ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিস্মৃত নদী মালঞ্চ, নথিপত্রে কোথাও নেই নাম!

হারুন আনসারী
  • আপডেট সময় : ১২:৩২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩
  • / 434

সুন্দরবনে মালঞ্চ নামে একটি নদী রয়েছে। কিন্তু ফরিদপুরেও যে এই নামে একটি নদী রয়েছে তা অনেকেই হয়তো জানেনা। সাংবাদিক শ্রাবণ হাসানের কথাতেই জানা গেলো এমন বিস্মৃতির কথা। বললো, “এমন একটি সুন্দর নামের নয়নাভিরাম নদী রয়েছে আমাদের সালথায় অথচ তেমনভাবে কখনো জানা হয়ে উঠেনি।”

সেদিন আটঘর ইউনিয়নের গৌড়দিয়া বাজারে একটি চায়ের দোকানের পিছনে বেঞ্চে বসে নদীর অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেখতে জানা গেলো এই নদীর কথা। নদীটি এখনো হারিয়ে যায়নি, অথচ যে শুনে সেই বলে ভারি সুন্দর নামতো নদীর। আর এই নদীর এমন সুন্দর নামটিই নাকি এখন হারাতে চলেছে। অনেকে এটিকে কুমার নদেরই অংশ মনে করে। কেউ ভাবে খাল!

যতটুকু জানা গেছে, সালথার গট্টি বাজারে কুমার নদ থেকে শুরু হয়েছে এই মালঞ্চ নদী। এরপর সিংপ্রতাপ, কাউলিকান্দা সহ আরো কয়েকটি গ্রাম ছাপিয়ে নদীটি ভাওয়াল ইউনিয়নে কুমার নদের সাথে মিশেছে। গট্টি আটঘর ও ভাওয়াল এই তিনটি ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে গেছে মালঞ্চ নদী। গ্রামের সরল প্রকৃতির মতোই স্নিগ্ধতা মেশানো তার ছুটে চলা। বর্ষায় পানিতে ভরে উঠে তার কোল। গ্রামের কৃষকেরা তার বুকে পাট জাগ দেয় এসময়। পাটের পঁচা হাজামজা পানি নিয়েই বয়ে চলে সে। শুকনো মৌসুমে খড়ায় পানি শুকিয়ে জেগে উঠে তার উদাম শরীর। এজন্য হয়তো এতো সুন্দর একটি নামের এই নদীটি সকলের অগোচরে হারিয়ে যাচ্ছে। ফরিদপুরের সরকারি-বেসরকারি নথিপত্রে কোথাও নেই মালঞ্চ নামের এই নদীর অস্তিত্ব। তরুণ প্রজন্ম এই নদীর নামই হয়তো জানেনা বেশিরভাগ। তবে নদীমাতৃক বাংলাদেশে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে আরো অনেক নদনদীর মতো মালঞ্চের রুপলাবণ্য ফিরিয়ে আনা সময়ের অপরিহার্য দাবি।

ট্যাগস :

বিস্মৃত নদী মালঞ্চ, নথিপত্রে কোথাও নেই নাম!

আপডেট সময় : ১২:৩২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ জুলাই ২০২৩

সুন্দরবনে মালঞ্চ নামে একটি নদী রয়েছে। কিন্তু ফরিদপুরেও যে এই নামে একটি নদী রয়েছে তা অনেকেই হয়তো জানেনা। সাংবাদিক শ্রাবণ হাসানের কথাতেই জানা গেলো এমন বিস্মৃতির কথা। বললো, “এমন একটি সুন্দর নামের নয়নাভিরাম নদী রয়েছে আমাদের সালথায় অথচ তেমনভাবে কখনো জানা হয়ে উঠেনি।”

সেদিন আটঘর ইউনিয়নের গৌড়দিয়া বাজারে একটি চায়ের দোকানের পিছনে বেঞ্চে বসে নদীর অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেখতে জানা গেলো এই নদীর কথা। নদীটি এখনো হারিয়ে যায়নি, অথচ যে শুনে সেই বলে ভারি সুন্দর নামতো নদীর। আর এই নদীর এমন সুন্দর নামটিই নাকি এখন হারাতে চলেছে। অনেকে এটিকে কুমার নদেরই অংশ মনে করে। কেউ ভাবে খাল!

যতটুকু জানা গেছে, সালথার গট্টি বাজারে কুমার নদ থেকে শুরু হয়েছে এই মালঞ্চ নদী। এরপর সিংপ্রতাপ, কাউলিকান্দা সহ আরো কয়েকটি গ্রাম ছাপিয়ে নদীটি ভাওয়াল ইউনিয়নে কুমার নদের সাথে মিশেছে। গট্টি আটঘর ও ভাওয়াল এই তিনটি ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে গেছে মালঞ্চ নদী। গ্রামের সরল প্রকৃতির মতোই স্নিগ্ধতা মেশানো তার ছুটে চলা। বর্ষায় পানিতে ভরে উঠে তার কোল। গ্রামের কৃষকেরা তার বুকে পাট জাগ দেয় এসময়। পাটের পঁচা হাজামজা পানি নিয়েই বয়ে চলে সে। শুকনো মৌসুমে খড়ায় পানি শুকিয়ে জেগে উঠে তার উদাম শরীর। এজন্য হয়তো এতো সুন্দর একটি নামের এই নদীটি সকলের অগোচরে হারিয়ে যাচ্ছে। ফরিদপুরের সরকারি-বেসরকারি নথিপত্রে কোথাও নেই মালঞ্চ নামের এই নদীর অস্তিত্ব। তরুণ প্রজন্ম এই নদীর নামই হয়তো জানেনা বেশিরভাগ। তবে নদীমাতৃক বাংলাদেশে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব থেকে বাঁচতে হলে আরো অনেক নদনদীর মতো মালঞ্চের রুপলাবণ্য ফিরিয়ে আনা সময়ের অপরিহার্য দাবি।