ফরিদপুরে দাওয়াত না দেওয়ায় বিয়ে বাড়িতে হামলা, জেলা পরিষদ সদস্যসহ তিনজন আহত
- আপডেট সময় : ০৯:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৩
- / 286
সদরপুর( ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করে
বিয়ে বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় জেলা পরিষদ সদস্য, কনের বাবা ও খালুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব শৈলডুবি গ্রামে নয় নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফের নাতনির বিয়ে উপলক্ষে দুপুরে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা
হয়। এই সময় দুপুর ২টার দিকে ওই বাড়িতে আট-দশজন ব্যাক্তি দেশীয় অস্ত্রনিয়ে অতির্কিতে হামলা চালায়।
এ হামলায় আহত হন জেলা পরিষদ সদস্য পূর্ব শৈলডুবি গ্রামের বাসিন্দা এখলাস আলী ফকির (৪৫), কনের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফের ছেলে বাবুল মাতুব্বর (৫৫) ও কনের খালু
বেলায়েত হোসেন (৫৩)।
আহত এখলাস আলী ফকিরকে প্রথমে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য
কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়। তবে
কনের বাবা বাবুল মাতুব্বর ও কনের খালু বেলায়েত হোসেনকে কোথায় ভর্তি করা হয়েছে এ ব্যাপারে কোন তথ্য দিতে পারে নি পুলিশ।
এলাকাবাসী ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক
ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফের বাড়িতে তার নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। ওই অনুষ্ঠানে পাশের যাত্রাবাড়ী গ্রামের কাউকে দাওয়াত
দেওয়া হয়নি। এনিয়ে যাত্রাবড়ী গ্রামের লোকদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল।
এরই বহিপ্রকাশ ঘটে যাত্রাবড়ী লোকদের এ হামলার মধ্যে দিয়ে।
ওই এলাকার বাসিন্দারা জানায়, স্থানীয় অধিপত্য নিয়ে কৃষ্ণপুর
ইউনিয়নে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামানের সাথে
সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকিরের বিরোধ চলে আসছিল।
এই বিরোধে এখলাস আকতারুজ্জামানের সমর্থক ছিলেন। কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান বলেন, এখলাস ফকির তার সমর্থক। তিনি তিনটি ইট ভাটার মালিক। দুর্বিত্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। কিন্তু তিনি চাঁদা না দেওয়ায় তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তিনি বলেন, যারা এখলাসের উপর হামলা করেছে তারা সকলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকিরের সমর্থক। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকির বলেন, তিনি বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন পারিবারিক এক অনুষ্ঠানে। তবে তিনি শুনতে পেরেছেন পূর্ব শৈলডুবি গ্রামে কুপিয়ে জখম করার একটি
ঘটনা ঘটেছে। চেয়ারম্যানের লোকজন জরিত থাকার অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, আমার লোকজন ওখানে যাবে কেন,
আমার লোকজন এ ঘটনার সাথে জড়িত নয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোপলদার বলেন, বিয়ের অনুষ্ঠানে পাশের যাত্রবাড়ীর লোকদের দাওয়াত না দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, হামলার সময় বরপক্ষ খাওয়া দাওয়া করছিল। হামলার পর তারা দ্রæত কনে নিয়ে চলে যায়। তিনি বলেন, এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
























