ঢাকা ১১:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শিক্ষার্থীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালাচ্ছিলেন মাদরাসা শিক্ষক

বিশেষ প্রতিনিধি ফরিদপুর
  • আপডেট সময় : ০৩:১৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩
  • / 912

অভিযুক্ত হেদায়েতুল্লাহ -ছবি

ফরিদপুরের মধুখালীতে মো. হেদায়েতুল্লাহ নামে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আট বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত সোমবার দুপুরে উপজেলার মধুখালী পৌরসভার পূর্ব গাড়াখোলা মোহাম্মদিয়া আছিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।মৃত শিক্ষার্থীর নাম ইমান আলী (৮)। সে মধুখালির নওপাড়া ইউনিয়নের সমশকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রাজমিস্ত্রী হৃদয় মোল্লার ছেলে।

অভিযুক্ত মো. হেদায়েতুল্লাহ নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার পীরের চর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উক্ত মাদারাসায় গত দুই সপ্তাহ আগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।

ঐ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশকে জানান, রোববার রাতে হেদায়েতুল্লাহ মাদরাসার তিনটি শিশুকে মারধর  করেন এবং গোপনাঙ্গে স্পর্শ করেন। এতে একজনের লজ্জাস্থান ফুলে যায়। হেদায়েতুল্লাহ তাদের ছবি তুলে রাখে এবং এ ঘটনা কাউকে বললে ফেসবুকে ছবি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তবে হেদায়েতুল্লার নির্যাতনে আহত ঐ শিশুটির বাড়ির লোকেরা ঘটনা জেনে গেলে সোমবার সকালে তার অভিভাবকরা মাদরাসায় গিয়ে অভিযোগ দেয় এবং হেদায়েতুল্লাকে বকাঝকা করেন।

নিহত ঈমান আলীর সহপাঠীরা দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশকে আরো জানান, এ ঘটনার পর তারা সকালের পাঠ ও খাবার শেষে মাদরাসার কক্ষে ঘুমাতে যায়। বেলা ১১টার দিকে হেদায়েতুল্লাহ সেখানে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থাতেই ঈমান আলীকে গলা টিপে হত্যা করেন। এ সময় তার পাশের হোসাইন (১১) নামে এক শিশু এ ঘটনা দেখে ফেললে তার নাক-মুখ চেপে ধরে সঙ্গে নিয়েই হেদায়েতুল্লাহ সেখান থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে, ঘটনার পরপরই অন্যরা জেগে ওঠে বিষয়টি বড়দের জানালে তারা ঐ কক্ষে গিয়ে বিছানার ওপর ঈমান আলীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর মাদরাসার সভাপতি মো. আব্দুস সালাম ফোন করে বিষয়টি মধুখালী থানার ওসিকে জানান।

মধুখালী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশকে জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ফোর্সসহ ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাঝকান্দি বাসস্টান্ড হতে হেদায়েতুল্লাহকে আটক করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা হোসাইনকেও উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। নিহত শিশুটির মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে- নাক-মুখ আটকে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যার পর পালাচ্ছিলেন হেদায়েতুল্লাহ। তবে কোনো কিছু দেখে ফেলায় নাকি আগের প্রতিশোধ নিতে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

ট্যাগস :

শিক্ষার্থীকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালাচ্ছিলেন মাদরাসা শিক্ষক

আপডেট সময় : ০৩:১৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ মে ২০২৩

ফরিদপুরের মধুখালীতে মো. হেদায়েতুল্লাহ নামে এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে আট বছরের শিশু শিক্ষার্থীকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত সোমবার দুপুরে উপজেলার মধুখালী পৌরসভার পূর্ব গাড়াখোলা মোহাম্মদিয়া আছিয়া মাদরাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।মৃত শিক্ষার্থীর নাম ইমান আলী (৮)। সে মধুখালির নওপাড়া ইউনিয়নের সমশকান্দি গ্রামের বাসিন্দা রাজমিস্ত্রী হৃদয় মোল্লার ছেলে।

অভিযুক্ত মো. হেদায়েতুল্লাহ নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ উপজেলার পীরের চর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি উক্ত মাদারাসায় গত দুই সপ্তাহ আগে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।

ঐ মাদরাসার শিক্ষার্থীরা দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশকে জানান, রোববার রাতে হেদায়েতুল্লাহ মাদরাসার তিনটি শিশুকে মারধর  করেন এবং গোপনাঙ্গে স্পর্শ করেন। এতে একজনের লজ্জাস্থান ফুলে যায়। হেদায়েতুল্লাহ তাদের ছবি তুলে রাখে এবং এ ঘটনা কাউকে বললে ফেসবুকে ছবি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তবে হেদায়েতুল্লার নির্যাতনে আহত ঐ শিশুটির বাড়ির লোকেরা ঘটনা জেনে গেলে সোমবার সকালে তার অভিভাবকরা মাদরাসায় গিয়ে অভিযোগ দেয় এবং হেদায়েতুল্লাকে বকাঝকা করেন।

নিহত ঈমান আলীর সহপাঠীরা দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশকে আরো জানান, এ ঘটনার পর তারা সকালের পাঠ ও খাবার শেষে মাদরাসার কক্ষে ঘুমাতে যায়। বেলা ১১টার দিকে হেদায়েতুল্লাহ সেখানে প্রবেশ করে ঘুমন্ত অবস্থাতেই ঈমান আলীকে গলা টিপে হত্যা করেন। এ সময় তার পাশের হোসাইন (১১) নামে এক শিশু এ ঘটনা দেখে ফেললে তার নাক-মুখ চেপে ধরে সঙ্গে নিয়েই হেদায়েতুল্লাহ সেখান থেকে পালিয়ে যান।

এদিকে, ঘটনার পরপরই অন্যরা জেগে ওঠে বিষয়টি বড়দের জানালে তারা ঐ কক্ষে গিয়ে বিছানার ওপর ঈমান আলীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এরপর মাদরাসার সভাপতি মো. আব্দুস সালাম ফোন করে বিষয়টি মধুখালী থানার ওসিকে জানান।

মধুখালী থানার ওসি শহিদুল ইসলাম দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশকে জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ফোর্সসহ ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাঝকান্দি বাসস্টান্ড হতে হেদায়েতুল্লাহকে আটক করা হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা হোসাইনকেও উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। নিহত শিশুটির মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরো জানান, জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে- নাক-মুখ আটকে শ্বাসরোধ করে শিশুটিকে হত্যার পর পালাচ্ছিলেন হেদায়েতুল্লাহ। তবে কোনো কিছু দেখে ফেলায় নাকি আগের প্রতিশোধ নিতে তিনি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন সে ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।