ফরিদপুরে ইসরাফিলের ইয়াবা সেবনের পর স্কুলছাত্রীকে হত্যা
- আপডেট সময় : ০৩:১৯:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / 215
ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার গেরদা ইউনিয়নে ৭ বছরের স্কুলছাত্রী আইরিন আক্তার ওরফে কবিতা (৭) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) সকাল ১১টায় কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ আজমির হোসেন চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান, ওসি (তদন্ত) আব্দুল্লাহ বিশ্বাস, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মাসুদ রানা এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।
মামলার পটভূমি ও উদ্ধার:
নিহত শিশু আইরিন স্থানীয় বুকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিল। সে গেরদা ইউনিয়নের বুকাইল আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রিকশাচালক বাকা মিয়া বিশ্বাসের মেয়ে। গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর সন্ধান না পেয়ে ২৫ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৯২২) করেন তার বাবা।
নিখোঁজের ছয় দিন পর, গত ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সকালে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে বাখুন্ডা এলাকার একটি কলাবাগান থেকে শিশুটির পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ৩০ এপ্রিল কোতোয়ালি থানায় পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা (নং-৮৪, জিআর নং-৩২৯/২৬) দায়ের করা হয়।
ইয়াবা সেবনের পর হত্যা ও লোমহর্ষক তথ্য:
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, কোতোয়ালি থানা ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—ইসরাফিল মৃধা (২৪), শেখ আমিন (১৯) ও নাছিমা বেগম (৪৫)।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আসামি ইসরাফিল মৃধা ইয়াবা সেবন করে। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় তার মনে শিশুটির প্রতি কুৎসিত লালসা জন্মায়। চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সে শিশু আইরিনকে একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটি বিষয়টি তার পরিবারকে জানিয়ে দেবে বলে জানালে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।
মরদেহ গুম করার চেষ্টা:
হত্যার পর মরদেহ গোপন করতে পাশের একটি বাড়ির বাথরুমের সেফটি ট্যাংকে রাখা হয়। পরবর্তীতে নাছিমা বেগম বিষয়টি জানতে পেরে তার ছেলে শেখ আমিন ও অপর ছেলে রহমানকে লাশ সরিয়ে ফেলতে বলেন। এরপর তারা ট্যাংক থেকে মরদেহ তুলে একটি প্লাস্টিকের ড্রামে করে বাখুন্ডা কমিউনিটি ক্লিনিকের পূর্ব পাশে রেললাইন সংলগ্ন কলাবাগানে ফেলে রেখে যায়। এ সময় পুলিশ বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আজমির হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।










