ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাবিতে তারেক রহমানের হারানো ফাইল কুড়িয়েছিলেন এই অধ্যাপক

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০১:২৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
  • / 168

আশির দশকের উত্তাল রাজনীতি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ঘটনাবহুল দিনগুলোর এক ব্যতিক্রমধর্মী স্মৃতিচারণ সামনে এনেছেন নোয়াখালীর হাতিয়া কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শাহ ওয়ালী উল্লাহ। তিনি দাবি করেছেন, ১৯৮৬ সালে ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বর্তমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হারিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কুড়িয়ে পেয়েছিলেন।

ঘটনার পটভূমি:

অধ্যাপক শাহ ওয়ালী উল্লাহ জানান, ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের ডিন অফিসের সামনে অপেক্ষাকালে তিনি কিছু কাগজপত্র পড়ে থাকতে দেখেন। ফাইলটি হাতে নিয়ে তিনি দেখতে পান, সেখানে এসএসসি ও এইচএসসির মূল মার্কশিটসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রয়েছে, যেখানে নাম লেখা ছিল— ‘তারেক রহমান’, পিতা— ‘জিয়াউর রহমান’।

সেই মহেন্দ্রক্ষণ:

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, কিছুক্ষণ পর একজন তরুণকে উদ্বিগ্নভাবে তার ফাইল খুঁজতে দেখেন। শাহ ওয়ালী উল্লাহ এগিয়ে গিয়ে ফাইলটি তার হাতে তুলে দিলে সেই তরুণ হাসিমুখে তাকে ধন্যবাদ জানান। পরে তিনি নিশ্চিত হন যে, এই তরুণ আর কেউ নন, তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান।

রাজনৈতিক উত্তাল সময়ের সাক্ষী:

সে সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশের বর্ণনা দিতে গিয়ে অধ্যাপক বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তখন ক্যাম্পাস ছিল অগ্নিগর্ভ। প্রতিনিয়ত মিছিল-মিটিং আর সংঘর্ষ লেগেই থাকতো। জিয়া হলের সামনে খালেদা জিয়ার সভার সময় ছাত্রনেতা নিহতের ঘটনাও তিনি স্মরণ করেন। এমন প্রতিকূল পরিবেশে তারেক রহমানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করাও বেশ কঠিন ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অপপ্রচারের প্রতিবাদ:

কয়েক মাস আগে এক রাজনৈতিক সভায় জনৈক নেতার দাবির প্রেক্ষিতে শাহ ওয়ালী উল্লাহ এই সত্যটি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমান অনার্স শেষ করেছেন কি না তা আমার জানা নেই, তবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন—এটি আমি নিজের চোখে দেখেছি।”

আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া: অধ্যাপকের এই দীর্ঘ চার দশক আগের স্মৃতিচারণ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও এক বক্তব্যে বিষয়টি আগে উল্লেখ করেছিলেন।

ঢাবিতে তারেক রহমানের হারানো ফাইল কুড়িয়েছিলেন এই অধ্যাপক

আপডেট সময় : ০১:২৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

আশির দশকের উত্তাল রাজনীতি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ঘটনাবহুল দিনগুলোর এক ব্যতিক্রমধর্মী স্মৃতিচারণ সামনে এনেছেন নোয়াখালীর হাতিয়া কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. শাহ ওয়ালী উল্লাহ। তিনি দাবি করেছেন, ১৯৮৬ সালে ঢাবিতে ভর্তি পরীক্ষার সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বর্তমান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হারিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র কুড়িয়ে পেয়েছিলেন।

ঘটনার পটভূমি:

অধ্যাপক শাহ ওয়ালী উল্লাহ জানান, ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের ডিন অফিসের সামনে অপেক্ষাকালে তিনি কিছু কাগজপত্র পড়ে থাকতে দেখেন। ফাইলটি হাতে নিয়ে তিনি দেখতে পান, সেখানে এসএসসি ও এইচএসসির মূল মার্কশিটসহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র রয়েছে, যেখানে নাম লেখা ছিল— ‘তারেক রহমান’, পিতা— ‘জিয়াউর রহমান’।

সেই মহেন্দ্রক্ষণ:

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, কিছুক্ষণ পর একজন তরুণকে উদ্বিগ্নভাবে তার ফাইল খুঁজতে দেখেন। শাহ ওয়ালী উল্লাহ এগিয়ে গিয়ে ফাইলটি তার হাতে তুলে দিলে সেই তরুণ হাসিমুখে তাকে ধন্যবাদ জানান। পরে তিনি নিশ্চিত হন যে, এই তরুণ আর কেউ নন, তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান।

রাজনৈতিক উত্তাল সময়ের সাক্ষী:

সে সময়ের রাজনৈতিক পরিবেশের বর্ণনা দিতে গিয়ে অধ্যাপক বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তখন ক্যাম্পাস ছিল অগ্নিগর্ভ। প্রতিনিয়ত মিছিল-মিটিং আর সংঘর্ষ লেগেই থাকতো। জিয়া হলের সামনে খালেদা জিয়ার সভার সময় ছাত্রনেতা নিহতের ঘটনাও তিনি স্মরণ করেন। এমন প্রতিকূল পরিবেশে তারেক রহমানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যাতায়াত করাও বেশ কঠিন ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

অপপ্রচারের প্রতিবাদ:

কয়েক মাস আগে এক রাজনৈতিক সভায় জনৈক নেতার দাবির প্রেক্ষিতে শাহ ওয়ালী উল্লাহ এই সত্যটি প্রকাশ্যে আনেন। তিনি বলেন, “তারেক রহমান অনার্স শেষ করেছেন কি না তা আমার জানা নেই, তবে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন—এটি আমি নিজের চোখে দেখেছি।”

আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া: অধ্যাপকের এই দীর্ঘ চার দশক আগের স্মৃতিচারণ ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলও এক বক্তব্যে বিষয়টি আগে উল্লেখ করেছিলেন।