ঢাকা ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জনপ্রতিনিধি হয়েও ভিক্ষা করেন পেয়ারা বেগম, নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই

নিজস্ব প্রতিবেদক নাঙ্গলকোট (কুমিল্লা)
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫
  • / 267

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পূর্ব ইউপির সদস্য পেয়ারা বেগম (৪৫) জনপ্রতিনিধি হয়েও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছেন। সংসার চালাতে তাকে জনগণের কাছে হাত পাততে হয়।

 বাসস্থান ও পরিবার:

তিনটি ওয়ার্ডের নেতৃত্ব দেওয়া এই নারীর নিজেরই বসবাসের জন্য কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই। পেয়ারা বেগম জোড্ডা পূর্ব ইউপির দক্ষিণ শ্রীহাস্য গ্রামের আলি আহমেদের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি উপজেলার শ্রীহাস্য বাজারের পূর্ব পাশে মোকরা ইউপির চাঁন্দগড়া গ্রামের মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির জায়গায় নড়বড়ে টিনের ঘরে এক প্রতিবন্ধী ছেলেসহ চার সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন।

 নিঃস্ব হওয়ার কারণ:

জানা যায়, ১৯৯৯ সালে পেয়ারা বেগমের বিয়ে হয় এবং আড়াই বছর পর তার একটি পুত্র সন্তান হয়। তবে ভাগ্যের পরিহাসে ছেলেটি শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি তার স্বামীর থাকা শেষ ছয় শতক জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তিনি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে শুরু করেন এবং ভূমিহীন হয়ে যান।

 নির্বাচনে জয় ও ভাগ্যের পরিবর্তন:

২০২২ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পেয়ারা বেগম জোড্ডা পূর্ব ইউপির সংরক্ষিত মহিলা আসন ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে তিন জন প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরেও তার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি।

 জীবনযাত্রা:

তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের ও সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য ভিক্ষা করতে বাধ্য হন। পেয়ারা বেগমের বড় ছেলে পেয়ার আহমেদ (২৩) শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও তিনি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন না। এই প্রতিবন্ধী যুবক ট্রেনে ট্রেনে ভিক্ষা করে সংসারের কিছুটা দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

 পেয়ারা বেগমের ভাষ্য:

জনপ্রতিনিধি পেয়ারা বেগম জানান, বিয়ের পর তার প্রথম সন্তান প্রতিবন্ধী হয়। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি নিরুপায় হয়ে ভিক্ষা করতে শুরু করেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরেও তিনি সৎপথে থেকে জনগণের সেবা করে যাচ্ছেন। তবে চার সন্তান ও অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে সংসার চালাতে তাকে এখনও জনগণের কাছে হাত পাততে হচ্ছে।

 স্থানীয়দের মন্তব্য:

স্থানীয় ও গণমাধ্যমকর্মী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, পেয়ারা বেগমের সততা এবং সরলতা এলাকার মানুষকে মুগ্ধ করেছে, যে কারণে জনগণ তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরেও তিনি নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেননি এবং এখনও ভিক্ষা করেই তার সংসার চলে।

 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাস:

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, পেয়ারা বেগমের পরিবারের এমন অস্বচ্ছলতার বিষয়টি তার আগে জানা ছিল না। তিনি খোঁজখবর নিয়ে সরকারি খাস জায়গায় তার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি তার যেন আর ভিক্ষা করতে না হয়, সেদিকেও তিনি নজর রাখবেন।

জনপ্রতিনিধি হয়েও ভিক্ষা করেন পেয়ারা বেগম, নেই মাথা গোঁজার ঠাঁই

আপডেট সময় : ০৪:৫৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল ২০২৫

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার জোড্ডা পূর্ব ইউপির সদস্য পেয়ারা বেগম (৪৫) জনপ্রতিনিধি হয়েও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছেন। সংসার চালাতে তাকে জনগণের কাছে হাত পাততে হয়।

 বাসস্থান ও পরিবার:

তিনটি ওয়ার্ডের নেতৃত্ব দেওয়া এই নারীর নিজেরই বসবাসের জন্য কোনো স্থায়ী ঠিকানা নেই। পেয়ারা বেগম জোড্ডা পূর্ব ইউপির দক্ষিণ শ্রীহাস্য গ্রামের আলি আহমেদের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি উপজেলার শ্রীহাস্য বাজারের পূর্ব পাশে মোকরা ইউপির চাঁন্দগড়া গ্রামের মোস্তফা নামে এক ব্যক্তির জায়গায় নড়বড়ে টিনের ঘরে এক প্রতিবন্ধী ছেলেসহ চার সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন।

 নিঃস্ব হওয়ার কারণ:

জানা যায়, ১৯৯৯ সালে পেয়ারা বেগমের বিয়ে হয় এবং আড়াই বছর পর তার একটি পুত্র সন্তান হয়। তবে ভাগ্যের পরিহাসে ছেলেটি শারীরিক প্রতিবন্ধী হয়। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি তার স্বামীর থাকা শেষ ছয় শতক জমি বিক্রি করে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এরপর থেকে তিনি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করতে শুরু করেন এবং ভূমিহীন হয়ে যান।

 নির্বাচনে জয় ও ভাগ্যের পরিবর্তন:

২০২২ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে পেয়ারা বেগম জোড্ডা পূর্ব ইউপির সংরক্ষিত মহিলা আসন ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে তিন জন প্রার্থীকে হারিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরেও তার ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি।

 জীবনযাত্রা:

তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজের ও সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য ভিক্ষা করতে বাধ্য হন। পেয়ারা বেগমের বড় ছেলে পেয়ার আহমেদ (২৩) শারীরিক প্রতিবন্ধী হলেও তিনি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন না। এই প্রতিবন্ধী যুবক ট্রেনে ট্রেনে ভিক্ষা করে সংসারের কিছুটা দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছেন।

 পেয়ারা বেগমের ভাষ্য:

জনপ্রতিনিধি পেয়ারা বেগম জানান, বিয়ের পর তার প্রথম সন্তান প্রতিবন্ধী হয়। সন্তানের চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি নিরুপায় হয়ে ভিক্ষা করতে শুরু করেন। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পরেও তিনি সৎপথে থেকে জনগণের সেবা করে যাচ্ছেন। তবে চার সন্তান ও অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে সংসার চালাতে তাকে এখনও জনগণের কাছে হাত পাততে হচ্ছে।

 স্থানীয়দের মন্তব্য:

স্থানীয় ও গণমাধ্যমকর্মী মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, পেয়ারা বেগমের সততা এবং সরলতা এলাকার মানুষকে মুগ্ধ করেছে, যে কারণে জনগণ তাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করেছেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হওয়ার পরেও তিনি নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাতে পারেননি এবং এখনও ভিক্ষা করেই তার সংসার চলে।

 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আশ্বাস:

নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল আমিন সরকার বলেন, পেয়ারা বেগমের পরিবারের এমন অস্বচ্ছলতার বিষয়টি তার আগে জানা ছিল না। তিনি খোঁজখবর নিয়ে সরকারি খাস জায়গায় তার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি তার যেন আর ভিক্ষা করতে না হয়, সেদিকেও তিনি নজর রাখবেন।