ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬
  • / 150

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় নির্বাচন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (৩১ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতরা হলেন— পিয়ারপুর এলাকার রহমত মণ্ডলের ছেলে মো. ফুরকান কসাই (৫৫), হাজেদ্দিনের ছেলে মো. এছেম (৫০) এবং আতর আলী কবিরাজের ছেলে মো. ফিরোজ (৪৮)। তাঁদের উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার নেপথ্যে নির্বাচনী বিরোধ:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়ারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল হক এবং সাবেক ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুনতাজের মধ্যে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ ও ঠাণ্ডা লড়াই চলে আসছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই বিরোধের জের ধরেই রোববার রাতে সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল হকের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ৮-১০ জন ব্যক্তি অতর্কিতভাবে পিয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে।

ঘটনার সময় ওই কার্যালয়ে যুবদল নেতা মুনতাজের ৮ থেকে ১০ জন কর্মী-সমর্থক অবস্থান করছিলেন। আচমকা ককটেল বিস্ফোরণে ফুরকান কসাই, এছেম এবং ফিরোজ গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পাল্টাপাল্টি বক্তব্য:

হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে আমার বা আমার সমর্থকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা নিজেরাই নিজেদের অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের ফাঁসানোর এবং অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে।” এই বিষয়ে অন্য পক্ষের নেতা মুনতাজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান মন্টি সরকার বলেন, “দলীয় কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, বিএনপি অফিসে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

বিএনপি কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩

আপডেট সময় : ০২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুন ২০২৬

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় নির্বাচন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একটি ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে ভয়াবহ ককটেল বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় কার্যালয়ের ভেতরে থাকা অন্তত তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। রোববার (৩১ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার পিয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ককটেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আহতরা হলেন— পিয়ারপুর এলাকার রহমত মণ্ডলের ছেলে মো. ফুরকান কসাই (৫৫), হাজেদ্দিনের ছেলে মো. এছেম (৫০) এবং আতর আলী কবিরাজের ছেলে মো. ফিরোজ (৪৮)। তাঁদের উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলার নেপথ্যে নির্বাচনী বিরোধ:

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়ারপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল হক এবং সাবেক ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মুনতাজের মধ্যে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক বিরোধ ও ঠাণ্ডা লড়াই চলে আসছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই বিরোধের জের ধরেই রোববার রাতে সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল হকের সমর্থক হিসেবে পরিচিত ৮-১০ জন ব্যক্তি অতর্কিতভাবে পিয়ারপুর ইউনিয়ন বিএনপি কার্যালয় লক্ষ্য করে কয়েকটি ককটেল নিক্ষেপ করে।

ঘটনার সময় ওই কার্যালয়ে যুবদল নেতা মুনতাজের ৮ থেকে ১০ জন কর্মী-সমর্থক অবস্থান করছিলেন। আচমকা ককটেল বিস্ফোরণে ফুরকান কসাই, এছেম এবং ফিরোজ গুরুতর আহত হন। বিস্ফোরণের পরপরই হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

পাল্টাপাল্টি বক্তব্য:

হামলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সাবেক চেয়ারম্যান জহুরুল হক বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে আমার বা আমার সমর্থকদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা নিজেরাই নিজেদের অফিসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আমাদের ফাঁসানোর এবং অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে।” এই বিষয়ে অন্য পক্ষের নেতা মুনতাজের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দৌলতপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবিদ হাসান মন্টি সরকার বলেন, “দলীয় কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

পুলিশের বক্তব্য ও বর্তমান পরিস্থিতি

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, বিএনপি অফিসে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।