বিমানে ঘটছে অঘটন, সিলেটে জীবন্ত আরোহন, হিথ্রোতে মৃত্যু অবস্থায় অবতরন করলেন এক যাত্রী !
- আপডেট সময় : ০৫:১২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৩
- / 225
বিমানে ঘটছে অঘটন। নিত্য এ ঘটনা এখন আলোচিত নতুন দুইটি ঘটনায়। ‘আকাশে শান্তির নীড়’ বিমানের এ স্লোগান কতটা অন্ত:সার শূন্য এ দুটি ঘটনাই তার প্রমান, এমনটি মনে করছেন সচেতন মহল। তারা বলছেন, বিমানের সেবা মান আচরণ সবকিছুই এখন লাঠে উঠেছে, ভরসা করার মতো অবশিষ্ট কিছু নেই, সেকারনে বর্হিগমনে বিমান এড়িয়ে চলাই উত্তম।
বিমান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিনা অধিকারে গত ৬ নভেম্বর ফিরিয়ে কানাডাগামী সিলেটের ৪২ যাত্রীকে। এরমধ্যেই বিমানের চলমান ফ্লাইটে মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো এক যাত্রীর। ওই যাত্রীর জন্য ফ্লাইটের পাইলট মেডিকেল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে অবতরণের কোনো পদক্ষেপই নেননি। গেল ১২ নভেম্বর এই ঘটনা ঘটে। সিলেট থেকে জীবন্ত এই যাত্রী ফ্লাইটে উঠলেও মৃত্যু অবস্থায় অবতরণ করলেন যুক্তরাজ্যের হিথ্রো বিমানবন্দরে। হতভাগা এ যাত্রীর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বৃটিশ নাগরিক শুয়াইবুর রহমান চৌধুরী।
গত রোববার সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যের পথে রওয়ান হন তিনি। ওই ফ্লাইটে ওঠার আড়াই ঘণ্টা পর অসুস্থ হন শুয়াইবুর । পরে তাকে মৃত হিসেবে প্রাথমিকভাবে ঘোষণা করেন ওই ফ্লাইট সংশ্লিষ্টরা। ফ্লাইট লগেও উল্লেখ আছে বিষয়টি। তবে ফ্লাইটের পাইলট ওই ব্যক্তির জন্য মেডিকেল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে অবতরণের কোনো পদক্ষেপই নেননি। তিনি ফ্লাইট চলমান রেখে এ রকম ঘটনার আনুমানিক ৯ ঘণ্টা পর বিমানটি বিকাল ৪টা ১৬ মিনিটে (জিএমটি) হিথ্রো বিমানবন্দরে অবতরণ করান। আর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের ১১ ঘণ্টা ৩৭ মিনিট পর ফ্লাইটটি হিথ্রো বিমানবন্দরে পৌঁছায়।
কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী, কোনো যাত্রী যখন রানিং বিমানে অসুস্থ হয়ে পড়বেন এবং তার মেডিকেল জরুরি অবস্থা প্রয়োজন হয় তখন মেডিকেল জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিষয়টি পার্শ্ববর্তী কোনো বিমানবন্দরে জানিয়ে জরুরি অবতরণের জন্য প্রস্তুতি নিতে হয়। প্রতিটি বিমানবন্দর এ রকম পরিস্থিতিতে মেডিকেল জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তত থাকে। বিমানবন্দরের পার্শ্ববর্তী হাসপাতালগুলোকে সতর্ক রাখা হয় এবং এম্বুলেন্স ও প্যারামেডিকদের বিমানবন্দরে প্রস্তুত রাখা হয়। যাত্রী অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পরও পাইলট কাছের কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ কেন করা হয়নি জানতে চাইলে পাইলট-ইন-কমান্ড ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, জরুরি অবতরণের উদ্দেশ্য হচ্ছে তাকে বাঁচানো, জানাজার ব্যবস্থা করা নয়। আমরা যখন জানতে পারলাম ততক্ষণে তাকে মৃত বলে ধরে নেয়া হয়েছে।
ওই যাত্রীকে মৃত ঘোষণা করার জন্য সেখানে কোনো ডাক্তার ছিলেন না। ফ্লাইট পার্সারের ওপর নির্ভর করেই তাকে মৃত বলে ধরে নেয়া হয়। পরে পার্সার যাত্রীর মরদেহটি নিয়ে একটি খালি সিটের সারিতে শুইয়ে দেয়। ফ্লাইট লগ অনুসারে, বিমানের ওই ফ্লাইটটি ১২ই নভেম্বর বাংলাদেশ সময় প্রায় সোয়া ১০টার দিকে উড্ডয়ন করে। জিএমটি/ইউটিসি অনুযায়ী সময় তখন ভোর ৪টা ১৬ মিনিট। আনুমানিক ৬টা ৫৫ ইউটিসিতে কেবিনের প্রধান ফ্লাইট পার্সার পাইলটকে একজন যাত্রী সম্পর্কে অবহিত করেন। অসুস্থ ওই যাত্রীকে অক্সিজেন দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। ৭টা ২৫ মিনিটে পার্সার তাকে মৃত বলে ধরে নেন। বিমান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফ্লাইট পার্সারদের মূলত যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য রাখা হয়। তারা প্রশিক্ষিত, তবে পেশাদার নয়। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের লন্ডনের কান্ট্রি হেড ইরতেজা কামাল চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো তদন্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, হিথ্রো বিমানবন্দরে ফ্লাইটটি থেকে যাত্রী নামানোর আগে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেতে তাদের আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল।


















