মদের বোতল হাতে বৈষম্যবিরোধী নেতা-নেত্রীর ভিডিও, সদস্যপদ স্থগিত
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ মার্চ ২০২৫
- / 822
ঝিনাইদহে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতা – জেলা শাখার সদস্যসচিব সাইদুর রহমান এবং মুখপাত্র এলমা খাতুনের সদস্যপদ সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে তাদের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। জেলা আহ্বায়ক আবু হুরাইরা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বুধবার এই তথ্য জানানো হয়।
ভিডিওটি এবং এর সাথে জড়িত অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী দুই দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সেই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ওই দুই নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে মঙ্গলবার রাত ৯টার পর সাইদুর রহমান ও এলমা খাতুনের একটি ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, এলমা খাতুন একটি ব্যাগ নিয়ে একটি ঘরে ঢোকার পর দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর ব্যাগ রেখে খাটের পাশে বসেন, যেখানে আগে থেকেই সাইদুর রহমান শুয়ে ছিলেন। সাইদুর তখন একটি পাতলা কম্বল গায়ে দেন এবং এলমা তার পাশে বসে মোবাইল ঘাঁটতে থাকেন। এক পর্যায়ে এলমার হাতে একটি মদের বোতল দেখা যায়।
এ বিষয়ে এলমা খাতুনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে সাইদুর রহমান দাবি করেছেন, গত বছর অক্টোবর মাসে কমিটির বিষয়ে আলোচনা করার জন্য কেন্দ্র থেকে তাদের ঢাকায় ডাকা হয়েছিল। রাতে থাকার ব্যবস্থা না থাকায় তারা এক সহপাঠীর আত্মীয়ের বাসায় আলাদা কক্ষে ছিলেন। তিনি আরও বলেন, যখন তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন অন্য সহপাঠীরা ও এলমা সেখানে আসেন। এলমা পাশে বসায় তিনি কম্বল গায়ে জড়িয়ে নেন এবং এলমা তখন মোবাইল চালাচ্ছিলেন। তার হাতে কিসের বোতল ছিল, তা তিনি বুঝতে পারেননি। সাইদুর রহমানের অভিযোগ, কেউ শত্রুতা করে ইচ্ছাকৃতভাবে এই ভিডিও ছড়িয়েছে, যাতে সামাজিকভাবে তাকে হেয় করা যায়।
জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আবু হুরাইরা জানান, ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে আসার পর সাইদুর রহমান ও এলমা খাতুনের সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি মনে করেন না যে সাইদুর ও এলমার মধ্যে কোনো অবৈধ সম্পর্ক আছে। তার ধারণা, ওই ঘরে আরও ছয়-সাতজন ছিল এবং তাদের মধ্যেই কেউ ভিডিওটি করেছে। তদন্ত কমিটি সেই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করবে, যার পর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।











