ফরিদপুরে একদিনে ১০ শিশু হামে আক্রান্ত: হাসপাতালে জায়গা নেই
- আপডেট সময় : ০৯:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / 212
ফরিদপুরে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশুদের হামে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা। সবশেষ মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) একদিনেই জেলা সদরের দুটি হাসপাতালে ১০টি শিশুকে ভর্তি করা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে শয্যা সংকট, ফলে অনেক শিশুকে মেঝেতে শুইয়েই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের বর্তমান চিত্র
মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জেনারেল হাসপাতালে মোট ২৪ জন হামে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, নিউমোনিয়া ও হামের উপসর্গ নিয়ে মায়েরা দূর-দূরান্ত থেকে সন্তানদের নিয়ে হাসপাতালে ভিড় করছেন। ওয়ার্ডগুলোতে তিল ধারণের জায়গা না থাকায় গরমে হাঁসফাঁস করা অসুস্থ শিশুদের নিয়ে মেঝেতেই বিছানা পেতেছেন উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা।
ভুক্তভোগীদের কথা
হাসপাতালে আসা নাছিমা আক্তার জানান, তার ছেলের তিন দিন ধরে তীব্র জ্বর এবং শরীরে লালচে দানা দেখা দেওয়ায় তাকে ভর্তি করেছেন। আকবর মুন্সি নামে এক অভিভাবক জানান, সিট না পেয়ে মেঝেতে পাটি পেতেই তার মেয়ের চিকিৎসা চলছে। অভিভাবকদের চোখে-মুখে এখন শুধুই আতঙ্কের ছাপ।
চিকিৎসকদের বক্তব্য ও টিকাদান পরিস্থিতি
ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. গণেশ কুমার আগারওয়াল জানান, “হামের প্রকোপ বাড়ায় আজ ৬ জন শিশুকে জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের শ্বাসকষ্ট বেশি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বিশেষভাবে লক্ষণীয় যে, ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে দুজন কোনো হামের টিকাই নেয়নি।”
ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৪২টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর রেকর্ড নেই। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”
সতর্কতা ও পরামর্শ
সরকারি হিসেবে ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকাদানের দাবি করা হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ বলছে এই হার ৮৪ শতাংশ। চিকিৎসকরা অভিভাবকদের হাম-রুবেলাসহ সকল নিয়মিত টিকা সময়মতো দেওয়ার পাশাপাশি শিশুদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।










