ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘরে ঢুকে বিএনপি নেতাকে এলোপাতাড়ি গুলি

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫
  • / 315

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী দুর্বৃত্তদের গুলিতে ও ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (৫ অক্টোবর) দিনগত রাতে ইউনিয়নের লিংকরোড বিসিক শিল্প এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিএনপির অভিযোগ, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে।

যেভাবে ঘটল হামলা

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে এসে ঘরে ঢুকে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটায়।

হামলার ধরন: দুটি মোটরসাইকেলে করে চার যুবক এসে লিয়াকত আলীর ঘরে ঢুকে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

নিরাপত্তাকর্মী আহত: ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদ উল্লাহ ও স্থানীয় যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীন জানান, হামলাকারীরা লিয়াকতকে গুলি করার পাশাপাশি তাঁর ঘরের এক নিরাপত্তাকর্মীর পায়ের রগ কেটে দেয়। তাকেও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিএনপি’র অভিযোগ ও চিহ্নিত আসামি

বিএনপি নেতাদের দাবি, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় এই হামলা চালানো হয়েছে এবং লিয়াকত আলী নিজেই হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন।

চাঁদাবাজির প্রতিবাদ: কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাইফুল্লাহ নুর অভিযোগ করেন, লিয়াকত আলী লিংকরোড এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সন্ত্রাসী আবদুল খালেকের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে।

আসামি চিহ্নিত: বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী নিজেও জানিয়েছেন, হামলায় অংশ নেওয়া সন্ত্রাসী আবদুল খালেক, কুদরত উল্লাহ ও সাহাব উদ্দিনকে তিনি চিনতে পেরেছেন।

স্থানীয় বিরোধ ও পুলিশের তৎপরতা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিয়াকত আলীর সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেকের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলাও রয়েছে। অতীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আবদুল খালেকের স্ত্রীও খুন হয়েছিলেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বিসিক এলাকায় গ্রেফতার অভিযান শুরু করে। তবে রাত ১১টা পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি এবং এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি।

বিক্ষোভ ও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

এই হামলার প্রতিবাদে রাতে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল কর্মীরা লিংকরোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন, যার ফলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না হলে তাঁরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

ঘরে ঢুকে বিএনপি নেতাকে এলোপাতাড়ি গুলি

আপডেট সময় : ১১:১৫:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী দুর্বৃত্তদের গুলিতে ও ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর আহত হয়েছেন। গতকাল রোববার (৫ অক্টোবর) দিনগত রাতে ইউনিয়নের লিংকরোড বিসিক শিল্প এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিএনপির অভিযোগ, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে।

যেভাবে ঘটল হামলা

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, হামলাকারীরা মোটরসাইকেলযোগে এসে ঘরে ঢুকে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটায়।

হামলার ধরন: দুটি মোটরসাইকেলে করে চার যুবক এসে লিয়াকত আলীর ঘরে ঢুকে তাঁকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

নিরাপত্তাকর্মী আহত: ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদ উল্লাহ ও স্থানীয় যুবদল নেতা জয়নাল আবেদীন জানান, হামলাকারীরা লিয়াকতকে গুলি করার পাশাপাশি তাঁর ঘরের এক নিরাপত্তাকর্মীর পায়ের রগ কেটে দেয়। তাকেও কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিএনপি’র অভিযোগ ও চিহ্নিত আসামি

বিএনপি নেতাদের দাবি, চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় এই হামলা চালানো হয়েছে এবং লিয়াকত আলী নিজেই হামলাকারীদের চিনতে পেরেছেন।

চাঁদাবাজির প্রতিবাদ: কক্সবাজার সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সাইফুল্লাহ নুর অভিযোগ করেন, লিয়াকত আলী লিংকরোড এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় স্থানীয় সন্ত্রাসী আবদুল খালেকের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে।

আসামি চিহ্নিত: বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী নিজেও জানিয়েছেন, হামলায় অংশ নেওয়া সন্ত্রাসী আবদুল খালেক, কুদরত উল্লাহ ও সাহাব উদ্দিনকে তিনি চিনতে পেরেছেন।

স্থানীয় বিরোধ ও পুলিশের তৎপরতা

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিয়াকত আলীর সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত আবদুল খালেকের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলাও রয়েছে। অতীতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আবদুল খালেকের স্ত্রীও খুন হয়েছিলেন।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান জানান, গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং বিসিক এলাকায় গ্রেফতার অভিযান শুরু করে। তবে রাত ১১টা পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি এবং এ বিষয়ে এখনো কোনো মামলা হয়নি।

বিক্ষোভ ও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

এই হামলার প্রতিবাদে রাতে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল কর্মীরা লিংকরোড এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন, যার ফলে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

বিএনপি নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না হলে তাঁরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।