ফরিদপুরে ‘ভুয়া’ কিডনি রিপোর্ট: আড়াই বছরের শিশুর পরিবার বিপাকে
- আপডেট সময় : ০৫:৪৪:০৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫
- / 477
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত মডার্ন ল্যাবরেটরির বিরুদ্ধে একটি আড়াই বছর বয়সী শিশুর কিডনি সংক্রান্ত ‘ভুয়া’ রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় পরিবারটি চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্র এবং অনভিজ্ঞ কর্মীদের দিয়ে ল্যাবরেটরিটি পরিচালিত হচ্ছে, যার ফলে এমন ভুল রিপোর্ট তৈরি হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও ভোগান্তির বিবরণ
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুলাই উপজেলার হাসামদিয়া গ্রামের জাহিদুল বেগের আড়াই বছর বয়সী ছেলে জিহাদের প্রসাবে জ্বালাপোড়া হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। সেখানে কর্মরত ডাঃ মোহাম্মদ মফিজ উদ্দিন শিশুটিকে দেখে প্রসাব ও কিডনি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। জাহিদুল বেগ তার সন্তানকে নিয়ে মডার্ন ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করান। আশ্চর্যজনকভাবে, মডার্ন ল্যাবরেটরির রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে, শিশুটির কিডনি ড্যামেজ (নষ্ট) হয়ে গেছে!
এই রিপোর্ট দেখে ডাক্তার দ্রুত শিশুটিকে ফরিদপুর নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। দিশেহারা পরিবারটি ওই দিনই ফরিদপুর গিয়ে শিশুটিকে ডা. এসি পালের কাছে দেখায়। তিনি নতুন করে পরীক্ষা দেন, যা ফরিদপুরের ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল শিশু হাসপাতালে করা হয়। সেখানকার সকল রিপোর্টেই জিহাদের কিডনি ভালো আসে, শুধু প্রসাবে সামান্য সমস্যা ধরা পড়ে, যা ওষুধেই ঠিক হয়ে যাবে বলে ডাক্তার জানান।
পরিবারের অভিযোগ ও ল্যাব মালিকের বক্তব্য
বুধবার (২৩ জুলাই) শিশু জিহাদের দাদি জবেদা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বোয়ালমারী হাসপাতালের সামনে মডার্ন ল্যাবরেটরি থেকে পরীক্ষা করানোর পর তাদের রিপোর্টে লেখা হয়েছে শিশুটির কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। পরে সেই রিপোর্ট হাসপাতালে গিয়ে ডা: মফিজ উদ্দিনকে দেখালে তিনি রিপোর্ট অনুযায়ী বলেন বাচ্চার কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে তাকে দ্রুত ফরিদপুর নিয়ে যান। এ কথা শুনে পরিবারের সকলের কান্নাকাটি শুরু হয়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “এভাবে ভুয়া রিপোর্ট দিয়ে মানুষকে বিপদে ফেলানো ঠিক না।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বোয়ালমারী মডার্ন ল্যাবরেটরির মালিক জিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “রিপোর্ট ভুয়া না। রিপোর্টে কমবেশি হতে পারে।” এরপর তিনি আলফাডাঙ্গায় আছেন জানিয়ে পরে কল দেবেন বলে লাইন কেটে দেন।
চিকিৎসক ও আরএমও’র মন্তব্য
বোয়ালমারী হাসপাতালে কর্মরত ডাঃ মফিজ উদ্দিন বলেন, “পরীক্ষার মান যে বিষয়টা এটা আমরা সব সময় ভালো চাই তাহলে নির্ভুল চিকিৎসা দিতে সমস্যা হয় না। আর যদি রিপোর্ট ভালো না হয় ওই রিপোর্টের ওপরেই আমাদের ডিসিশন নিতে হয়। আমরা চাই নিয়ম মেনে সঠিক রিপোর্ট দিক সকলে।” তিনি জানান, রোগীর ফোঁটা ফোঁটা প্রস্রাব আসায় তিনি ফরিদপুরে এসি পাল স্যারের কাছে রেফার করেছিলেন।
এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মাহমুদ বলেন, “একই দিনে দুটি রিপোর্ট করা হয়েছে। বোয়ালমারীর মডার্ন ল্যাবরেটরির রিপোর্টে আসছে ২.৩৫ আর ফরিদপুরের রিপোর্টে আসছে ০৩। একই তারিখে রিপোর্টে এত পার্থক্য হওয়া উচিত না। বোয়ালমারী ক্লিনিকদের দেখভাল করা আমাদের পক্ষে কষ্টসাধ্য। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষদের দেখা উচিত।”
এই ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি এবং ল্যাবরেটরিগুলোর মান নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে।











