ঢাকা ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা: ২৬ ঘণ্টা থানায় স্বজনদের আহাজারি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১১:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • / 221

ফরিদপুরের সিএন্ডবি ঘাট নৌ-বন্দরে বলগেটের সুকানি বকিয়ার রহমান সুমনকে (৪০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১ মে) ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, সুমনকে হত্যা করে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া দীর্ঘ ২৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেছে।

নিহত বকিয়ার রহমান সুমন নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের পুরাতন ধানাইড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চার ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। গত এক বছর ধরে তিনি ফরিদপুর সদরের সিএন্ডবি ঘাট এলাকায় ‘আলতাফ শেখ’ নামের একটি বলগেটে সুকানি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত:

পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে বলগেটের আব্বাস নামের এক শ্রমিক সুমনের পরিবারকে ফোন করে জানায়, সুমন গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এবং তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে স্বজনরা বিকেলে হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন।

নিহতের বড় ভাই জিল্লুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে দেখি সুমনের গলায় কোনো দাগ নেই, কিন্তু তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও রক্ত রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে আত্মহত্যা করার মতো কোনো আলামত বা চিহ্নও পাওয়া যায়নি। দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

থানায় দীর্ঘ অপেক্ষা ও পুলিশের আচরণ:

নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কোতোয়ালি থানায় অপেক্ষা করেও তারা কোনো সহযোগিতা পাননি। এ সময় নিহতের বোন আয়েশা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ আমাদের কোনো অভিযোগ নিতে চাচ্ছিল না। উল্টো বলছে, সুমন আত্মহত্যা করেছে। আমাদের বাড়ি নড়াইলে হওয়ায় প্রভাবশালী মহলের সাথে আঁতাত করে পুলিশ আমাদের কোনো সহায়তা করছে না।’

পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় শুক্রবার বিকেলে নিহতের বড় ভাই জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিকেল ৫টার পর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে নড়াইলের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পুলিশের বক্তব্য:

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর মূল রহস্য উদঘাটন হবে। তিনি আরও জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে যুবককে পিটিয়ে হত্যা: ২৬ ঘণ্টা থানায় স্বজনদের আহাজারি

আপডেট সময় : ১১:০৫:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

ফরিদপুরের সিএন্ডবি ঘাট নৌ-বন্দরে বলগেটের সুকানি বকিয়ার রহমান সুমনকে (৪০) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১ মে) ময়নাতদন্ত শেষে নিহতের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, সুমনকে হত্যা করে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এছাড়া দীর্ঘ ২৬ ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযোগ গ্রহণ করেছে।

নিহত বকিয়ার রহমান সুমন নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার জয়পুর ইউনিয়নের পুরাতন ধানাইড় গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চার ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন। গত এক বছর ধরে তিনি ফরিদপুর সদরের সিএন্ডবি ঘাট এলাকায় ‘আলতাফ শেখ’ নামের একটি বলগেটে সুকানি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত:

পারিবারিক সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে বলগেটের আব্বাস নামের এক শ্রমিক সুমনের পরিবারকে ফোন করে জানায়, সুমন গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে এবং তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে স্বজনরা বিকেলে হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং পুলিশে খবর দেন।

নিহতের বড় ভাই জিল্লুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে দেখি সুমনের গলায় কোনো দাগ নেই, কিন্তু তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও রক্ত রয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলে আত্মহত্যা করার মতো কোনো আলামত বা চিহ্নও পাওয়া যায়নি। দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’

থানায় দীর্ঘ অপেক্ষা ও পুলিশের আচরণ:

নিহতের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে শুক্রবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কোতোয়ালি থানায় অপেক্ষা করেও তারা কোনো সহযোগিতা পাননি। এ সময় নিহতের বোন আয়েশা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশ আমাদের কোনো অভিযোগ নিতে চাচ্ছিল না। উল্টো বলছে, সুমন আত্মহত্যা করেছে। আমাদের বাড়ি নড়াইলে হওয়ায় প্রভাবশালী মহলের সাথে আঁতাত করে পুলিশ আমাদের কোনো সহায়তা করছে না।’

পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় শুক্রবার বিকেলে নিহতের বড় ভাই জিল্লুর রহমান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিকেল ৫টার পর স্বজনরা মরদেহ নিয়ে নড়াইলের গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন।

পুলিশের বক্তব্য:

এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর মূল রহস্য উদঘাটন হবে। তিনি আরও জানান, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।