ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হত্যার পর সড়ক দুর্ঘটনার নাটক: ফরিদপুরে আটক ৪

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৮:১৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • / 489

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রেমের বিয়ে, দাম্পত্য কলহ ও একটি মোটরসাইকেল ফেরত নেওয়াকে কেন্দ্র করে রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হলেও এলাকাবাসী ও পুলিশের তৎপরতায় তা ভেস্তে যায়। বুধবার (৬ মে) পুলিশ এ ঘটনায় চারজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার বিবরণ:

নিহত রবিউল ইসলাম মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্ধাইন গ্রামের গোলাম সরোয়ার শেখের ছেলে। পেশায় ট্রাক্টর চালক রবিউলের ঘরে স্ত্রী ও ১১ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে বোয়ালমারীর হাটখোলারচর গ্রামের শহিদুল শেখ ও মাগুরার সাইদ মোল্লার মেয়ের প্রেমের বিয়ে হয়। সম্প্রতি দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান। এরই মধ্যে শহিদুল তার শ্যালকের একটি মোটরসাইকেল অন্যত্র বন্ধক রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিকল্পিত ফাঁদ ও হত্যাকাণ্ড:

গত মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে শ্বশুর সাইদ মোল্লা প্রতিবেশী রবিউলকে সঙ্গে নিয়ে জামাইয়ের বাড়ি হাটখোলারচর গ্রামে মোটরসাইকেল ফেরত নিতে আসেন। তখন তর্কাতর্কি হলেও মোটরসাইকেল ছাড়াই তারা ফিরে যান। পরে বিকেলে শহিদুল পুনরায় ফোন করে মোটরসাইকেল দেওয়ার কথা বলে তাদের ডেকে নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ফাঁদ। শ্বশুরকে এক মাতুব্বরের বাড়িতে বসিয়ে রেখে কৌশলে রবিউলকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই রবিউল নিখোঁজ ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাতৈর-মহম্মদপুর সড়কের পাশে একটি প্রাইভেটকার খাদে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে গাড়ির পাশেই রবিউলের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।

উদ্ধার ও আটক:

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে থাকা প্রাইভেটকারে ৪-৫ জন যুবক ছিলেন। পালানোর সময় শাহাজাদা (২৩) ও তপু সাহা (২২) নামে দুইজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। স্থানীয়দের ধারণা, মরদেহ ফেলে পালানোর সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। বর্তমানে মূল অভিযুক্ত শহিদুল ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য:

বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এটি একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আজম খান বলেন, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মোটরসাইকেল সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

হত্যার পর সড়ক দুর্ঘটনার নাটক: ফরিদপুরে আটক ৪

আপডেট সময় : ০৮:১৫:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রেমের বিয়ে, দাম্পত্য কলহ ও একটি মোটরসাইকেল ফেরত নেওয়াকে কেন্দ্র করে রবিউল ইসলাম (৩৬) নামে এক যুবককে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করা হলেও এলাকাবাসী ও পুলিশের তৎপরতায় তা ভেস্তে যায়। বুধবার (৬ মে) পুলিশ এ ঘটনায় চারজনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার বিবরণ:

নিহত রবিউল ইসলাম মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্ধাইন গ্রামের গোলাম সরোয়ার শেখের ছেলে। পেশায় ট্রাক্টর চালক রবিউলের ঘরে স্ত্রী ও ১১ বছরের একটি সন্তান রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে বোয়ালমারীর হাটখোলারচর গ্রামের শহিদুল শেখ ও মাগুরার সাইদ মোল্লার মেয়ের প্রেমের বিয়ে হয়। সম্প্রতি দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যান। এরই মধ্যে শহিদুল তার শ্যালকের একটি মোটরসাইকেল অন্যত্র বন্ধক রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে।

পরিকল্পিত ফাঁদ ও হত্যাকাণ্ড:

গত মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে শ্বশুর সাইদ মোল্লা প্রতিবেশী রবিউলকে সঙ্গে নিয়ে জামাইয়ের বাড়ি হাটখোলারচর গ্রামে মোটরসাইকেল ফেরত নিতে আসেন। তখন তর্কাতর্কি হলেও মোটরসাইকেল ছাড়াই তারা ফিরে যান। পরে বিকেলে শহিদুল পুনরায় ফোন করে মোটরসাইকেল দেওয়ার কথা বলে তাদের ডেকে নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত ফাঁদ। শ্বশুরকে এক মাতুব্বরের বাড়িতে বসিয়ে রেখে কৌশলে রবিউলকে আলাদা করে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই রবিউল নিখোঁজ ছিলেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাতৈর-মহম্মদপুর সড়কের পাশে একটি প্রাইভেটকার খাদে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে গেলে গাড়ির পাশেই রবিউলের রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পান।

উদ্ধার ও আটক:

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে থাকা প্রাইভেটকারে ৪-৫ জন যুবক ছিলেন। পালানোর সময় শাহাজাদা (২৩) ও তপু সাহা (২২) নামে দুইজনকে স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। স্থানীয়দের ধারণা, মরদেহ ফেলে পালানোর সময় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। বর্তমানে মূল অভিযুক্ত শহিদুল ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য:

বোয়ালমারী থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন জানান, এটি একটি স্পষ্ট হত্যাকাণ্ড। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আজম খান বলেন, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মোটরসাইকেল সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।