ঢাকা ১০:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুর মেডিকেলের আলোচিত পর্দা কেলেঙ্কারির রায় ঘোষণা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ০৯:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 985

এক সেটের দাম ধরা হয়েছিল ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের (ফমেক) সেই কুখ্যাত ‘পর্দা কেলেঙ্কারি’ মামলার চাকা ঘুরলো আবারও। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করে ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছেন। তবে প্রমাণের অভাবে বা আইনি মারপ্যাঁচে হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন অপর ৬ আসামি।

পর্দার আড়ালের ‘ভিলেন’ কারা?

আদালতের নির্দেশে এখন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে সেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে তারা হলেন—মূল নিয়ন্ত্রক ও ঠিকাদার আবদুল্লাহ আল মামুন, মুন্সি ফররুখ হোসেন, মুন্সি সাজ্জাদ হোসেন ও মো. আলমগীর কবির। এছাড়া প্রশাসনিক ও কারিগরি দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ফেঁসে গেছেন কলেজের সাবেক শিক্ষক ডা. বরুণ কান্তি বিশ্বাস ও ডা. মো. এনামুল হক।

অব্যাহতির স্বাদ পেলেন যারা:

অন্যদিকে, আদালতের পর্যবেক্ষণে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মামলা থেকে রেহাই পেয়েছেন সাবেক অধ্যাপক ডা. শেখ আবদুল ফাত্তাহ এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমানসহ আরও ৪ জন।

ফ্ল্যাশব্যাকে সেই আকাশচুম্বী লুটপাট:

২০১৪ সালের সেই দিনগুলোতে ফিরে গেলে দেখা যায় এক রুদ্ধশ্বাস দুর্নীতির চিত্র। অনিক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১০টি অতিপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ১০ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু যখন বিল জমা পড়ে, তখন চোখ কপালে ওঠে খোদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের।

এক সেট পর্দা: ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা!

অক্সিজেন প্ল্যান্ট: ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা!

ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট: ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা!

তদন্তে বেরিয়ে আসে, টেন্ডারে অংশ নেওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানই ছিল তিন ভাইয়ের! মূলত মুন্সী সাজ্জাদ হোসেনই ছিলেন এই পুরো নাটকের মাস্টারমাইন্ড। তিনি সিন্ডিকেট করে নিজের ভাইদের নামে সাজানো দরপত্র জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চূড়ান্ত ছক কষেছিলেন।

আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপ:

দুদকের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট শেখ কুবাদ হোসেন জানান, আদালত ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন। তিনি সার্টিফাইড কপি তুলে দুদক সদর দপ্তরে পাঠাবেন এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সরকারি কোষাগারের ১০ কোটি টাকা লুটের এই অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল না হলেও, পর্দার আড়ালের মূল নায়কদের শাস্তি হবে কি না—এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ফরিদপুর মেডিকেলের আলোচিত পর্দা কেলেঙ্কারির রায় ঘোষণা

আপডেট সময় : ০৯:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

এক সেটের দাম ধরা হয়েছিল ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের (ফমেক) সেই কুখ্যাত ‘পর্দা কেলেঙ্কারি’ মামলার চাকা ঘুরলো আবারও। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ফরিদপুরের বিশেষ জজ আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করে ৬ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করেছেন। তবে প্রমাণের অভাবে বা আইনি মারপ্যাঁচে হাফ ছেড়ে বেঁচেছেন অপর ৬ আসামি।

পর্দার আড়ালের ‘ভিলেন’ কারা?

আদালতের নির্দেশে এখন কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে সেই প্রভাবশালী সিন্ডিকেটকে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে তারা হলেন—মূল নিয়ন্ত্রক ও ঠিকাদার আবদুল্লাহ আল মামুন, মুন্সি ফররুখ হোসেন, মুন্সি সাজ্জাদ হোসেন ও মো. আলমগীর কবির। এছাড়া প্রশাসনিক ও কারিগরি দায়িত্বে অবহেলার দায়ে ফেঁসে গেছেন কলেজের সাবেক শিক্ষক ডা. বরুণ কান্তি বিশ্বাস ও ডা. মো. এনামুল হক।

অব্যাহতির স্বাদ পেলেন যারা:

অন্যদিকে, আদালতের পর্যবেক্ষণে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে মামলা থেকে রেহাই পেয়েছেন সাবেক অধ্যাপক ডা. শেখ আবদুল ফাত্তাহ এবং সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মিজানুর রহমানসহ আরও ৪ জন।

ফ্ল্যাশব্যাকে সেই আকাশচুম্বী লুটপাট:

২০১৪ সালের সেই দিনগুলোতে ফিরে গেলে দেখা যায় এক রুদ্ধশ্বাস দুর্নীতির চিত্র। অনিক ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১০টি অতিপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য ১০ কোটি টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু যখন বিল জমা পড়ে, তখন চোখ কপালে ওঠে খোদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের।

এক সেট পর্দা: ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা!

অক্সিজেন প্ল্যান্ট: ৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা!

ভ্যাকুয়াম প্ল্যান্ট: ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা!

তদন্তে বেরিয়ে আসে, টেন্ডারে অংশ নেওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানই ছিল তিন ভাইয়ের! মূলত মুন্সী সাজ্জাদ হোসেনই ছিলেন এই পুরো নাটকের মাস্টারমাইন্ড। তিনি সিন্ডিকেট করে নিজের ভাইদের নামে সাজানো দরপত্র জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চূড়ান্ত ছক কষেছিলেন।

আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী ধাপ:

দুদকের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট শেখ কুবাদ হোসেন জানান, আদালত ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন। তিনি সার্টিফাইড কপি তুলে দুদক সদর দপ্তরে পাঠাবেন এবং পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।

সরকারি কোষাগারের ১০ কোটি টাকা লুটের এই অপচেষ্টা শেষ পর্যন্ত সফল না হলেও, পর্দার আড়ালের মূল নায়কদের শাস্তি হবে কি না—এখন সেটাই দেখার বিষয়।