ফরিদপুরে বিআরটিএ অফিসে সাংবাদিক পরিচয়ে হট্টগোল: জনি আটক
- আপডেট সময় : ১০:১৯:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
- / 247
ফরিদপুর বিআরটিএ অফিসে তথ্য সংগ্রহ ও সাক্ষাৎকার নিতে গিয়ে হট্টগোল, ভাঙচুর এবং মারধরের শিকার হয়েছেন জনি বিশ্বাস (২৫) নামের এক তরুণ। এ ঘটনায় বিআরটিএ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যেমন মারধরের অভিযোগ উঠেছে, তেমনি জনি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পাল্টা চাঁদাদাবি ও কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ এনেছে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তিনি কোতোয়ালি থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।
ঘটনার পটভূমি:
জনি বিশ্বাস নগরকান্দার তালমা ইউনিয়নের বিলনালিয়া গ্রামের কাদের বিশ্বাসের ছেলে এবং রাজেন্দ্র কলেজের বিএ শ্রেণির শিক্ষার্থী। তিনি ছাত্র অধিকার পরিষদের ফরিদপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরবর্তীতে বাংলাদেশ ছাত্রশক্তির জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে তাকে স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক পরিচয় দিতে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ ভিডিও করতে দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও অভিযোগ:
বিআরটিএ ফরিদপুর কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক মেহেদী হাসান অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে জনি বিশ্বাস তার অফিস কক্ষে প্রবেশ করে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে ঘুষবাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। এ সময় জনি তার কাছে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। মেহেদী হাসানের দাবি, এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে জনি উত্তেজিত হয়ে টেবিলের কাঁচ ভেঙে ফেলেন এবং চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জনি বিশ্বাসকে বলতে শোনা যায়, তিনি সাক্ষাৎকার নিতে গেলে বিআরটিএ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান তাকে ভুয়া সাংবাদিক আখ্যা দেন। জনি অভিযোগ করেন, “মেহেদী হাসান লোক ডেকে এনে আমাকে কিলঘুষি মেরে শুইয়ে ফেলেন। তারাই চেয়ার দিয়ে টেবিলের কাঁচ ভেঙেছেন। অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখলেই সত্যতা বেরিয়ে আসবে।”
পুলিশের পদক্ষেপ:
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জনি বিশ্বাসকে থানায় নিয়ে আসে। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে জনি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।










