হরমুজ প্রণালিতে বাধা নেই বাংলাদেশের: বিশেষ অনুমতি দিল ইরান
- আপডেট সময় : ০৩:৪৮:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
- / 164
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ইস্যুতে বাংলাদেশকে বড় সুখবর দিয়েছে ইরান। ঢাকাকে ‘বন্ধু দেশ’ হিসেবে গণ্য করে এই সংঘাতপূর্ণ পথেও বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজের জন্য নিরাপদ পথ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়। তিনি বলেন, “অনেক দেশ আমাদের কাছে নিরাপদ চলাচলের অনুরোধ জানিয়েছে। যেসব দেশকে আমরা ‘বন্ধু’ মনে করি, তাদের জন্য আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিরাপদ পথ নিশ্চিত করছে।” এই তালিকায় চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের নামও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
কারা অনুমতি পাবে না?
আরাঘচি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, বন্ধু দেশগুলোর জন্য পথ খোলা থাকলেও শত্রু বা বিরোধী দেশগুলোর জন্য এটি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল এবং বর্তমান যুদ্ধে লিপ্ত থাকা কিছু উপসাগরীয় দেশের কোনো জাহাজকে এই প্রণালি অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে শত্রু ও তাদের মিত্রদের সুযোগ দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের শঙ্কা
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধের প্রভাবে গত ২৫ দিনে এই পথে জাহাজ চলাচল প্রায় ৯৫ শতাংশ কমে গেছে। লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি জাহাজ চলাচল করার কথা, সেখানে ১ থেকে ২৫ মার্চের মধ্যে মাত্র ১৫৫টি জাহাজ পার হতে পেরেছে।
বাংলাদেশ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
ইরান জানিয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আগেভাগেই তাদের সাথে সমন্বয় করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেও বাংলাদেশের জন্য এই বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি। এতে করে বৈশ্বিক পরিবহন ব্যয় বাড়লেও বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
















