ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে মা ও শিশু কন্যাকে ডাবল মার্ডার: উজ্জ্বল গ্রেফতার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৫:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • / 300

ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানাধীন চর মাধবদিয়া এলাকায় মা ও পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. উজ্জ্বল খানকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বকারটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত উজ্জ্বল খান হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

রবিবার (১৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম।

যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ:

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১৪ মে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়ের নির্জন স্থান থেকে জাহানার ও তার ৫ বছর বয়সী শিশু কন্যা সামিয়ার মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর নিহতের স্বজন মো. লালন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া ও বিয়ের ফাঁদ:

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম জানান, ঢাকার আমিনবাজার এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারার সঙ্গে ঘাতক উজ্জ্বলের পরিচয় ও পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জাহানারা ও তার সন্তানকে ফরিদপুরে নিয়ে আসে উজ্জ্বল।

গত ৪ মে রাতে চর মাধবদিয়ার কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে দু’জনের মধ্যে বিয়ে নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উজ্জ্বল প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ সময় পাশে থাকা শিশু সামিয়া চিৎকার করতে গেলে তাকেও নির্মমভাবে গলা টিপে হত্যা করে ঘাতক।

লাশ গুমের চেষ্টা ও আলামত উদ্ধার:

জোড়া খুনের পর ঘাতক উজ্জ্বল নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ওই নির্জন ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দু’টি গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশুর পোশাক, আসামির মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করেছে।

মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিআইও-১ ইন্সপেক্টর মো. মোশারফ হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাসসহ ফরিদপুরে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।

ফরিদপুরে মা ও শিশু কন্যাকে ডাবল মার্ডার: উজ্জ্বল গ্রেফতার

আপডেট সময় : ০৫:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানাধীন চর মাধবদিয়া এলাকায় মা ও পাঁচ বছরের শিশু কন্যাকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মাটিচাপা দেওয়ার ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মো. উজ্জ্বল খানকে (৩৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বকারটিলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত উজ্জ্বল খান হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে।

রবিবার (১৭ মে) দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) ফাতেমা ইসলাম।

যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ:

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নিহত জাহানারা বেগম (৩০) রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১৪ মে চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড়ের নির্জন স্থান থেকে জাহানার ও তার ৫ বছর বয়সী শিশু কন্যা সামিয়ার মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর নিহতের স্বজন মো. লালন মোল্লা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরকীয়া ও বিয়ের ফাঁদ:

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম জানান, ঢাকার আমিনবাজার এলাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারার সঙ্গে ঘাতক উজ্জ্বলের পরিচয় ও পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জাহানারা ও তার সন্তানকে ফরিদপুরে নিয়ে আসে উজ্জ্বল।

গত ৪ মে রাতে চর মাধবদিয়ার কালিতলা এলাকার একটি নির্জন ছাপড়া ঘরে দু’জনের মধ্যে বিয়ে নিয়ে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে উজ্জ্বল প্রথমে জাহানারাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ সময় পাশে থাকা শিশু সামিয়া চিৎকার করতে গেলে তাকেও নির্মমভাবে গলা টিপে হত্যা করে ঘাতক।

লাশ গুমের চেষ্টা ও আলামত উদ্ধার:

জোড়া খুনের পর ঘাতক উজ্জ্বল নিজ বাড়ি থেকে কোদাল এনে ওই নির্জন ছাপড়া ঘরের পাশে পৃথক দু’টি গর্ত খুঁড়ে মা ও মেয়ের মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতদের ব্যবহৃত বোরকা, ওড়না, নেকাব, শিশুর পোশাক, আসামির মোবাইল ফোন এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র ও কোদাল উদ্ধার করেছে।

মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিআইও-১ ইন্সপেক্টর মো. মোশারফ হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাসসহ ফরিদপুরে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।