কৃত্রিম জ্বালানি সঙ্কট ঠেকাতে চিরুনি অভিযানের নির্দেশনা
- আপডেট সময় : ১২:৩৮:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
- / 99
ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে দেশে জ্বালানি তেলের ‘তেলেসমাতি’ কারবার শুরু করেছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। সরকারের পক্ষ থেকে তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকার দাবি করা হলেও বাস্তবে রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা-উপজেলার পাম্পগুলোতে তেলের জন্য চলছে হাহাকার। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীসহ গুরুত্বপূর্ণ ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
সিন্ডিকেটের কবজায় জ্বালানি খাত
অভিযোগ উঠেছে, অসাধু ব্যবসায়ী ও পাম্প মালিকদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। এমনকি সরকারি ডিপোতেও হিসাবের বাইরে বিপুল পরিমাণ গোপন মজুত ধরা পড়েছে। মোংলা অয়েলে ১২ হাজার লিটারের বেশি অতিরিক্ত ডিজেল পাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে, পাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন গ্রাহকরা। কোথাও কোথাও তেল না পেয়ে পাম্প ভাঙচুর ও হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।
তারেক রহমানের কড়া নির্দেশ ও চিরুনি অভিযান
জ্বালানি সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দেশে তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের ধরতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘চিরুনি অভিযান’ চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সরকার।
সীমান্তে কড়াকড়ি ও বিজিবি মোতায়েন
তেল পাচার রোধে মৌলভীবাজার ও সিলেটের সীমান্তবর্তী পাম্প এবং ডিপোগুলোতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। মোটরসাইকেলে তেল বিক্রির ক্ষেত্রে পুলিশ নতুন শর্ত জারি করেছে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়ে পাম্পগুলোর বিক্রি তদারকি করা হচ্ছে। অনেক জায়গায় অবৈধ মজুতের দায়ে ব্যবসায়ীদের জেল-জরিমানা করা হচ্ছে।
আমদানি ও সরবরাহের আশ্বাস
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এবং সমুদ্রপথে চীন থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও জেট ফুয়েল দেশে পৌঁছেছে। আগামী এপ্রিলে আরও ৩ লাখ টন ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও নতুন চালানের ফলে দ্রুতই বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। তবে সাধারণ মানুষের দাবি, সিন্ডিকেট না ভাঙলে এই ভোগান্তি সহজে দূর হবে না।
















