ঢাকা ০২:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ হাজার ইয়াবা লুট: বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৪ নেতার পদ স্থগিত

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫
  • / 496

কক্সবাজারের রামুতে ৩০ হাজার ইয়াবা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের চার নেতার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই, ২০২৫) বিকালে রামু উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোকতার আহমেদ ও সদস্য সচিব আবুল বশর বাবু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত ও তাদের পরিচয়

যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তারা হলেন:

রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দানু মিয়া।

রাজারকুল ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল কবির।

রাজারকুল ৭ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি ইসমাইল।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সেলিম।

এই চারজনের মধ্যে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সেলিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজেই দলের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

ইয়াবা লুট ও টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ

অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি ছাত্রদলের রামু উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সানাউল্লাহর নেতৃত্বে ৩০ হাজার ইয়াবার একটি চালান লুটের একাধিক অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। লুটের পর সেই ইয়াবা বিক্রির ২৮ লাখ টাকা স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির অন্তত ২৩ জন নেতাকর্মী নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন বলে জানা গেছে।

দলের তদন্ত ও ব্যবস্থা

এই গুরুতর অভিযোগের পর কক্সবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের নির্দেশে রামু উপজেলা বিএনপি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে (তিন দিনের মধ্যে) তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত চার নেতার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জেলা ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদুল হক জনি অভিযুক্ত সানাউল্লাহর পদত্যাগ নিয়ে বলেন, “এরা দলের জন‍্য অভিশাপ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল যখন সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিচ্ছে, ঠিক সে সময় এসব অভিশাপের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।”

রামু উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোকতার আহমেদ ও সদস্য সচিব আবুল বশর বাবু যৌথভাবে জানিয়েছেন, “যথাযথ তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ইয়াবা লুটের দায়ে এই চার নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে।”

এই ঘটনা কক্সবাজারে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

৩০ হাজার ইয়াবা লুট: বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৪ নেতার পদ স্থগিত

আপডেট সময় : ১০:২৮:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই ২০২৫

কক্সবাজারের রামুতে ৩০ হাজার ইয়াবা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের চার নেতার বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই, ২০২৫) বিকালে রামু উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোকতার আহমেদ ও সদস্য সচিব আবুল বশর বাবু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত ও তাদের পরিচয়

যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তারা হলেন:

রামু উপজেলার রাজারকুল ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দানু মিয়া।

রাজারকুল ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল কবির।

রাজারকুল ৭ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সভাপতি ইসমাইল।

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সেলিম।

এই চারজনের মধ্যে উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সানাউল্লাহ সেলিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে নিজেই দলের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

ইয়াবা লুট ও টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ

অভিযোগ উঠেছে, সম্প্রতি ছাত্রদলের রামু উপজেলা শাখার আহ্বায়ক সানাউল্লাহর নেতৃত্বে ৩০ হাজার ইয়াবার একটি চালান লুটের একাধিক অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। লুটের পর সেই ইয়াবা বিক্রির ২৮ লাখ টাকা স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপির অন্তত ২৩ জন নেতাকর্মী নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন বলে জানা গেছে।

দলের তদন্ত ও ব্যবস্থা

এই গুরুতর অভিযোগের পর কক্সবাজার-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজলের নির্দেশে রামু উপজেলা বিএনপি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি দ্রুত সময়ের মধ্যে (তিন দিনের মধ্যে) তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযুক্ত চার নেতার বিরুদ্ধে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জেলা ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদুল হক জনি অভিযুক্ত সানাউল্লাহর পদত্যাগ নিয়ে বলেন, “এরা দলের জন‍্য অভিশাপ। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল যখন সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করে নিচ্ছে, ঠিক সে সময় এসব অভিশাপের কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।”

রামু উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোকতার আহমেদ ও সদস্য সচিব আবুল বশর বাবু যৌথভাবে জানিয়েছেন, “যথাযথ তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে ইয়াবা লুটের দায়ে এই চার নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে।”

এই ঘটনা কক্সবাজারে বিএনপির অভ্যন্তরে এবং স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।