনে আশফাকুল ইসলামের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।
মেয়ের বিয়ে নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ছিল। শত হলেও রেবা তাঁর একমাত্র সন্তান। সায়ন সম্পর্কে রেবার কাছ থেকে শুনে তিনি সায়নের সাথে দেখা করতে সায়নকে তাঁর বাড়িতে চায়ের নিমন্ত্রণ করলেন।
নির্ধারিত দিনে সায়ন তার মা কাবেরী ইসলামকে নিয়ে রেবাদের বাড়িতে এলো। আশফাকুল সাহেব রেবা ও সায়নের বিয়েতে আপত্তি জানিয়ে বিয়েটা নাকচ করে দিলেন। এই আঘাত কাবেরী সহ্য করতে পারলেন না। সায়নের বাবা রফিকুল ইসলাম তাঁদের ছেড়ে যাওয়ার পর প্রাইভেট টিউশনি ও হাল্কা-পাতলা নকশী কাঁথা বুনে বুনে অনেক কষ্টে তিনি সায়নকে মানুষ করেছেন। এর কয়েকদিন পর হার্ট অ্যাটাক করে তিনি ‘না ফেরার দেশ’ এ চলে গেলেন। সায়ন একদম একা হয়ে গেল।
এদিকে আশফাকুল ইসলাম তাঁর পরিচিত লোকজন দিয়ে সায়নের বিরুদ্ধে চুরির একটা মিথ্যে মামলা দিয়ে দিলেন। রেবা তার পরিচিত এক পুলিশ বন্ধুর সাহায্যে উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে সায়নকে দায়মুক্ত করলো।এই দুঃসময়ে রেবা সায়নের পাশে থাকলো ছায়ার মতো। অতঃপর তারা দুজন পরস্পরকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিল। পরিবারের অমতে রেবা সায়নের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলো। সায়ন ও রেবা বাঁধল তাদের সুখের ‘টুনটুনি সংসার’।
দুজনে মিলে রোজগার করছে,দিন কাটছে ভালোই। বছর খানেক পর রেবার কোল আলো করে পৃথিবীর বুকে এলো রাদিফ ইসলাম। ডাক নাম টুকটুক।
এদিকে টুকটুকের
‘টুনটুনি সংসার’ এ আগমনের খবর পেয়ে তার নানুমণি টুকটুককে দেখার জন্য ছটফট করলেও নানাভাই কিন্ত তাঁর মেয়ে আর নাতির সাথে দেখা না করার সিদ্ধান্তে অটল। সেই যে রেবা তার বিয়ের সময় বাড়ি ছেড়ে এসেছে তারপর থেকে আশফাকুল চৌধুরী রেবার মুখ দেখেননি।
আজ প্রায় আট বছর হয়ে গেল। টুকটুককে নিয়ে সায়ন আর রেবার দিব্যি কেটে গেল। টুকটুক এখন
কিছুটা বোঝে মায়ের কাছে তার দাদা-দাদুর কথা সে জানতে পেরেছে কিন্ত মাকে নানা-নানুর কথা জিজ্ঞেস করলে মা তাকে অন্য কিছু একটা বলে কাটিয়ে দেয়।
দেখতে টুকটুক কিন্ত খুবই মিষ্টি। আপেলের মতো টুসটুসে গাল,মায়াভরা আদুরে চোখ। যে কেউ একবার দেখলে তাকে আদর না করে থাকতেই পারে না। এদিকে হঠাৎই একদিন আশফাকুল সাহেব স্ট্রোক করলেন। হসপিটালের আইসিউতে তাঁকে রাখা হলো। এ যাত্রায় ধাক্কা সামলে উঠলেও ডাক্তার তাঁকে কঠোর নিয়ম-কানুন মেনে চলতে বলেছেন।
রেহানা আর সইতে না পেরে রেবাকে বাবার অসুস্থতার কথা জানালেন। অবশেষে সায়ন আর টুকটুককে নিয়ে রেবা অনেকদিন পর বাবার বাড়ি এলো। টুকটুক ঠিকই দৌড়ে গিয়ে নানাভাই আর নানুমণিকে জড়িয়ে ধরলো। আবেগাপ্লুত হয়ে আশফাকুল সাহেব কেঁদে রেবা আর সায়নকে বললেন,”আমি তোমাদের সাথে অনেক অন্যায় করেছি। পারলে আমাকে ক্ষমা করে দিও।”
পরিশেষে রেবার অভিভাবকদ্বয় আর টুকটুককে নিয়ে পরিপূর্ণ হলো রেবা আর সায়নের
‘টুনটুনি সংসার’।






















