দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি গোপাল ভাঁড়ের বুদ্ধি
- আপডেট সময় : ০৮:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ মে ২০২৩
- / 762
আমাদের দেশে দিন দিন জিনিসপত্রের মূল এত এত দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে যে সাধারণ জনগণ হুমকির মুখে পড়ে যাচ্ছে। মানুষের মজুরি দিয়ে সংসার চালানো একপ্রকার যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এশিয়া দেশের মধ্যে সব থেকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে আমাদের বাংলাদেশে আমদের দেশে বিগত দুই বছর আগে নিত্যপণ্যেরে দাম যা ছিলো বর্তমানে তার দাম প্রায় তিন ডাবল হয়েছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে আমাদের দেশের করুণ পরিণতি হবে। বাজারে জিনিসপত্রের দামে সাথে পাল্লা দিয়ে তো জনগণ বেতন বৃদ্ধি পাচ্ছে না আগের বেতন এর চেয়ে এখন বেতন কিছুটা বেড়েছে তবে কিছুটার বেড়ে তো বাজারে নিত্যপণ্যেরে দাম তিন ডাবল বেড়ে যাওয়ার সাথে পারবে না এটাই স্বাভাবিক। আমাদের সরকার শুধু বলে আসছে মানুষ তো না খেয়ে নেই। মানুষ না খেয়ে না থাকলে ও মানুষ এখন সুখে নেই ইনকামের থেকে খরচ বেশি ধারদেনা হয়ে প্রতি মাসেই চলতে হচ্ছে। বাজারে গেলেই বুঝা যায় মানুষের হাহাকার এই বেশি দিনের আগে কথা না আটা সেইদিন ছিলো ৩০-৩৫ টাকা সেই আটা এখন বাজারে ৬০-৭০ টাকা শুধু আটা নয় এই রকম প্রতিটা নিত্যপণ্যেরে দাম এখন আকাশচুম্বী হয়ে যাচ্ছে। উচ্চ আয়ের মানুষের দিকে তাকিয়ে তো দ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ করিলে দেশের মানুষের ভোগান্তি হবে মানুষ হাহাকার করবে। স্বল্প আয়ের মানুষের জীবন বা বেঁচে থাকা হুমকির মূখে পড়ছে আমাদের উচিত স্বল্প আয়ের মানুষের দিকে তাকিয়ে দ্রব্যের মূল্য নির্ধারণ করা উচিত। একটা গার্মেন্টস শ্রমিক মাসে কত টাকা বেতন পায় ১০-১৫ হাজার তাও হয়তো অতিরিক্ত সময় কাজ করে ১৫ হাজার টাকা আয়ে করে এটা মধ্যে তার সারা-মাস চলতে হয় পরিবার কে চালাতে হয়। যাদের পরিবারের ছেলেমেয়ে আছে পড়াশোনা করে তাদের খরচ দিয়ে এই ১৫ হাজার টাকার মধ্যে চলতে হলে একপ্রকার যুদ্ধ করতে হয়।
আমাদের দেশে আটার মত সকল নিত্যপণ্যেরে দাম হইহই করে বৃদ্ধি পাচ্ছে চাল, ডাল, তেল, চিনি, আদা, রসুন, ডিম, মাছ, গরুর মাংস ইত্যাদি নিত্যপণ্যের দাম যেন মগডালে উঠেছে। দুই চার দিন আগে একটা জরিপে দেখলাম আমাদের দেশের থেকে কমে চিনি বিক্রি করছে এশিয়া দেউলিয়া রাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় ৮৮ টাকা করে চিনি বিক্রি হচ্ছে আমাদের পাশের দেশ ইন্ডিয়া কলকাতায় চিনির মূল্য ৫০ টাকা পাকিস্তানে প্রতি কেজি চিনির মূল্য ৫৮ টাকা আর আমাদের বাংলাদেশে চিনির মূল্য ১৩০-১৩৫ টাকা প্রতি কেজি। বাংলাদেশের প্রতিটা সেক্টরে এখন সিন্ডিকেট হচ্ছে এই কিছু দিন আগে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ালো মুরগী ব্যবসায়িকরা তিন থেকে চার মাস আগে প্রতি কেজি বয়লার মুরগী ১০০-১১০ টাকা কেজি ছিলো তার পরে হঠাৎ করে প্রায় ৩০০ টাকা হয়ে গেলো জনগণের হায়হায় করছে বলে সরকার বাজারে তৎপরতা বাড়িয়ে কিছুটা কমিয়েছেন কিন্তুু পূর্বে দামে প্রতি কেজি মুরগী দাম কী আবার ফিরেছে? আর কখনো ফিরবে না গরুর মাংস খাসির মাংস একই অবস্থা সব কিছুর হইহই করে দাম বেড়ে গেলো।
ডিজেল পেট্রোল সয়াবিন তেলের দাম হুট করে বাড়িয়ে দিলেন ডাবলের ও ডাবল কমেছে স্বাভাবিক কয়েক টাকা পূর্বের দামে আর ফিরে নাই। সরকার অজুহাত দিয়েছে বিশ্বে বাজারে সব কিছুর দাম বৃদ্ধি তাই আমাদের এখানে দাম বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছি। যখন দাম বিশ্বে বাজারে নিম্নমুখী তখন কি সেই হারে বাংলাদেশ দাম কমেছে? না কমে নাই কখনো আর সেই পৃর্বের দামে নিত্যপণ্যে কিনতে পারবেন না কারণ আমাদের দেশে আছে সিন্ডিকেট।
অনেক আগে গোপাল ভাঁড়ের একটা কাহিনি দেখেছিলাম কোনো একটা দোকানদার তার কাছে এসে বললেন গোপাল আমার দোকার খুব কষ্ট হচ্ছে গোপাল সব সময় অসহায়ের বন্ধু গোপাল যথারীতি বললেন কেনো দোকানি তোমার কেনো কষ্ট হচ্ছে? দোকানদার বলেন আমি যে রুটি বিক্রি করি সেটা এখন আর লাভ হচ্ছে না আমি রুটি দাম বৃদ্ধি করতে জনগণ রাজার কাছে বিচার দেয় আবার পৃর্বের দামে আমাকে ফেরত যেতে হয় না হলে রাজা আমাকে শাস্তি দিবেন। এখন আমি কি করি? গোপাল বলেন আচ্ছা তুমি রুটি কত টাকা বিক্রি করো? দোকানদার বললেন ২টাকা। কত টাকা বিক্রি করলে লাভ হবে দোকান করতে পারবা? ৫ টাকা বিক্রি করলে লাভ হবে। আচ্ছা দোকানি তুমি আজ থেকে রুটি বিক্রি শুরু করো ১৫ টাকায়। দোকানি শুনে বলে গোপাল তুমি এটা কি বললে এটা করলে তো রাজা আমাকে মৃত্যুদণ্ড দিবে। না দিবে না কিছু বলে তুমি আমার কথা বলবা রুটি গোপাল আমাকে বিক্রি করতে বলেছেন ১৫ টাকা করে। ঠিক আছে গোপাল আমি তাহলে আজ থেকে ১৫ টাকা বিক্রি করা শুরু করলাম।
যথারীতি দোকানি ১৫ টাকা করে রুটি বিক্রি শুরু করলো রাজার কাছে জনগন বিচার দিলো রাজার দোকানি কে ডাকলেন জিজ্ঞাসাবাদ করিলেন। দোকানি ও যথারীতি উত্তর দিলে গোপাল আমাকে ১৫ টাকা বিক্রি করতে বলছেন। রাজা সাহেব মন্ত্রীকে ডাকে বললেন মন্ত্রী গোপাল কে ডাকো এখনই কিছু ক্ষন পরে গোপাল এসে হাজির হলেন এসে বললেন জাহাপনা আপনি আমাকে ডেকেছেন? হ্যাঁ গোপাল তোমাকে ই ডেকেছি তুমি তাকে কোন সাহসে রুটি ১৫ টাকা বিক্রি করতে বলেছো? জাঁহাপনা একটা দোকানদার লস দিয়ে ব্যবসা করবেন?
না তিনি লস দিয়ে ব্যবসা করবেন কেনো? তাহলে এই দোকানি আপনার ভয়ে দীর্ঘদিন ধরে লস দিচ্ছে রুটিতে দাম বাড়িয়ে দিলে আপনি তাকে শাস্তি দিন। রুটির ১৫ টাকায় বিক্রি করছে আপনি ৫ টাকা কমিয়ে ১০ টাকা নির্ধারিত করে দিন জনগণ ও খুশি থাকবে দোকানি ও খুশি থাকবে। হ্যা গোপাল ভালো বুদ্ধি করেছো ঠিক আছে দোকানি তুমি এখন থেকে ১০ টাকা বিক্রি করবা রুটি ৫ টাকা কমাতে জনগন বিশাল খুশি হয়ে পড়লো রাজা রুটির দাম কমিয়ে দিয়েছেন আসলে কী রুটির দাম কমেছে না কমে নাই রুটির দাম যে হারে বাড়ার কথা তার থেকে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
আমাদের অবস্থা আজ কাল এমন হচ্ছে জিনিসপত্র দাম একধাপে বৃদ্ধি পেয়ে মগডালে উঠেছেন সেখান থেকে ২-৩ টাকা কমিয়ে দেয় আমাদের সরকার এটা ই প্রচার হয় আর আমার ও লাফালাফি করি এই তো দাম কমিয়ে দিয়েছেন। আগে চিনির দাম ছিলো ১০০-৯৫ টাকা একধাপে বেড় দাঁড়ায় ১৩৫-১৪০ টাকা সরকার কমিয়ে দেয় ৩ টাকা সয়াবিন তেল ১৮০ টাকা লিটার হয় সরকার কমিয়ে দেয় চার টাকা ১৭৬ টাকা করে বাজার মূল্য অথচ এই তেলের দাম ছিলো ৬০ টাকা প্রতি লিটার তেল। তাই আমরা বলতেই পারি বর্তমানে দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি গোপাল ভাঁড়ের বুদ্ধি।
























