শ্রেণিকক্ষের ঘটনা গড়ায় বিচারপতির বাসায়: শিক্ষক লাঞ্ছনার অভিযোগ
- আপডেট সময় : ০৪:৫০:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
- / 79
রাজধানীর উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে শ্রেণিকক্ষে এক শিক্ষকের সঙ্গে এক শিক্ষার্থীর ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনা ও পরবর্তী পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানের ভেতরে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, শ্রেণিকক্ষের ওই ঘটনার জেরে মাধ্যমিক শাখার এক শিক্ষককে এক বিচারপতির বাসভবনে ডেকে নিয়ে অপমান করা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে:
শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপি ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ এপ্রিল দিবা শাখার বাংলা মাধ্যমের দশম শ্রেণির একটি ক্লাসে পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকের কাছে বাংলা বিষয়ের একটি প্রশ্নের সমাধান জানতে চায় এক শিক্ষার্থী। শিক্ষক তাকে বাংলা বিষয়ের শিক্ষকের কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার পরামর্শ দেন। ছাত্রটি আরও একবার শিক্ষকের কাছে জানতে চাইলে একপর্যায়ে ওই ছাত্র ‘অশোভন’ আচরণ করে বলে শিক্ষক ও অন্য শিক্ষার্থীরা জানায়। এ সময় শিক্ষক তাকে থাপ্পড় দেন।
শিক্ষক প্রথম আলোকে জানান, বিষয়টি জানানোর জন্য তিনি শিক্ষার্থীর অভিভাবককে ফোন করে স্কুলে এসে কথা বলার অনুরোধ করেছিলেন। অভিভাবক ফোনেই জানতে চাইলে স্পর্শকাতর হওয়ায় সরাসরি আলোচনার ওপর জোর দেওয়া হয়।
বিচারপতির বাসভবনে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ:
শিক্ষকের অভিযোগ, পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১৮ এপ্রিল তাঁকে ওই অভিভাবকের (এক বিচারপতি) বাসায় আমন্ত্রণ জানানো হয়। সেখানে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশা করলেও, উল্টো তিনি মানসিক নির্যাতনের মুখে পড়েন। তখন তাঁর সঙ্গে আরেকজন শিক্ষকও ছিলেন।
শিক্ষার্থীর ছাড়পত্র ও জিডি:
ঘটনাটি জানাজানি হলে ২৩ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করে এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের মাধ্যমে প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র (টিসি) নিয়ে অন্য বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিভাবকের পক্ষে বিচারপতির ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান রমনা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। জিডিতে কোচিংয়ে না যাওয়ার কারণে ছাত্রটিকে মারধর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি পাওয়ার অভিযোগ এবং সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাহাৎ খান জিডির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শিক্ষকের বক্তব্য:
কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক জানান, তিনি নিয়মিত কোনো কোচিং বা প্রাইভেট পড়ান না। সহকর্মীদের অনুরোধে তিনজন শিক্ষার্থী ও তাঁর নিজের সন্তানকে নিয়ে একটি জায়গায় পড়াতেন। গত বছরের জানুয়ারি মাসে ওই শিক্ষার্থী সেখানে পড়তে এলেও এক মাসের বেশি সে আর সেখানে যায়নি।










