ঢাকা ০৯:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর মেডিকেলের সাফল্য: ‘কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট’-এ ৬ শিশুর কান এখন সচল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • / 294

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ফমেক) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নামমাত্র খরচে ‘কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট’ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জন্মগতভাবে সম্পূর্ণ শ্রবণপ্রতিবন্ধী বা মূক ও বধির শিশুরা এখন কানে শুনতে এবং কথা বলতে পারবে।

সম্প্রতি, গত ২৬, ২৭ ও ২৯ অক্টোবর ভোলা, বরিশাল, কুষ্টিয়া, নওগাঁ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার তিন থেকে চার বছর বয়সী ছয়জন জন্মগত বধির শিশুর কানে সফলভাবে এই ইমপ্ল্যান্ট অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

চিকিৎসার সুবিধা ও গুরুত্ব

এক দশক আগেও যেখানে এই চিকিৎসা করাতে বিদেশে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা খরচ হতো, এখন দেশেই তা ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় সম্ভব। আর ফরিদপুর মেডিকেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তা প্রায় বিনামূল্যে করা যাচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস: হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রকল্প পরিচালক (কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট) অধ্যাপক ডাঃ নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট একটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি। দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর কানে ইলেকট্রনিক ডিভাইস লাগিয়ে এ চিকিৎসা করে থাকেন।

নতুন দিগন্ত: তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ২ হাজার ৬০০ শিশু বধির হয়ে জন্ম নেয়। ফরিদপুরে এই চিকিৎসাব্যবস্থা চালু হওয়ায় জন্ম থেকে কানে না শোনা এবং কথা বলতে না পারা শিশুদের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট কী?

কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট হলো একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা মারাত্মক বা সম্পূর্ণ শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শব্দ শুনতে সহায়তা করে। এটি ‘বায়োনিক কান’ নামেও পরিচিত।

স্থাপন: এটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অন্তঃকর্ণের কক্লিয়ায় স্থাপন করা হয়।

অংশসমূহ: এটির দুটি অংশ থাকে—বাইরের অংশে মাইক্রোফোন, স্পিস প্রসেসর ও ট্রান্সমিটার কয়েল এবং ভেতরের অংশে রিসিভার স্টিমুলেটর ও ইলেকট্রেড থাকে।

সফলভাবে ইমপ্ল্যান্ট হওয়া ৬ শিশু

বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যে ছয় শিশুর কানে সফলভাবে ইমপ্ল্যান্ট অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে, তারা হলো:

নাম বয়স জেলা
ওমর ফারুক ৩ বছর ১০ মাস ভোলা
হাফিজা ৩ বছর ৮ মাস বরিশাল
আদিবা ৩ বছর ১০ মাস কুষ্টিয়া
আলিফ খান ৪ বছর ৮ মাস বরিশাল
রিয়াজ হাসান ৪ বছর ৭ মাস নওগাঁ
শাহেল ইসলাম ৩ বছর ১০ মাস মুন্সিগঞ্জ
চিকিৎসক দল

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডাঃ ইফতেখারুল আলম, নাক কান গলার বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক ডাঃ এস এম ফয়সাল সিজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ এটিএম সুমাইয়েফ-উর রহমান (সৈকত) সহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের চিকিৎসকগণ উপস্থিত থেকে এই চিকিৎসা সম্পন্ন করেন।

ফরিদপুর মেডিকেলের সাফল্য: ‘কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট’-এ ৬ শিশুর কান এখন সচল

আপডেট সময় : ১১:৪০:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ফমেক) সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে নামমাত্র খরচে ‘কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট’ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে জন্মগতভাবে সম্পূর্ণ শ্রবণপ্রতিবন্ধী বা মূক ও বধির শিশুরা এখন কানে শুনতে এবং কথা বলতে পারবে।

সম্প্রতি, গত ২৬, ২৭ ও ২৯ অক্টোবর ভোলা, বরিশাল, কুষ্টিয়া, নওগাঁ ও মুন্সিগঞ্জ জেলার তিন থেকে চার বছর বয়সী ছয়জন জন্মগত বধির শিশুর কানে সফলভাবে এই ইমপ্ল্যান্ট অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

চিকিৎসার সুবিধা ও গুরুত্ব

এক দশক আগেও যেখানে এই চিকিৎসা করাতে বিদেশে ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা খরচ হতো, এখন দেশেই তা ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকায় সম্ভব। আর ফরিদপুর মেডিকেলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় তা প্রায় বিনামূল্যে করা যাচ্ছে।

প্রকল্প পরিচালক ড. নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস: হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের প্রধান ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রকল্প পরিচালক (কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট) অধ্যাপক ডাঃ নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস জানান, কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট একটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি। দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশুর কানে ইলেকট্রনিক ডিভাইস লাগিয়ে এ চিকিৎসা করে থাকেন।

নতুন দিগন্ত: তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর গড়ে ২ হাজার ৬০০ শিশু বধির হয়ে জন্ম নেয়। ফরিদপুরে এই চিকিৎসাব্যবস্থা চালু হওয়ায় জন্ম থেকে কানে না শোনা এবং কথা বলতে না পারা শিশুদের চিকিৎসায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট কী?

কক্লিয়ার ইমপ্ল্যান্ট হলো একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইস, যা মারাত্মক বা সম্পূর্ণ শ্রবণপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে শব্দ শুনতে সহায়তা করে। এটি ‘বায়োনিক কান’ নামেও পরিচিত।

স্থাপন: এটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অন্তঃকর্ণের কক্লিয়ায় স্থাপন করা হয়।

অংশসমূহ: এটির দুটি অংশ থাকে—বাইরের অংশে মাইক্রোফোন, স্পিস প্রসেসর ও ট্রান্সমিটার কয়েল এবং ভেতরের অংশে রিসিভার স্টিমুলেটর ও ইলেকট্রেড থাকে।

সফলভাবে ইমপ্ল্যান্ট হওয়া ৬ শিশু

বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যে ছয় শিশুর কানে সফলভাবে ইমপ্ল্যান্ট অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে, তারা হলো:

নাম বয়স জেলা
ওমর ফারুক ৩ বছর ১০ মাস ভোলা
হাফিজা ৩ বছর ৮ মাস বরিশাল
আদিবা ৩ বছর ১০ মাস কুষ্টিয়া
আলিফ খান ৪ বছর ৮ মাস বরিশাল
রিয়াজ হাসান ৪ বছর ৭ মাস নওগাঁ
শাহেল ইসলাম ৩ বছর ১০ মাস মুন্সিগঞ্জ
চিকিৎসক দল

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডাঃ ইফতেখারুল আলম, নাক কান গলার বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, সহকারী অধ্যাপক ডাঃ এস এম ফয়সাল সিজন, জুনিয়র কনসালটেন্ট ডাঃ এটিএম সুমাইয়েফ-উর রহমান (সৈকত) সহ বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের চিকিৎসকগণ উপস্থিত থেকে এই চিকিৎসা সম্পন্ন করেন।