ফরিদপুরে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম: লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক বন্ধের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ০২:৫০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ জুলাই ২০২৫
- / 486
ফরিদপুরের মধুখালীতে মেয়াদ উত্তীর্ণ ও লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহমুদুল হাসান। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সরকারি বিধি মোতাবেক সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যর্থ হলে এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আকস্মিক পরিদর্শন
আজ শনিবার ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহমুদুল হাসান মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক পরিদর্শন করেন। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যেই এই পরিদর্শন কার্যক্রম চালানো হয়।
পরিদর্শনের সময় ডা. মাহমুদুল হাসান ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সেবার মান, লাইসেন্স, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, প্যাথলজি ল্যাবের অবস্থা, ওষুধ সংরক্ষণ ও রোগীদের ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি অননুমোদিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার, মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্স এবং লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশনা দেন।
মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র ঠিক, বাকিদের চরম অনিয়ম
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহমুদুল হাসান জানান, মধুখালী উপজেলায় অনেক বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের (মালেকা চক্ষু হাসপাতাল, ডঃ আব্দুল কাদের মেমোরিয়াল হাসপাতাল, সালেহা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার) কাগজপত্র ঠিকঠাক আছে। বাকি সব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হয় মেয়াদ উত্তীর্ণ, নয়তো লাইসেন্সবিহীন।
তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন, “এই সকল প্রতিষ্ঠানকে আমরা আগামী ১৫ দিন সময় নির্ধারণ করে দিয়েছি সকল কাগজপত্র ঠিক করার জন্য। এ সময়ের মধ্যে কেউ ব্যর্থ হলে পরবর্তী অভিযানে ওই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে।”
সিভিল সার্জন আরও বলেন, জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানকে স্বাস্থ্যবিধি ও নিয়ম-নীতির মধ্যে থাকতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনগণের সন্তুষ্টি ও আগামী দিনের প্রত্যাশা
এই পরিদর্শনের সময় সিভিল সার্জন টিমের সাথে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মামুন হাসান, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. কবির সরদার, এবং ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।
সাধারণ জনগণ এই ধরনের পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে শৃঙ্খলা ও সেবার মান বৃদ্ধি পাবে। সিভিল সার্জনের এই পরিদর্শন কার্যক্রম জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে অনিয়ম রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ফরিদপুর, ১৯ জুলাই ২০২৫ (শনিবার)











