ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বর্তমান পাঠ্যক্রম

জাকিয়া সুলতানা শিল্পী
  • আপডেট সময় : ১২:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৩
  • / 707

বর্তমান শিক্ষাক্রম সম্পর্কে গভীর ভাবে ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।

কিছু ইতিহাস, কিছু নামকরা মানুষ কি করে গেছেন, কিভাবে করে গেছেন সেগুলো ঠোটস্ত করে মুখে ফেনা তুললেই শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়ে যায় না। দিন বদলেছে, সময় পাল্টেছে তা-ই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির ও পরিবর্তন হওয়া উচিত।

আল্লাহ সবাইকে সঠিক বোঝার তৌফিক দান করুন।ছুম্মা আমীন।

সমাজ আগে যেভাবে ফুলে-ফসলে সজ্জিত ছিল আজ আর তা নেই।সে-ই পুরনো সমাজকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার জন্যই শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্যই সরকারের এমন প্রচেষ্টা। সে চেষ্টা সফল হবে,সার্বিক দিক থেকে বাচ্চাদের ব্রয়লার খাইয়ে ব্রয়লার তৈরি না করে, নিয়মের উপর শ্রদ্ধা রেখে শিক্ষকদেরকে সঠিক ভাবে পাঠদান করতে সমাজের সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ও সহযোগী মনোভাব থাকলে।

অবশ্যই বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে বর্তমান পাঠ্যক্রম সর্বোত্তম পদ্ধতি।
বর্তমান পরিস্থিতি বা আগামী পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সঠিক শিক্ষাক্রম।

শিক্ষা সফর আমাদের বিদ্যালয়ের আওতাধীন।বইতে শিক্ষণীয় স্থান গুলো সরজমিনে বাচ্চাদের দেখিয়ে সঠিক শিক্ষা দেওয়া সকলের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পরে। সেক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষ তো ব্যবস্থা করতে পারেই।কিন্তু তার সাথে আমাদের অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রাইভেট স্কুল গুলোর কথা বাদ দেই।

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ।এ দেশের উন্নয়ন করতে হলে সর্বপ্রথম কৃষকদের উন্নয়ন করতে হবে। তারপর দেশের শিক্ষাব্যবস্থা।
দেশ উন্নয়নের জন্য এ দুটির কোন বিকল্প নেই।

কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষকবৃন্দ অবহেলিত। পাঠ্যক্রমের সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠদান করতে যে সময় ও শ্রম প্রয়োজন সেটা দিতে পারে না। কেননা, জীবন বাঁচাতে তাদের শিক্ষকতার পাশাপাশি অন্য কোন উপায় অবলম্বন করে আয় করার দুশ্চিন্তা তাদেরকে তাড়িয়ে বেড়ায়।তা-ই বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান পাঠদান খুবই দুরহ ব্যাপার।

কৃষিকাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সরকার বর্তমান যে পাঠ্যক্রম চালু করেছেন, সেটা নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। কিন্তু গাছের গোড়া কেটে যেমন আগায় পানি দিয়ে গাছকে বাঁচিয়ে রাখা যায় না, তেমনি শিক্ষকদের না বাঁচিয়ে বর্তমান পাঠ্যক্রম ফলপ্রসূ হওয়া সম্ভব না।

উদাহরণ হিসেবে বলবো, বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালে অক্টোবর মাসে চীনের একটি সম্মেলনে যোগ দেন।১৯৫৪ সালে এই ভ্রমণের উপর “আমার দেখা নয়াচীন” বইটি লেখেন।২০২০ সাথে সেটা বই আকারে ছাপা হয়।এই বইটির দুটো বার্তা তিনি সেই সময়ে উপলব্ধি করেছিলেন। কতোটা বিচক্ষণ আর কতোটা দূরদর্শী ভাবনা থাকলে, এমনটা উপলব্ধি করা যায়।
সেটা সত্যিই ভাবনার ও বাইরে।

বার্তা দুটি ছিল এরকম…..

১।কোন এক দোকানী বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নের উত্তরে বলেন,”আমাদের দেশের জনগণ বিদেশী মাল খুব কম কেনে।দেশী মাল থাকলে বিদেশী মাল কিনতে চায় না। যদি দাম একটু বেশিও দিতে হয়।

২।জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে না, কারণ জনসাধারণ খুব সজাগ হয়ে উঠেছে। যদি কেউ একটু বেশি দাম নেয়,তবে তার আর উপায় নেই!ছেলে বাপকে ধরিয়ে দিয়েছে, স্ত্রী স্বামীকে ধরিয়ে দিয়েছে, এরকম বহু ঘটনা নয়াচীন সরকার কায়েম হওয়ার পরে হয়েছে।

এবার কথা হলো : আপনি, আমি কি পারবো, এরকম দেশ তৈরি করতে?
সম্ভব নয়।

সেটা করতে হলে এ-ই ছোট থেকেই বাচ্চাদের সঠিক বিকাশ ঘটাতে হবে। সত্য ও সুন্দর তাদের দেখাতে, বলাতে এবং করাতে হবে। আর সেটা প্রকৃতি থেকেই সম্ভব।

আর তার জন্য দরকার অভিভাবক, শিক্ষকদের সহানুভূতিপূর্ণ সহায়তা।

হোক না আরেকটা বিস্ফোরণ!
রুচির দুর্ভিক্ষ থেকে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

আর এর জন্যই বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের জন্য হাতে-কলমে পড়ার পাশাপাশি কাজে উৎসাহিত করণ।

পড়াশোনা আগের থেকে কমেনি বরং বেড়েছে। আসলে পড়াশোনায় যারা সিরিয়াস তারাই সামনে এগিয়ে যাবে।আর এই সিরিয়াসনেস পরিবার থেকেই হতে হবে।

হয়তো ব্যাগভর্তি বই পিঠে ঝুলিয়ে মেরুদণ্ড বাঁকা করে এক বোঝা বই বাচ্চারা নিচ্ছে না।অসুস্থ ও হচ্ছে না। বই পড়ার প্রতি অতোটা চাপ অনুভব করছে না।কিন্তু তারা পড়ার পাশাপাশি হাতে-কলমে যে কাজ গুলো শিখবে সেগুলো আগের পড়া মুখস্থ করার চাইতে কোন অংশে কম নয়।বরং পড়াকে কাজে লাগানোর দীর্ঘস্থায়ী কৌশল। খুব ছোট থেকেই বাচ্চারা তাদের মেধা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ জীবনের মাধ্যমে জড়িয়ে যাবে। এখানে সার্বজনীনভাবে সমাজের সব স্তরের ছেলেমেয়েরা একই আঙ্গিকে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।

আর একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে, সঠিক নির্দেশনা দেয়া।পাঠ্যক্রম অনুযায়ী।
নইলে হ-য-ব-র-ল।

ট্যাগস :

বর্তমান পাঠ্যক্রম

আপডেট সময় : ১২:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৩

বর্তমান শিক্ষাক্রম সম্পর্কে গভীর ভাবে ভেবে দেখার জন্য অনুরোধ করছি।

কিছু ইতিহাস, কিছু নামকরা মানুষ কি করে গেছেন, কিভাবে করে গেছেন সেগুলো ঠোটস্ত করে মুখে ফেনা তুললেই শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়ে যায় না। দিন বদলেছে, সময় পাল্টেছে তা-ই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির ও পরিবর্তন হওয়া উচিত।

আল্লাহ সবাইকে সঠিক বোঝার তৌফিক দান করুন।ছুম্মা আমীন।

সমাজ আগে যেভাবে ফুলে-ফসলে সজ্জিত ছিল আজ আর তা নেই।সে-ই পুরনো সমাজকে নতুন করে ফিরিয়ে আনার জন্যই শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দিয়ে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার জন্যই সরকারের এমন প্রচেষ্টা। সে চেষ্টা সফল হবে,সার্বিক দিক থেকে বাচ্চাদের ব্রয়লার খাইয়ে ব্রয়লার তৈরি না করে, নিয়মের উপর শ্রদ্ধা রেখে শিক্ষকদেরকে সঠিক ভাবে পাঠদান করতে সমাজের সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা পূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ও সহযোগী মনোভাব থাকলে।

অবশ্যই বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে বর্তমান পাঠ্যক্রম সর্বোত্তম পদ্ধতি।
বর্তমান পরিস্থিতি বা আগামী পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য সঠিক শিক্ষাক্রম।

শিক্ষা সফর আমাদের বিদ্যালয়ের আওতাধীন।বইতে শিক্ষণীয় স্থান গুলো সরজমিনে বাচ্চাদের দেখিয়ে সঠিক শিক্ষা দেওয়া সকলের নৈতিক দায়িত্বের মধ্যেই পরে। সেক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষ তো ব্যবস্থা করতে পারেই।কিন্তু তার সাথে আমাদের অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে। প্রাইভেট স্কুল গুলোর কথা বাদ দেই।

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ।এ দেশের উন্নয়ন করতে হলে সর্বপ্রথম কৃষকদের উন্নয়ন করতে হবে। তারপর দেশের শিক্ষাব্যবস্থা।
দেশ উন্নয়নের জন্য এ দুটির কোন বিকল্প নেই।

কিন্তু আমাদের দেশের শিক্ষকবৃন্দ অবহেলিত। পাঠ্যক্রমের সঠিক নির্দেশনা অনুযায়ী পাঠদান করতে যে সময় ও শ্রম প্রয়োজন সেটা দিতে পারে না। কেননা, জীবন বাঁচাতে তাদের শিক্ষকতার পাশাপাশি অন্য কোন উপায় অবলম্বন করে আয় করার দুশ্চিন্তা তাদেরকে তাড়িয়ে বেড়ায়।তা-ই বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান পাঠদান খুবই দুরহ ব্যাপার।

কৃষিকাজসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য সরকার বর্তমান যে পাঠ্যক্রম চালু করেছেন, সেটা নি:সন্দেহে প্রশংসার দাবীদার। কিন্তু গাছের গোড়া কেটে যেমন আগায় পানি দিয়ে গাছকে বাঁচিয়ে রাখা যায় না, তেমনি শিক্ষকদের না বাঁচিয়ে বর্তমান পাঠ্যক্রম ফলপ্রসূ হওয়া সম্ভব না।

উদাহরণ হিসেবে বলবো, বঙ্গবন্ধু ১৯৫২ সালে অক্টোবর মাসে চীনের একটি সম্মেলনে যোগ দেন।১৯৫৪ সালে এই ভ্রমণের উপর “আমার দেখা নয়াচীন” বইটি লেখেন।২০২০ সাথে সেটা বই আকারে ছাপা হয়।এই বইটির দুটো বার্তা তিনি সেই সময়ে উপলব্ধি করেছিলেন। কতোটা বিচক্ষণ আর কতোটা দূরদর্শী ভাবনা থাকলে, এমনটা উপলব্ধি করা যায়।
সেটা সত্যিই ভাবনার ও বাইরে।

বার্তা দুটি ছিল এরকম…..

১।কোন এক দোকানী বঙ্গবন্ধুর প্রশ্নের উত্তরে বলেন,”আমাদের দেশের জনগণ বিদেশী মাল খুব কম কেনে।দেশী মাল থাকলে বিদেশী মাল কিনতে চায় না। যদি দাম একটু বেশিও দিতে হয়।

২।জিনিসপত্রের দাম বাড়তে পারে না, কারণ জনসাধারণ খুব সজাগ হয়ে উঠেছে। যদি কেউ একটু বেশি দাম নেয়,তবে তার আর উপায় নেই!ছেলে বাপকে ধরিয়ে দিয়েছে, স্ত্রী স্বামীকে ধরিয়ে দিয়েছে, এরকম বহু ঘটনা নয়াচীন সরকার কায়েম হওয়ার পরে হয়েছে।

এবার কথা হলো : আপনি, আমি কি পারবো, এরকম দেশ তৈরি করতে?
সম্ভব নয়।

সেটা করতে হলে এ-ই ছোট থেকেই বাচ্চাদের সঠিক বিকাশ ঘটাতে হবে। সত্য ও সুন্দর তাদের দেখাতে, বলাতে এবং করাতে হবে। আর সেটা প্রকৃতি থেকেই সম্ভব।

আর তার জন্য দরকার অভিভাবক, শিক্ষকদের সহানুভূতিপূর্ণ সহায়তা।

হোক না আরেকটা বিস্ফোরণ!
রুচির দুর্ভিক্ষ থেকে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।

আর এর জন্যই বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের জন্য হাতে-কলমে পড়ার পাশাপাশি কাজে উৎসাহিত করণ।

পড়াশোনা আগের থেকে কমেনি বরং বেড়েছে। আসলে পড়াশোনায় যারা সিরিয়াস তারাই সামনে এগিয়ে যাবে।আর এই সিরিয়াসনেস পরিবার থেকেই হতে হবে।

হয়তো ব্যাগভর্তি বই পিঠে ঝুলিয়ে মেরুদণ্ড বাঁকা করে এক বোঝা বই বাচ্চারা নিচ্ছে না।অসুস্থ ও হচ্ছে না। বই পড়ার প্রতি অতোটা চাপ অনুভব করছে না।কিন্তু তারা পড়ার পাশাপাশি হাতে-কলমে যে কাজ গুলো শিখবে সেগুলো আগের পড়া মুখস্থ করার চাইতে কোন অংশে কম নয়।বরং পড়াকে কাজে লাগানোর দীর্ঘস্থায়ী কৌশল। খুব ছোট থেকেই বাচ্চারা তাদের মেধা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ জীবনের মাধ্যমে জড়িয়ে যাবে। এখানে সার্বজনীনভাবে সমাজের সব স্তরের ছেলেমেয়েরা একই আঙ্গিকে পড়াশোনা করার সুযোগ পাবে।

আর একটা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হচ্ছে, সঠিক নির্দেশনা দেয়া।পাঠ্যক্রম অনুযায়ী।
নইলে হ-য-ব-র-ল।