ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে খুন করে ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে পালালেন ছাত্রদল নেতা

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৪৭:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / 26

ঢাকার সাভারে একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে রিয়া মনি (১৯) নামের এক নববধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের সুনির্দিষ্ট দাবি, রিয়া মনির স্বামী সদ্য ঘোষিত সাভার পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রনি ইসলাম রাতের কোনো এক সময়ে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। এমনকি রনি তাঁর নিজের মাকে ফোনে স্ত্রীকে খুন করার কথা স্বীকারও করেছেন।

গতকাল সোমবার (৮ জুন) রাতে সাভারের ছায়াবিথি মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে সাভার মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকালে রনিকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পদ পাওয়ার পর থেকেই চলত নির্যাতন:

নিহত রিয়া মনি নোয়াখালী জেলার মাইজদী থানা এলাকার প্রবাসী আব্দুর রবের মেয়ে। তিনি তাঁর স্বামী রনির সঙ্গে সাভার পৌর এলাকার ছায়াবিথি মহল্লায় তৌহিদুর রহমানের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

রিয়া মনির মামা সাদ্দাম হোসেন জানান, রনি সম্প্রতি সাভার পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন। দলীয় পদ পাওয়ার পর থেকেই তিনি অহংকারে বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয়ে রিয়ার ওপর নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। পারিবারিক এই বিরোধের জেরেই রিয়াকে শ্বাসরোধে বা অন্য কোনো উপায়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়েছেন রনি।

খুন করে মাকে ফোন:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিয়া ও রনির ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখে এবং কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে পাশের ভাড়াটিয়ারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তালা ভেঙে রিয়ার লাশ উদ্ধার করে।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, রনি তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করার পর নিজের মাকে ফোনে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি রিয়াকে খুন করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবারের কান্না ও বিচার দাবি:

রিয়ার নানি জাহানারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “রিয়ার বাবা-মা দুজনই প্রবাসী। রনি আমার নাতনিকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে পালিয়ে গেছে। আমরা এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও ঘাতক রনির দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি চাই।”

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী বলেন, “খবর পেয়ে তালা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের মামা সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক আসামি রনি ইসলামকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যেই অভিযানে নেমেছে।”

স্ত্রীকে খুন করে ফ্ল্যাটে তালা দিয়ে পালালেন ছাত্রদল নেতা

আপডেট সময় : ১১:৪৭:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ঢাকার সাভারে একটি তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার তালাবদ্ধ ফ্ল্যাট থেকে রিয়া মনি (১৯) নামের এক নববধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের সুনির্দিষ্ট দাবি, রিয়া মনির স্বামী সদ্য ঘোষিত সাভার পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক রনি ইসলাম রাতের কোনো এক সময়ে স্ত্রীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে গেছেন। এমনকি রনি তাঁর নিজের মাকে ফোনে স্ত্রীকে খুন করার কথা স্বীকারও করেছেন।

গতকাল সোমবার (৮ জুন) রাতে সাভারের ছায়াবিথি মহল্লার একটি ভাড়া বাসা থেকে সাভার মডেল থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকালে রনিকে প্রধান আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পদ পাওয়ার পর থেকেই চলত নির্যাতন:

নিহত রিয়া মনি নোয়াখালী জেলার মাইজদী থানা এলাকার প্রবাসী আব্দুর রবের মেয়ে। তিনি তাঁর স্বামী রনির সঙ্গে সাভার পৌর এলাকার ছায়াবিথি মহল্লায় তৌহিদুর রহমানের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।

রিয়া মনির মামা সাদ্দাম হোসেন জানান, রনি সম্প্রতি সাভার পৌর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন। দলীয় পদ পাওয়ার পর থেকেই তিনি অহংকারে বিভিন্ন তুচ্ছ বিষয়ে রিয়ার ওপর নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। পারিবারিক এই বিরোধের জেরেই রিয়াকে শ্বাসরোধে বা অন্য কোনো উপায়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়েছেন রনি।

খুন করে মাকে ফোন:

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিয়া ও রনির ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখে এবং কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি আঁচ করতে পেরে পাশের ভাড়াটিয়ারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তালা ভেঙে রিয়ার লাশ উদ্ধার করে।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, রনি তাঁর স্ত্রীকে হত্যা করার পর নিজের মাকে ফোনে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি রিয়াকে খুন করেছেন। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী, রিয়াকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জোরালো ধারণা করা হচ্ছে।

পরিবারের কান্না ও বিচার দাবি:

রিয়ার নানি জাহানারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “রিয়ার বাবা-মা দুজনই প্রবাসী। রনি আমার নাতনিকে পরিকল্পিতভাবে খুন করে পালিয়ে গেছে। আমরা এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও ঘাতক রনির দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসি চাই।”

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমজান আলী বলেন, “খবর পেয়ে তালা ভেঙে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের মামা সাদ্দাম হোসেন বাদী হয়ে আজ মঙ্গলবার সকালে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পলাতক আসামি রনি ইসলামকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যেই অভিযানে নেমেছে।”