ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

স্কুলে যেতে শিক্ষার্থীদের ভরসা ‘নৌকা’

ইউসুফ দেওয়ান রাজু, সিরাজগঞ্জ
  • আপডেট সময় : ১১:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৩
  • / 246

বৃষ্টি হলেই চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে ডুবে যায়। ফলে এসব বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। আবার এই নৌকা পারাপারে প্রতি শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ১০ টাকা ভাড়া দিতে হয়।

বিদ্যালয়গুলো হলো—তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের সান্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতিরাম চর-কুশাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাটাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের হামকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শেখপাড়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

স্থানীয়রা জানায়, শুকনো মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টি উপক্ষো করে জমির সরু রাস্তা ও ডোবা-নালা পাড় দিয়ে হেঁটে স্কুলে যাওয়া আশা করেন শিক্ষার্থীরা। তবুও চলছে তাদের পাঠদান। শিক্ষার্থীরাও থেমে নেই। অদম্য স্পৃহা নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করনে ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ৬টি বিদ্যালয়ের শিশুদের যাতায়াতের এমন করুণ অবস্থা কয়েক যুগ ধরেই। ঝড় বৃষ্টি উপক্ষো করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাথায় নিয়েই কোমলমতি শিশুরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। তবে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১ থেকে ২টা বড় নৌকার ব্যবস্থা করলে বর্ষার শুরু থেকে পানি শুকানো পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার অনেক সুবিধা হবে। একারণে প্রতিটি স্কুলে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের যাওয়া আসার জন্য নৌকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

উপজেলার শেখ পাড়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৌরভ হাসান রুপালি পারভিন, ছানি আহমেদ, ওলি উল্লাহ, ইয়াছিন আলী, সুরাইয়া পারভিন জানান, এতটা পথ সরু রাস্তা আর ডোবা-নালা পাড় দিয়ে হাঁটতে ভয় লাগে। মাঝে মধ্যেই পা পিছলে কাঁদা পানিতে পড়ে বই-খাতা নষ্ট হয়। পোশাকও ভিজে যায়। যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় তাদের খুব কষ্ট হয়।

শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় বিল পারি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক বাবা-মা তাদের বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন।

নৌকার মাঝি বরাত আলী বলেন, ঘাট থেকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করি। মাঝে মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে বের হতে দেরি করলে নৌকা ধরতে পারে না। আর তাতেই অনেক শিক্ষার্থীর ক্লাস মিস হয়ে যায়।

উপজেলার হামকুড়িয়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে চলনবিল অঞ্চল পানিতে ডুবে থাকে। নদীতে বর্ষার পানি কমলেও খাল-বিল ও শাখা নদীতে পানি না কমায় বছরের বেশির ভাগ সময় নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনো উপায় থাকে না। ছোট্ট নৌকায় চরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে ছোট-ছোট শিক্ষার্থীরা। তবে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী কম হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন তহবিল থেকে ২৫ হাজার টাকা ব্যয় করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নৌকা তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. তোয়বুন নাহার জানান, বিদ্যালয়ে একটি নৌকা তৈরি করা হয়েছে। সেই নৌকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। তবে আরেকটি নৌকা হলে শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া ভালো হবে।

মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান ম্যাগনেট জানান, ইতোমধ্যে আমি হামকুড়িয়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। এখন তো ব্রিজ করা সম্ভব না। তবে পরবর্তীতে পানি কমলে সেখানে বাঁশের সাকো দিয়ে নিয়মিত চলাচল করার ব্যবস্থা করে দিবো।

তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুসাব্বির হোসেন বলেন, উপজেলার ৬টি প্রতিষ্ঠান চলনবিলের মধ্যে অবস্থিত। একারনে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নৌকায় পারাপার হতে হয়। ইতোমধ্যে প্রতিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবছর একটি নৌকা তৈরি করা হয়েছে। বাকী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৌকা নেই, সেই সকল প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নৌকার ব্যবস্থা করা হবে।

ট্যাগস :

স্কুলে যেতে শিক্ষার্থীদের ভরসা ‘নৌকা’

আপডেট সময় : ১১:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৩

বৃষ্টি হলেই চলনবিল অধ্যুষিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তাঘাট বন্যার পানিতে ডুবে যায়। ফলে এসব বিদ্যালয়ের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন নৌকায় করে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। আবার এই নৌকা পারাপারে প্রতি শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন ১০ টাকা ভাড়া দিতে হয়।

বিদ্যালয়গুলো হলো—তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের সান্দুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রতিরাম চর-কুশাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাটাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের হামকুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও শেখপাড়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

স্থানীয়রা জানায়, শুকনো মৌসুমে ঝড়-বৃষ্টি উপক্ষো করে জমির সরু রাস্তা ও ডোবা-নালা পাড় দিয়ে হেঁটে স্কুলে যাওয়া আশা করেন শিক্ষার্থীরা। তবুও চলছে তাদের পাঠদান। শিক্ষার্থীরাও থেমে নেই। অদম্য স্পৃহা নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করনে ৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার ৬টি বিদ্যালয়ের শিশুদের যাতায়াতের এমন করুণ অবস্থা কয়েক যুগ ধরেই। ঝড় বৃষ্টি উপক্ষো করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাথায় নিয়েই কোমলমতি শিশুরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াত করেন। তবে সরকারি বা বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ১ থেকে ২টা বড় নৌকার ব্যবস্থা করলে বর্ষার শুরু থেকে পানি শুকানো পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার অনেক সুবিধা হবে। একারণে প্রতিটি স্কুলে কোমলমতী শিক্ষার্থীদের যাওয়া আসার জন্য নৌকা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

উপজেলার শেখ পাড়া বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সৌরভ হাসান রুপালি পারভিন, ছানি আহমেদ, ওলি উল্লাহ, ইয়াছিন আলী, সুরাইয়া পারভিন জানান, এতটা পথ সরু রাস্তা আর ডোবা-নালা পাড় দিয়ে হাঁটতে ভয় লাগে। মাঝে মধ্যেই পা পিছলে কাঁদা পানিতে পড়ে বই-খাতা নষ্ট হয়। পোশাকও ভিজে যায়। যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় তাদের খুব কষ্ট হয়।

শিক্ষার্থীরা আরও জানায়, বর্ষা মৌসুমে ঝুঁকি নিয়ে নৌকায় বিল পারি দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। অনেক সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অনেক বাবা-মা তাদের বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দেন।

নৌকার মাঝি বরাত আলী বলেন, ঘাট থেকে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসা করি। মাঝে মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে বের হতে দেরি করলে নৌকা ধরতে পারে না। আর তাতেই অনেক শিক্ষার্থীর ক্লাস মিস হয়ে যায়।

উপজেলার হামকুড়িয়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহুরুল ইসলাম বলেন, বর্ষা মৌসুমে চলনবিল অঞ্চল পানিতে ডুবে থাকে। নদীতে বর্ষার পানি কমলেও খাল-বিল ও শাখা নদীতে পানি না কমায় বছরের বেশির ভাগ সময় নৌকা ছাড়া যাতায়াতের কোনো উপায় থাকে না। ছোট্ট নৌকায় চরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করে ছোট-ছোট শিক্ষার্থীরা। তবে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী কম হওয়ায় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন তহবিল থেকে ২৫ হাজার টাকা ব্যয় করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নৌকা তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা. তোয়বুন নাহার জানান, বিদ্যালয়ে একটি নৌকা তৈরি করা হয়েছে। সেই নৌকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। তবে আরেকটি নৌকা হলে শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়া ভালো হবে।

মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান ম্যাগনেট জানান, ইতোমধ্যে আমি হামকুড়িয়া পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছি। এখন তো ব্রিজ করা সম্ভব না। তবে পরবর্তীতে পানি কমলে সেখানে বাঁশের সাকো দিয়ে নিয়মিত চলাচল করার ব্যবস্থা করে দিবো।

তাড়াশ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মুসাব্বির হোসেন বলেন, উপজেলার ৬টি প্রতিষ্ঠান চলনবিলের মধ্যে অবস্থিত। একারনে ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নৌকায় পারাপার হতে হয়। ইতোমধ্যে প্রতিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবছর একটি নৌকা তৈরি করা হয়েছে। বাকী প্রতিষ্ঠানগুলোতে নৌকা নেই, সেই সকল প্রতিষ্ঠানে দ্রুত নৌকার ব্যবস্থা করা হবে।