ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর সদরে মোশাররফ আউট শামীম হক ইন

হারুন আনসারী, ফরিদপুর
  • আপডেট সময় : ০৮:২৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৩
  • / 208

ফরিদপুর জেলার চারটি আসনের প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক। এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছিলেন ১১ জনের মতো প্রার্থী। এদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষেও একটি দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল তার সমর্থক। আর গত কয়েকদিন ধরে সারা জেলাজুড়ে এ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা চলছিল কে হচ্ছেন জেলা সদরের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত এমপি প্রার্থী। তবে নানা সূত্র হতে শামীম হকের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে দাবি করলেও অপেক্ষা ছিল ঘোষণার।

রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে আয়েজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৯৮ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এতে ফরিদপুর জেলার চারটি আসনের প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়।

এদের মধ্যে বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান, নগরকান্দ ও সালথা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনে উপনির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী এবং ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বলে ঘোষণা দেয়া হয়।
এর মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনেও জেলা সদরের মতোই বিপুলসংখ্যক প্রার্থী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ১৭ জন প্রার্থী।

অন্যদিকে, বিএনপি ছেড়ে সম্প্রতি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দল পাল্টান সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো: আবু জাফর। বিএনপি ছেড়ে তিনি যোগ দেন ‘কিংস পার্টি’ খ্যাত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট (বিএনএম) বা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে। দলটিতে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন। ফরিদপুর-১ আসনে তিনি আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে প্রার্থী হতে পারেন বলে অনেকে ধারনা করছিলেন। এছাড়া এ আসনটিতে শাহ জাফরকে জিতিয়ে আনতে আওয়ামী লীগ অপেক্ষাকৃত দূর্বল প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে পারে বলেও খবরে প্রকাশ হয়েছিল।

ফরিদপুর-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বর্তমানে দেশ ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তিনি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে ঘোষণা দিলেও তাকে নিয়েও শেষ মুহূর্তে চলে নানা জল্পনা। তবে গত কয়েকদিন ধরেই মুখে মুখে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শামীম হকের নাম শোনা যাচ্ছিল।

অন্যদিকে, ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দাবিদারদের অন্যতম একজন ছিলেন এ আসনের বর্তমান স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী। তার সমর্থক শিবির থেকেও মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে নানা উড়ো খবর চালাচালি করা হচ্ছিল। অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটে রোববার বিকেলে। অবশ্য বিএনপি নির্বাচনে না এলে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে কারা নির্বাচনের মাঠে আসতে পারেন এখন নতুন করে সেই আলোচনারই সূচনা হয়েছে।

ট্যাগস :

ফরিদপুর সদরে মোশাররফ আউট শামীম হক ইন

আপডেট সময় : ০৮:২৪:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৩

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হক। এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়েছিলেন ১১ জনের মতো প্রার্থী। এদের মধ্যে বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষেও একটি দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিল তার সমর্থক। আর গত কয়েকদিন ধরে সারা জেলাজুড়ে এ নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনা চলছিল কে হচ্ছেন জেলা সদরের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ আসনের আওয়ামী লীগ মনোনীত এমপি প্রার্থী। তবে নানা সূত্র হতে শামীম হকের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গেছে বলে দাবি করলেও অপেক্ষা ছিল ঘোষণার।

রোববার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে ২৩ বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত দলীয় কার্যালয়ে আয়েজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৯৮ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এতে ফরিদপুর জেলার চারটি আসনের প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়।

এদের মধ্যে বোয়ালমারী, মধুখালী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্দুর রহমান, নগরকান্দ ও সালথা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-২ আসনে উপনির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্য শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী এবং ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বলে ঘোষণা দেয়া হয়।
এর মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনেও জেলা সদরের মতোই বিপুলসংখ্যক প্রার্থী আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জমা দেন। এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ১৭ জন প্রার্থী।

অন্যদিকে, বিএনপি ছেড়ে সম্প্রতি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দল পাল্টান সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো: আবু জাফর। বিএনপি ছেড়ে তিনি যোগ দেন ‘কিংস পার্টি’ খ্যাত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট মুভমেন্ট (বিএনএম) বা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে। দলটিতে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন। ফরিদপুর-১ আসনে তিনি আওয়ামী লীগের সাথে জোটবদ্ধ হয়ে প্রার্থী হতে পারেন বলে অনেকে ধারনা করছিলেন। এছাড়া এ আসনটিতে শাহ জাফরকে জিতিয়ে আনতে আওয়ামী লীগ অপেক্ষাকৃত দূর্বল প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে পারে বলেও খবরে প্রকাশ হয়েছিল।

ফরিদপুর-৩ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বর্তমানে দেশ ছেড়ে সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তিনি নিজে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলে ঘোষণা দিলেও তাকে নিয়েও শেষ মুহূর্তে চলে নানা জল্পনা। তবে গত কয়েকদিন ধরেই মুখে মুখে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শামীম হকের নাম শোনা যাচ্ছিল।

অন্যদিকে, ফরিদপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দাবিদারদের অন্যতম একজন ছিলেন এ আসনের বর্তমান স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত এমপি মজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী। তার সমর্থক শিবির থেকেও মনোনয়ন প্রাপ্তির ব্যাপারে নানা উড়ো খবর চালাচালি করা হচ্ছিল। অবশেষে সব জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটে রোববার বিকেলে। অবশ্য বিএনপি নির্বাচনে না এলে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে কারা নির্বাচনের মাঠে আসতে পারেন এখন নতুন করে সেই আলোচনারই সূচনা হয়েছে।