ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২৫, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে চাকু দিয়ে কুপিয়ে কলেজ ছাত্র হত্যা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩
  • / 544

ফরিদপুরে সড়ক বিভাজনের (রোড ডিভাইডার) উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলো কলেজ ছাত্রের মৃতদেহ। খবর পেয়ে আজ মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) সকালে আলীপুরে আলীমুজ্জামান ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা হতে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বন্ধুর বোনকে রক্ত দিতে রাতে বাসা থেকে বের হয়ে তিনি খুন হন বলে নিহতের পরিবার জানায়।

নিহত ওই ছাত্রের নাম প্রান্ত মিত্র (২৩)। সে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স (উদ্ভিদবিদ্যা) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম বিকাশ মিত্র। শহরের ওয়ারলেস পাড়ায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন প্রান্ত।

কোতয়ালী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামিম হাসান জানান, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আলীমুজ্জামান ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা থেকে একজন কলেজ ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে রাখা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, নিহতের শরীরে চাকুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কি কারণে এ হত্যাকান্ড এখনো জানা যায়নি। পুলিশ হত্যা রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, মৃতদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিহতের শরীরের আঘাতের বিষয়টি আরও ক্লিয়ার হবে এবং মৃত্যুর বিষয়টিও জানা যাবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হৃদয় নামে এক বন্ধু প্রান্তকে মোবাইলে ফোন দিয়ে বোনের সিজার অপারেশনের জন্য রক্ত লাগবে বলে জানায়। এরপর সে রক্ত দিতে যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়। তবে ভোর হয়ে গেলেও বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর সকালে স্থানীয়দের থেকে খবর শুনে ব্রীজের কাছে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তার মৃতদেহ দেখতে পান তারা।

জানা গেছে, প্রান্তর বাবা শহরের দীপ শিখা স্কুলে শিক্ষকতা করার সুবাদে দীর্ঘদিন ফরিদপুর শহরে বসবাস করছেন তারা। বিকাশ মিত্র এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। প্রান্ত বাবা মায়ের সাথে থাকতেন। প্রান্তর গ্রামের বাড়ী রাজবাড়ী জেলার পাচুরিয়া গ্রামে।

রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসীম কুমার সাহা বলেন, প্রান্ত রাজেন্দ্র কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ হত্যার ঘটনায় আমরা মর্মাহত।

তিনি বলেন, ফরিদপুর একটি নিরিবিলি ও শান্ত জনপদ। সেখানে এ রকম একটি হত্যাকান্ড খুুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা এ হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাচ্ছি। পুলিশ অতিদ্রুত এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনবেন বলে আশা করছি।

রিপোর্ট লেখার সময় এব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা চলছে।

ট্যাগস :

ফরিদপুরে চাকু দিয়ে কুপিয়ে কলেজ ছাত্র হত্যা

আপডেট সময় : ০৫:২৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জুলাই ২০২৩

ফরিদপুরে সড়ক বিভাজনের (রোড ডিভাইডার) উপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলো কলেজ ছাত্রের মৃতদেহ। খবর পেয়ে আজ মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) সকালে আলীপুরে আলীমুজ্জামান ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা হতে তার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বন্ধুর বোনকে রক্ত দিতে রাতে বাসা থেকে বের হয়ে তিনি খুন হন বলে নিহতের পরিবার জানায়।

নিহত ওই ছাত্রের নাম প্রান্ত মিত্র (২৩)। সে সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের অনার্স (উদ্ভিদবিদ্যা) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাবার নাম বিকাশ মিত্র। শহরের ওয়ারলেস পাড়ায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন প্রান্ত।

কোতয়ালী থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামিম হাসান জানান, মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আলীমুজ্জামান ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা থেকে একজন কলেজ ছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে রাখা হয়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, নিহতের শরীরে চাকুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কি কারণে এ হত্যাকান্ড এখনো জানা যায়নি। পুলিশ হত্যা রহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে। তিনি বলেন, মৃতদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিহতের শরীরের আঘাতের বিষয়টি আরও ক্লিয়ার হবে এবং মৃত্যুর বিষয়টিও জানা যাবে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে হৃদয় নামে এক বন্ধু প্রান্তকে মোবাইলে ফোন দিয়ে বোনের সিজার অপারেশনের জন্য রক্ত লাগবে বলে জানায়। এরপর সে রক্ত দিতে যাবে বলে বাসা থেকে বের হয়। তবে ভোর হয়ে গেলেও বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর সকালে স্থানীয়দের থেকে খবর শুনে ব্রীজের কাছে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। পরে তার মৃতদেহ দেখতে পান তারা।

জানা গেছে, প্রান্তর বাবা শহরের দীপ শিখা স্কুলে শিক্ষকতা করার সুবাদে দীর্ঘদিন ফরিদপুর শহরে বসবাস করছেন তারা। বিকাশ মিত্র এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। প্রান্ত বাবা মায়ের সাথে থাকতেন। প্রান্তর গ্রামের বাড়ী রাজবাড়ী জেলার পাচুরিয়া গ্রামে।

রাজেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর অসীম কুমার সাহা বলেন, প্রান্ত রাজেন্দ্র কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ হত্যার ঘটনায় আমরা মর্মাহত।

তিনি বলেন, ফরিদপুর একটি নিরিবিলি ও শান্ত জনপদ। সেখানে এ রকম একটি হত্যাকান্ড খুুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। আমরা এ হত্যাকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাচ্ছি। পুলিশ অতিদ্রুত এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনবেন বলে আশা করছি।

রিপোর্ট লেখার সময় এব্যাপারে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা চলছে।