গডফাদারের নির্দেশ অমান্য: ঢাকাকে ১০ ভাগে ভাগ করে সন্ত্রাসীদের ছক
- আপডেট সময় : ০৪:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / 87
রাজধানী ঢাকাকে ১০টি অঞ্চলে বিভক্ত করে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে অপরাধজগতের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার পর থেকেই চলছে চরম অস্থিরতা। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে খবরদারি না করার অলিখিত শর্ত থাকলেও ‘গডফাদার’ ও সন্ত্রাসীদের কোনো গ্রুপই তা মানছে না। ফলে অর্থের ভাগবাঁটোয়ারা ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে রাজধানীতে একের পর এক ঘটছে হত্যাকাণ্ড ও খুনাখুনির ঘটনা।
আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রণ ও সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড:
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ মঙ্গলবার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আধিপত্যের দ্বন্দ্বের জেরেই রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় খুন হন শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ ওরফে টিটন। এর আগে পুরান ঢাকায় তারিক সাইফ মামুনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, রায়েরবাজারে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা এবং এলিফ্যান্ট রোডে ব্যবসায়ী এহতেশামুল হককে কুপিয়ে জখমের ঘটনায়ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্থিরতা ও আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
যেভাবে নিয়ন্ত্রণ ভাগ হয়েছিল:
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের আগে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির সহায়তায় কারাগারের ভেতরে ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসী একটি ভিডিও কনফারেন্সে অংশ নেন। সেখানে সব ভেদাভেদ ভুলে এক হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে তারা ঢাকা শহরকে ১০টি ভাগে ভাগ করে নেন।
মিরপুর: কিলার আব্বাস, তাজ ও শাহাদাত।
মহাখালী ও গুলশান-বনানী: ইমাম।
মালিবাগ-মৌচাক: রাসু।
মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, নিউমার্কেট ও ঢাবি এলাকা: সানজিদুল ইসলাম ইমন ওরফে ক্যাপ্টেন ইমন।
ফার্মগেট-তেজগাঁও: ১৯৯৭ সালে পুরস্কার ঘোষিত এক গডফাদার।
পুরান ঢাকা: মামুন (গত নভেম্বরে খুন হওয়ার পর শাহেদ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন)।
মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া ও শ্যামলী: পিচ্চি হেলাল।
বাড্ডা, রামপুরা ও উত্তরা: পৃথক শীর্ষ সন্ত্রাসী।
দ্বন্দ্বের কারণ:
গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চুক্তি অনুযায়ী নিজ নিজ নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে কোনো সন্ত্রাসী খবরদারি করতে পারবে না—এমন অলিখিত শর্ত ছিল। কিন্তু অর্থের ভাগবাঁটোয়ারা ও আধিপত্য বিস্তারের লোভ সামলাতে না পেরে সন্ত্রাসীরা এই নির্দেশনা লঙ্ঘন করছে। এর ফলে নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে রূপ নিচ্ছে এবং বাড়ছে খুনোখুনি।















