ফরিদপুরে শিক্ষক নেতার অন্ধকার জগত: যৌন নিপীড়ন ও দুর্নীতির পাহাড়
- আপডেট সময় : ০৭:৩৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
- / 1437
ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ১২ নং সিংহপ্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও স্বঘোষিত শিক্ষক নেতা সাহেবুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও নৈতিক অবক্ষয়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন থেকে শুরু করে বিদ্যালয়ে পাঠদান না করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোসহ তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।
যৌন নিপীড়ন ও জেল খাটার তথ্য গোপন:
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৪ সালে নটখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত থাকাকালীন চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে সাহেবুল ইসলাম গ্রেপ্তার হয়ে ১৫ দিন জেল খাটেন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি জেলে থাকাকালীন সময়ের বেতন উত্তোলন করেন এবং সার্ভিস বুকে সেই তথ্য লিপিবদ্ধ করতে বাধা দেন। এমনকি এক ছাত্রকে বলাৎকারের ঘটনাও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও স্বেচ্ছাচারিতা:
অভিযোগ রয়েছে, সাহেবুল ইসলাম বিদ্যালয়ে গিয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেই উপজেলা সদরে চলে আসেন। শিক্ষা অফিস ও হিসাবরক্ষণ অফিসে তদবির এবং চায়ের দোকানে রাজনৈতিক আড্ডায় দিন পার করেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সাথে ছবি তুলে নিজেকে ‘মহা ক্ষমতাধর’ হিসেবে জাহির করারও অভিযোগ আছে। বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘরের মালামাল বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ এবং সরকারি নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে শ্রেণিকক্ষেই কোচিং বাণিজ্য চালানোর অভিযোগ উঠেছে তাঁর ও তাঁর স্ত্রী তাইফুন নাহারের বিরুদ্ধে।
শিক্ষক মহলে ক্ষোভ:
বিগত সরকারের আমলে শিক্ষক সমিতির পদধারী এই নেতা বর্তমানে নিজেকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একনিষ্ঠ কর্মী দাবি করে সাধারণ শিক্ষকদের হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ফান্ডের টাকা আত্মসাৎ ও শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এখন তাঁর নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
অভিযুক্ত শিক্ষক সাহেবুল ইসলাম সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “একটি মহল আমাকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছে। জেল খাটার বিষয়টিও ছিল সাজানো।”
সিংহের প্রতাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফোন রিসিভ না করলেও উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. তাশেমউদ্দিন জানান, “ক্লাস ফাঁকি দিয়ে উপজেলা সদরে ঘোরাঘুরি করার বিষয়টি দুঃখজনক। সাহেবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা সকল অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




















