ঢাকা ০৩:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিষিদ্ধপল্লীর ভাড়াই কাল হলো রবিনের

বিশেষ প্রতিনিধি ফরিদপুর
  • আপডেট সময় : ০৬:২২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুলাই ২০২৩
  • / 361

ফরিদপুরের সদরপুর থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে ফরিদপুরের পতিতাপল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা হয় নাঈম খান (৩০)। পথিমধ্যে চালক রবিনকে (২৩) কৌশলে ফরিদপুর পাঠিয়ে ১৫ হাজার টাকায় ওই অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেয়। এরপর রবিন তার অটো ফেরত চাইলে তাকে একটি মেহগনি বাগানের মধ্যে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডে থানায় মামলা দায়েরের পর তিনদিনের মধ্যেই পুলিশ হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে এবং খুনি ও তার সহযোগিকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার (১৯ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) শেখ মো: আব্দুল্লাহ বিন কালাম।
গ্রেফতার নাঈম সদরপুর উপজেলার মীরের ডাঙ্গী গ্রামের মোয়াজ্জেম খানের ছেলে। এই ঘটনায় ছিনতাই হওয়া রিকশাসহ তার সহযোগী হালিম সেখকেও আটক করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো: আব্দুল্লাহ বিন কালাম জানান, গত ১৫ই জুলাই বিকেলে কোতয়ালী থানার গজারিয়া পাটপাশা ব্রীজের নিকট মেহেগুনি বাগানে গলায় গামছা পেচানো রবিন মোল্লা (২৩) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রবিন সদরপুর উপজেলার চৌধুরীর ডাঙ্গী গ্রামের একলাছ মোল্লার ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো: আব্দুল্লাহ বিন কালাম জানান, বয়সে তারতম্য থাকলেও নাঈম ও রবিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিলো। গত শনিবার (১৫ জুলাই) সদরপুর থেকে রবিনের অটোরিকশায় তারা ফরিদপুরে রওনা হওয়ার পর পথিমধ্যে নাঈম রবিনকে বলে যে, ফরিদপুরে তার অটোরিকশা পুলিশে ধরতে পারে। একথায় রাজি করিয়ে সে নিরাপদে রেখে আসার কথা বলে রবিনের নিকট থেকে রিকশাটি নিয়ে যায়। আর সে পরে আসছে জানিয়ে রবিনকে ফরিদপুর চলে যেতে বলে।

এরমধ্যে নাঈম চরভদ্রাসনের গাবতলা মোড়ে যেয়ে মোবাইলে হালিমকে ডেকে এনে ১৫ হাজার টাকায় ওই অটোরিকশা বিক্রি করে দেয়। এরমধ্যে ১০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করে বাকি ৫ হাজার টাকা পরে দিবে বলে জানায়।
এদিকে অটোরিকশা বিক্রির টাকা নিয়ে নাঈম ফরিদপুর যেয়ে রবিনকে নিয়ে পতিতালয়ে যায়। সেখানে সময় কাটিয়ে বিকেলে তারা সেখান থেকে ফিরছিলো। এসময় রবিন তার অটোরিকশার কথা জানতে চাইলে তাকে পাটপাশা ব্রিজের পাশে মেহগনি বাগানে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে নাঈম।

এ ঘটনায় একলাছ মোল্লা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রবিনের রিকশাটি কেনার অপরাধে হালিম সেখ (৩৫) নামে আরেকজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বিভিন্ন মাধ্যমে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের সন্ধান লাভে সক্ষম হন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

ট্যাগস :

নিষিদ্ধপল্লীর ভাড়াই কাল হলো রবিনের

আপডেট সময় : ০৬:২২:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ জুলাই ২০২৩

ফরিদপুরের সদরপুর থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে ফরিদপুরের পতিতাপল্লীর উদ্দেশ্যে রওনা হয় নাঈম খান (৩০)। পথিমধ্যে চালক রবিনকে (২৩) কৌশলে ফরিদপুর পাঠিয়ে ১৫ হাজার টাকায় ওই অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেয়। এরপর রবিন তার অটো ফেরত চাইলে তাকে একটি মেহগনি বাগানের মধ্যে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডে থানায় মামলা দায়েরের পর তিনদিনের মধ্যেই পুলিশ হত্যা রহস্য উদঘাটন করেছে এবং খুনি ও তার সহযোগিকে গ্রেফতার করেছে।

বুধবার (১৯ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) শেখ মো: আব্দুল্লাহ বিন কালাম।
গ্রেফতার নাঈম সদরপুর উপজেলার মীরের ডাঙ্গী গ্রামের মোয়াজ্জেম খানের ছেলে। এই ঘটনায় ছিনতাই হওয়া রিকশাসহ তার সহযোগী হালিম সেখকেও আটক করা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো: আব্দুল্লাহ বিন কালাম জানান, গত ১৫ই জুলাই বিকেলে কোতয়ালী থানার গজারিয়া পাটপাশা ব্রীজের নিকট মেহেগুনি বাগানে গলায় গামছা পেচানো রবিন মোল্লা (২৩) নামে এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রবিন সদরপুর উপজেলার চৌধুরীর ডাঙ্গী গ্রামের একলাছ মোল্লার ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মো: আব্দুল্লাহ বিন কালাম জানান, বয়সে তারতম্য থাকলেও নাঈম ও রবিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিলো। গত শনিবার (১৫ জুলাই) সদরপুর থেকে রবিনের অটোরিকশায় তারা ফরিদপুরে রওনা হওয়ার পর পথিমধ্যে নাঈম রবিনকে বলে যে, ফরিদপুরে তার অটোরিকশা পুলিশে ধরতে পারে। একথায় রাজি করিয়ে সে নিরাপদে রেখে আসার কথা বলে রবিনের নিকট থেকে রিকশাটি নিয়ে যায়। আর সে পরে আসছে জানিয়ে রবিনকে ফরিদপুর চলে যেতে বলে।

এরমধ্যে নাঈম চরভদ্রাসনের গাবতলা মোড়ে যেয়ে মোবাইলে হালিমকে ডেকে এনে ১৫ হাজার টাকায় ওই অটোরিকশা বিক্রি করে দেয়। এরমধ্যে ১০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধ করে বাকি ৫ হাজার টাকা পরে দিবে বলে জানায়।
এদিকে অটোরিকশা বিক্রির টাকা নিয়ে নাঈম ফরিদপুর যেয়ে রবিনকে নিয়ে পতিতালয়ে যায়। সেখানে সময় কাটিয়ে বিকেলে তারা সেখান থেকে ফিরছিলো। এসময় রবিন তার অটোরিকশার কথা জানতে চাইলে তাকে পাটপাশা ব্রিজের পাশে মেহগনি বাগানে নিয়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে নাঈম।

এ ঘটনায় একলাছ মোল্লা বাদি হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে সদরপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রবিনের রিকশাটি কেনার অপরাধে হালিম সেখ (৩৫) নামে আরেকজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান বিভিন্ন মাধ্যমে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের সন্ধান লাভে সক্ষম হন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।