ঢাকা ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে সাক্ষী দেওয়ায় ইউপি সদস্যের স্বামীকে হাতুড়ি পেটা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
  • / 265

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আদালতে সাক্ষী দেওয়ার ‘অপরাধে’ এক নারী ইউপি সদস্যের স্বামীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত বিধান সাকারী (৫০) ওই এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য শ্যামলি সাকারীর স্বামী।

হামলার নৃশংস বর্ণনা:

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮টার দিকে তেতুলিয়া মোড়ে জয়ন্ত বিশ্বাসের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন বিধান সাকারী। এসময় পূর্ব শত্রুতার জেরে পৌর মন্ডল ও তার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বিধানের দুই পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সরাসরি ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সাক্ষী দেওয়ায় প্রতিহিংসা:

ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্ব কদমী গ্রামের বাসিন্দা গফুর মোল্যার ১৩২ শতক জমি নিয়ে পৌর মন্ডল গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। ওই মামলায় বিধান সাকারী গফুর মোল্যার পক্ষে আদালতে সাক্ষ্য দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পৌর মন্ডল ও তার লোকেরা বিধানকে এর আগেও মারধর এবং গাছের সাথে বেঁধে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। চায়ের দোকানদার জয়ন্ত বিশ্বাসও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রকাশ্যেই হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এই পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশি অ্যাকশন ও গ্রেপ্তার:

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বোয়ালমারী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো—তেতুলিয়া গ্রামের প্রমথো (৬০), গোপাল মন্ডল (৪৫), রতন বিশ্বাস (৬০), আনন্দ মন্ডল (৬০), বাবুল মন্ডল (৩৩) ও ধন্য (২৯)।

ওসির বক্তব্য:

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, “ইউপি সদস্যের স্বামীকে মারধরের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”

ফরিদপুরে সাক্ষী দেওয়ায় ইউপি সদস্যের স্বামীকে হাতুড়ি পেটা

আপডেট সময় : ১১:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে আদালতে সাক্ষী দেওয়ার ‘অপরাধে’ এক নারী ইউপি সদস্যের স্বামীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুই পা ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের তেতুলিয়া গ্রামে এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। আহত বিধান সাকারী (৫০) ওই এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য শ্যামলি সাকারীর স্বামী।

হামলার নৃশংস বর্ণনা:

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ৮টার দিকে তেতুলিয়া মোড়ে জয়ন্ত বিশ্বাসের চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলেন বিধান সাকারী। এসময় পূর্ব শত্রুতার জেরে পৌর মন্ডল ও তার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্র ও হাতুড়ি নিয়ে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বিধানের দুই পা শরীর থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সরাসরি ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সাক্ষী দেওয়ায় প্রতিহিংসা:

ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে জানা যায়, পূর্ব কদমী গ্রামের বাসিন্দা গফুর মোল্যার ১৩২ শতক জমি নিয়ে পৌর মন্ডল গংদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে মামলা চলছে। ওই মামলায় বিধান সাকারী গফুর মোল্যার পক্ষে আদালতে সাক্ষ্য দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে পৌর মন্ডল ও তার লোকেরা বিধানকে এর আগেও মারধর এবং গাছের সাথে বেঁধে রেখে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। চায়ের দোকানদার জয়ন্ত বিশ্বাসও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রকাশ্যেই হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে এই পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

পুলিশি অ্যাকশন ও গ্রেপ্তার:

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বোয়ালমারী থানা পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো—তেতুলিয়া গ্রামের প্রমথো (৬০), গোপাল মন্ডল (৪৫), রতন বিশ্বাস (৬০), আনন্দ মন্ডল (৬০), বাবুল মন্ডল (৩৩) ও ধন্য (২৯)।

ওসির বক্তব্য:

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন জানান, “ইউপি সদস্যের স্বামীকে মারধরের খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।”