ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় সুমনকে খুন, কাউন্সিলরসহ গ্রেফতার ৬

কামাল হোসেন, বেনাপোল
  • আপডেট সময় : ১০:০৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০২৩
  • / 200

যশোরের বেনাপোলে সাড়ে ৩ কেজি (৩৫টি) স্বর্ণের বার আত্মসাৎকারী সন্দেহে বেনাপোল থানার টেংরালী গ্রামের ওমর ফারুক ওরফে সুমনকে (২৫) অপহরণের পর আটকে রেখে দুই দিন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।

খুনের ঘটনায় সোমবার গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়া থেকে হত্যার মূল নায়ক বেনাপোল পৌরসভার কাউন্সিলর কামাল হোসেনসহ তার দুই শ্যালক ইজাজ (২৮) ও ইফাজকে (২৯) আটক করে ডিবি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার ও আলামত।

এর আগে গত শনিবার ঢাকার শাঁখারিবাজার এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মাইক্রোবাস চালক রিয়াজ মুন্সী, সোনা চোরাকারবারি অঞ্জন ও ডালিম কুমারকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তাদের স্বীকারোক্তিতে সোমবার গভীর রাতে বেনাপোল পৌরসভার কাউন্সিলর কামাল হোসেনসহ আটক করা হয় ৩ জনকে।

গ্রেফতার হওয়া ইজাজ পুলিশের কাছে সুমনকে অপহরণের পর নির্যাতন করে হত্যা করা হয় বলে স্বীকার করে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

ঘটনার পরপরই ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও আসামিদের মোবাইল ফোনের তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি কামাল ও তার দুই সহযোগী এজাজ ও ইসরাফিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যশোর জেলা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর রুপম কুমার জানান, ওমর ফারুক ওরফে সুমন ১১ নভেম্বর বাসা থেকে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ফারুকের অপহরণের বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়।

তিনি জানান, সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণের বার আত্মসাৎ করেন বহনকারী সুমন। এ অভিযোগে সুমনকে বেনাপোলের গোলদার ম্যানসনের ৩ তলার একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করে সোনা চোরাকারবারি কাউন্সিলর কামাল গংরা। তারা স্বীকারোক্তি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তাকে মাগুরায় নিয়ে খুন করে। পরে মাগুরা পুলিশ ওমর ফারুক ওরফে সুমনের লাশ মাগুরা থেকে উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, অপহরণের পর খবর পেয়ে ফারুকের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। মামলার পরপরই ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও আসামিদের মোবাইল ফোনের তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি বেনাপোল পৌর কাউন্সিলর কামাল হোসেন ও তার দুই সহযোগী এজাজ ও ইসরাফিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে সোমবার রাতে। এ নিয়ে মোট ৬ জনকে আটক করা হয়। গ্রেফতার ইজাজ পুলিশের কাছে অপহরণের পর হত্যা করার বিস্তারিত তথ্য স্বীকার করেছেন।

তবে গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, স্বর্ণ চোরাচালান ও খুনের ঘটনায় আরও একজন জনপ্রতিনিধি জড়িত থাকতে পারে বলে তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রমাণ পেলেই তাকে আটক করা হবে।

ট্যাগস :

সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণ আত্মসাতের ঘটনায় সুমনকে খুন, কাউন্সিলরসহ গ্রেফতার ৬

আপডেট সময় : ১০:০৫:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর ২০২৩

যশোরের বেনাপোলে সাড়ে ৩ কেজি (৩৫টি) স্বর্ণের বার আত্মসাৎকারী সন্দেহে বেনাপোল থানার টেংরালী গ্রামের ওমর ফারুক ওরফে সুমনকে (২৫) অপহরণের পর আটকে রেখে দুই দিন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়।

খুনের ঘটনায় সোমবার গভীর রাতে ঢাকার আশুলিয়া থেকে হত্যার মূল নায়ক বেনাপোল পৌরসভার কাউন্সিলর কামাল হোসেনসহ তার দুই শ্যালক ইজাজ (২৮) ও ইফাজকে (২৯) আটক করে ডিবি পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার ও আলামত।

এর আগে গত শনিবার ঢাকার শাঁখারিবাজার এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মাইক্রোবাস চালক রিয়াজ মুন্সী, সোনা চোরাকারবারি অঞ্জন ও ডালিম কুমারকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তাদের স্বীকারোক্তিতে সোমবার গভীর রাতে বেনাপোল পৌরসভার কাউন্সিলর কামাল হোসেনসহ আটক করা হয় ৩ জনকে।

গ্রেফতার হওয়া ইজাজ পুলিশের কাছে সুমনকে অপহরণের পর নির্যাতন করে হত্যা করা হয় বলে স্বীকার করে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।

ঘটনার পরপরই ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও আসামিদের মোবাইল ফোনের তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি কামাল ও তার দুই সহযোগী এজাজ ও ইসরাফিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

যশোর জেলা ডিবি পুলিশের ইন্সপেক্টর রুপম কুমার জানান, ওমর ফারুক ওরফে সুমন ১১ নভেম্বর বাসা থেকে বিয়ের জন্য পাত্রী দেখার উদ্দেশ্যে বের হয়ে আর বাড়ি ফেরেনি। পরদিন সকালে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ফারুকের অপহরণের বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়।

তিনি জানান, সাড়ে ৩ কেজি স্বর্ণের বার আত্মসাৎ করেন বহনকারী সুমন। এ অভিযোগে সুমনকে বেনাপোলের গোলদার ম্যানসনের ৩ তলার একটি কক্ষে আটকে রেখে নির্যাতন করে সোনা চোরাকারবারি কাউন্সিলর কামাল গংরা। তারা স্বীকারোক্তি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে তাকে মাগুরায় নিয়ে খুন করে। পরে মাগুরা পুলিশ ওমর ফারুক ওরফে সুমনের লাশ মাগুরা থেকে উদ্ধার করে।

তিনি আরও জানান, অপহরণের পর খবর পেয়ে ফারুকের মা ফিরোজা বেগম বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা করেন। মামলার পরপরই ডিবি পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও আসামিদের মোবাইল ফোনের তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় অভিযান পরিচালনা করে ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি বেনাপোল পৌর কাউন্সিলর কামাল হোসেন ও তার দুই সহযোগী এজাজ ও ইসরাফিলকে গ্রেফতার করা হয়েছে সোমবার রাতে। এ নিয়ে মোট ৬ জনকে আটক করা হয়। গ্রেফতার ইজাজ পুলিশের কাছে অপহরণের পর হত্যা করার বিস্তারিত তথ্য স্বীকার করেছেন।

তবে গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, স্বর্ণ চোরাচালান ও খুনের ঘটনায় আরও একজন জনপ্রতিনিধি জড়িত থাকতে পারে বলে তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রমাণ পেলেই তাকে আটক করা হবে।