ঢাকা ০১:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে থানার ভেতরে কৃষক দল নেতাকে পিটালেন এসআই

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
  • / 29

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ভেতরে ঢুকে এক রাজনৈতিক নেতাকে নির্মমভাবে মারধর করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির মোল্লার বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার ভুক্তভোগী ফারদিন হাসান উজ্জ্বল ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মহাসড়কে তীব্র বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে উপজেলা কৃষক দল এবং স্থানীয় বিএনপির মূল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিক্ষোভ শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত এসআই কবির মোল্লাকে থানা থেকে প্রত্যাহার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

খাবারের খোঁজ নিতে গিয়েই বিপত্তি:

ভুক্তভোগী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাতে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারদিন হাসান উজ্জ্বলের প্রতিবেশী আপন মাতুব্বরকে একটি সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। রাতে আটক প্রতিবেশীকে খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার জন্য মানবিক কারণে থানায় যান উজ্জ্বল।

থানার ভেতরে যাওয়ার পর এসআই মো. কবির মোল্লা অত্যন্ত রুঢ় ভাষায় উজ্জ্বলকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কে?” উজ্জ্বল নিজের পরিচয় দিয়ে জানান যে, যাকে ধরে আনা হয়েছে সে তাঁর এলাকার ভাই হয়। ভুক্তভোগী নেতার দাবি, এই কথা শোনার পরপরই কোনো কিছু না বুঝে এসআই কবির মোল্লা তাঁর ওপর চড়াও হন এবং বেধড়ক মারধর করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ও দলীয় নেতাকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দোষ স্বীকার ও এসআই-এর ইউ-টার্ন:

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান বলেন, “আমাদের সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে থানার ভেতরে যেভাবে মারধর করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এই পৈশাচিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তার দ্রুত প্রত্যাহারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কবির মোল্লা প্রথমে সুর নরম করে বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে একটি ঘটনা ঘটে গেছে, আমি অলরেডি তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি।” তবে পরবর্তীতে মারধরের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করার চেষ্টা করে তিনি বলেন, “গতকাল একটি ঘটনায় ফারদিন হাসান উজ্জ্বল থানায় এলে তার সঙ্গে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তবে কোনো মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।”

আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি উকিল মাতুব্বর, উপজেলা ছাত্র দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান মুন্সী, উপজেলা কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন মোল্লাসহ বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ।

ফরিদপুরে থানার ভেতরে কৃষক দল নেতাকে পিটালেন এসআই

আপডেট সময় : ১২:৩৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

ফরিদপুরের ভাঙ্গা থানার ভেতরে ঢুকে এক রাজনৈতিক নেতাকে নির্মমভাবে মারধর করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির মোল্লার বিরুদ্ধে। মারধরের শিকার ভুক্তভোগী ফারদিন হাসান উজ্জ্বল ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার শাস্তির দাবিতে আজ মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড মহাসড়কে তীব্র বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে উপজেলা কৃষক দল এবং স্থানীয় বিএনপির মূল ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

বিক্ষোভ শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত এসআই কবির মোল্লাকে থানা থেকে প্রত্যাহার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

খাবারের খোঁজ নিতে গিয়েই বিপত্তি:

ভুক্তভোগী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার রাতে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারদিন হাসান উজ্জ্বলের প্রতিবেশী আপন মাতুব্বরকে একটি সাধারণ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে আসে। রাতে আটক প্রতিবেশীকে খাবার ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়ার জন্য মানবিক কারণে থানায় যান উজ্জ্বল।

থানার ভেতরে যাওয়ার পর এসআই মো. কবির মোল্লা অত্যন্ত রুঢ় ভাষায় উজ্জ্বলকে জিজ্ঞেস করেন, “আপনি কে?” উজ্জ্বল নিজের পরিচয় দিয়ে জানান যে, যাকে ধরে আনা হয়েছে সে তাঁর এলাকার ভাই হয়। ভুক্তভোগী নেতার দাবি, এই কথা শোনার পরপরই কোনো কিছু না বুঝে এসআই কবির মোল্লা তাঁর ওপর চড়াও হন এবং বেধড়ক মারধর করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ও দলীয় নেতাকর্মীরা গুরুতর আহত অবস্থায় উজ্জ্বলকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

দোষ স্বীকার ও এসআই-এর ইউ-টার্ন:

এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল হাসান বলেন, “আমাদের সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে থানার ভেতরে যেভাবে মারধর করা হয়েছে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা এই পৈশাচিক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ কর্মকর্তার দ্রুত প্রত্যাহারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. কবির মোল্লা প্রথমে সুর নরম করে বলেন, “অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে একটি ঘটনা ঘটে গেছে, আমি অলরেডি তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি।” তবে পরবর্তীতে মারধরের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করার চেষ্টা করে তিনি বলেন, “গতকাল একটি ঘটনায় ফারদিন হাসান উজ্জ্বল থানায় এলে তার সঙ্গে কিছুটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, তবে কোনো মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়।”

আজকের এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গা পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি উকিল মাতুব্বর, উপজেলা ছাত্র দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমরান মুন্সী, উপজেলা কৃষক দলের সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন মোল্লাসহ বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠনের সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ।