ঢাকা ১১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক তাহমিদের মৃত্যু

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:২০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • / 245

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট সংঘর্ষে গাজী তাহমিদ খান (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত তাহমিদ বারইয়ারহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলমগীরের ছেলে।

ঘটনার শুরু: ছোট বিষয় থেকে বড় সংঘর্ষ

স্থানীয়দের তথ্যমতে, বুধবার বিকালে বারইয়ারহাট পৌর বাজারের একটি দোকানে পা তুলে বসা নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুবায়ের দোকানের ভেতরে পা তুলে বসেছিলেন। এ সময় বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম লিটন তাকে পা না নামানোর কারণে লাথি মারেন। মুহূর্তেই উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরে লিটন ও জুবায়ের নিজ নিজ এলাকার লোকজন ডেকে আনলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাহমিদসহ ৮–১০ জন আহত হন।

সংঘর্ষের পরবর্তী মুহূর্ত

বারইয়ারহাট পৌরসভা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোহন দে জানান, বিকালের ঘটনাটি মীমাংসা করতে তারা ট্রাফিক মোড়ে যান। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লিটনপক্ষ হামলা করে। তিনি জানান, তাহমিদ ঠিক কখন সেখানে গেছেন জানা না গেলেও তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

আহত তাহমিদকে দ্রুত বারইয়ারহাট মেডিকেল সেন্টার → উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স → সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতেই সেখানে তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের শোক ও ক্ষোভ

নিহত তাহমিদের বাবা আলমগীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার একমাত্র ছেলেকে কেন এভাবে মেরে ফেলল? ও কি এমন দোষ করেছিল? যদি করেও থাকে আমি বিচার করতাম। কিন্তু এভাবে হত্যা—আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।”

পুলিশের বক্তব্য

জোরারগঞ্জ থানার ওসি কাজী নাজমুল হক জানান,
“জুনিয়র–সিনিয়র দ্বন্দ্বে একই গ্রুপের দুই পক্ষের সংঘর্ষে তাহমিদের মৃত্যু হয়েছে। লাশ চমেকে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবক তাহমিদের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০১:২০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব থেকে সৃষ্ট সংঘর্ষে গাজী তাহমিদ খান (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাত ১২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। নিহত তাহমিদ বারইয়ারহাট পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. আলমগীরের ছেলে।

ঘটনার শুরু: ছোট বিষয় থেকে বড় সংঘর্ষ

স্থানীয়দের তথ্যমতে, বুধবার বিকালে বারইয়ারহাট পৌর বাজারের একটি দোকানে পা তুলে বসা নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। হিঙ্গুলী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুবায়ের দোকানের ভেতরে পা তুলে বসেছিলেন। এ সময় বারইয়ারহাট পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম লিটন তাকে পা না নামানোর কারণে লাথি মারেন। মুহূর্তেই উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরে লিটন ও জুবায়ের নিজ নিজ এলাকার লোকজন ডেকে আনলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে তাহমিদসহ ৮–১০ জন আহত হন।

সংঘর্ষের পরবর্তী মুহূর্ত

বারইয়ারহাট পৌরসভা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোহন দে জানান, বিকালের ঘটনাটি মীমাংসা করতে তারা ট্রাফিক মোড়ে যান। সেখানে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে লিটনপক্ষ হামলা করে। তিনি জানান, তাহমিদ ঠিক কখন সেখানে গেছেন জানা না গেলেও তাকে উপর্যুপরি কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।

আহত তাহমিদকে দ্রুত বারইয়ারহাট মেডিকেল সেন্টার → উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স → সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাতেই সেখানে তার মৃত্যু হয়।

পরিবারের শোক ও ক্ষোভ

নিহত তাহমিদের বাবা আলমগীর কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আমার একমাত্র ছেলেকে কেন এভাবে মেরে ফেলল? ও কি এমন দোষ করেছিল? যদি করেও থাকে আমি বিচার করতাম। কিন্তু এভাবে হত্যা—আমি আমার ছেলের হত্যার বিচার চাই।”

পুলিশের বক্তব্য

জোরারগঞ্জ থানার ওসি কাজী নাজমুল হক জানান,
“জুনিয়র–সিনিয়র দ্বন্দ্বে একই গ্রুপের দুই পক্ষের সংঘর্ষে তাহমিদের মৃত্যু হয়েছে। লাশ চমেকে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।