ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খেলনা ভেবে হাতে নেয় শিশু, বিস্ফোরণে মৃত্যু , বসতঘরে বোমা এল কোথা থেকে?

নিজস্ব প্রতিবেদক যশোর
  • আপডেট সময় : ১০:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫
  • / 471

যশোর শহরের শংকরপুর জমাদ্দারপাড়া এলাকায় একটি বসতঘরে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে সাত বছরের শিশু খাদিজা নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে তার দুই ভাইবোন সজীব (৫) ও আয়েশা (৩)। সোমবার সকাল ৮টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই শিশুদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। খাদিজা ও সজীবের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পথে খাদিজা মারা যায়।

হতাহতদের পরিবার ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট

নিহত খাদিজা ও আহত সজীব শহিদুল ইসলাম সুজন ও সুমি খাতুনের সন্তান। শহিদুল আত্মহত্যা করলে, তার ছোট ভাই শাহাদত গাজী সুমিকে বিয়ে করেন। তাদের সন্তান আয়েশা। বর্তমানে এই পরিবারটি শংকরপুরের একটি আধাপাকা টিনশেড ঘরে বসবাস করে। শাহাদত কখনো হকারি, কখনো বাদাম বিক্রি করে সংসার চালান।

বিস্ফোরণের সময়ের বর্ণনা

সোমবার সকালে মা-বাবা কাজে গেলে, তিন শিশু ঘরে খেলা করছিল। বাড়ির সামনে খেলার মাঠ থেকে কুড়িয়ে আনা একটি বস্তু—যেটি দেখতে খেলনার বলের মতো ছিল—তা নিয়ে ঘরে খেলছিল খাদিজা। হঠাৎ করে সেটি বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে শিশুরা।

খাদিজার মা সুমি বলেন,
“আমি বের হওয়ার সময় দেখেছি ওদের হাতে লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো বলের মতো কিছু একটা। ভেবেছিলাম খেলনা বল। কে জানত ওটা বোমা! আমার নাড়িছেঁড়া ধন এভাবে চলে যাবে বুঝতে পারিনি।”

স্থানীয়দের সন্দেহ ও প্রশাসনের তৎপরতা

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্ত শাহাদত গাজী, যিনি স্থানীয় সন্ত্রাসী মুসার সহযোগী হিসেবে পরিচিত, হয়তো নিজেই ঘরে বোমাটি রেখে গিয়েছিলেন।

শিশুর দাদি মনোয়ারা বেগম বলেন,
“সকালবেলা উঠানে বসে খাবার খাচ্ছিলাম, হঠাৎ ঘর থেকে বিকট শব্দ শুনি। গিয়ে দেখি শিশুরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।”

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তদন্ত

খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে যশোরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। দুপুরে সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের বোম ডিসপোজাল টিম আসে এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা অভিযান চালায়।

বোম ডিসপোজাল টিমের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন রিফাত বলেন,
“বিস্ফোরিত বস্তুটি স্থানীয়ভাবে তৈরি। টিনের কৌটা, লাল টেপ ও কাঁচ পাওয়া গেছে। সম্ভবত দুর্বৃত্তরা কোনো নাশকতার উদ্দেশ্যে বোমাটি রেখেছিল।”

তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন,
“ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, না পরিকল্পিত নাশকতা—তা আমরা তদন্ত করে দেখছি। কিভাবে ককটেল বসতঘরে এল, সেটা বের করার চেষ্টা চলছে।”

শিশু খাদিজার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে।

খেলনা ভেবে হাতে নেয় শিশু, বিস্ফোরণে মৃত্যু , বসতঘরে বোমা এল কোথা থেকে?

আপডেট সময় : ১০:৫৫:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ মে ২০২৫

যশোর শহরের শংকরপুর জমাদ্দারপাড়া এলাকায় একটি বসতঘরে ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে সাত বছরের শিশু খাদিজা নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে তার দুই ভাইবোন সজীব (৫) ও আয়েশা (৩)। সোমবার সকাল ৮টার দিকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের পরপরই শিশুদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। খাদিজা ও সজীবের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পথে খাদিজা মারা যায়।

হতাহতদের পরিবার ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট

নিহত খাদিজা ও আহত সজীব শহিদুল ইসলাম সুজন ও সুমি খাতুনের সন্তান। শহিদুল আত্মহত্যা করলে, তার ছোট ভাই শাহাদত গাজী সুমিকে বিয়ে করেন। তাদের সন্তান আয়েশা। বর্তমানে এই পরিবারটি শংকরপুরের একটি আধাপাকা টিনশেড ঘরে বসবাস করে। শাহাদত কখনো হকারি, কখনো বাদাম বিক্রি করে সংসার চালান।

বিস্ফোরণের সময়ের বর্ণনা

সোমবার সকালে মা-বাবা কাজে গেলে, তিন শিশু ঘরে খেলা করছিল। বাড়ির সামনে খেলার মাঠ থেকে কুড়িয়ে আনা একটি বস্তু—যেটি দেখতে খেলনার বলের মতো ছিল—তা নিয়ে ঘরে খেলছিল খাদিজা। হঠাৎ করে সেটি বিস্ফোরিত হয়। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকে শিশুরা।

খাদিজার মা সুমি বলেন,
“আমি বের হওয়ার সময় দেখেছি ওদের হাতে লাল টেপ দিয়ে মোড়ানো বলের মতো কিছু একটা। ভেবেছিলাম খেলনা বল। কে জানত ওটা বোমা! আমার নাড়িছেঁড়া ধন এভাবে চলে যাবে বুঝতে পারিনি।”

স্থানীয়দের সন্দেহ ও প্রশাসনের তৎপরতা

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকাসক্ত শাহাদত গাজী, যিনি স্থানীয় সন্ত্রাসী মুসার সহযোগী হিসেবে পরিচিত, হয়তো নিজেই ঘরে বোমাটি রেখে গিয়েছিলেন।

শিশুর দাদি মনোয়ারা বেগম বলেন,
“সকালবেলা উঠানে বসে খাবার খাচ্ছিলাম, হঠাৎ ঘর থেকে বিকট শব্দ শুনি। গিয়ে দেখি শিশুরা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।”

পুলিশ ও সেনাবাহিনীর তদন্ত

খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে যশোরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান, সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। দুপুরে সেনাবাহিনীর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের বোম ডিসপোজাল টিম আসে এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা অভিযান চালায়।

বোম ডিসপোজাল টিমের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন রিফাত বলেন,
“বিস্ফোরিত বস্তুটি স্থানীয়ভাবে তৈরি। টিনের কৌটা, লাল টেপ ও কাঁচ পাওয়া গেছে। সম্ভবত দুর্বৃত্তরা কোনো নাশকতার উদ্দেশ্যে বোমাটি রেখেছিল।”

তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন,
“ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা, না পরিকল্পিত নাশকতা—তা আমরা তদন্ত করে দেখছি। কিভাবে ককটেল বসতঘরে এল, সেটা বের করার চেষ্টা চলছে।”

শিশু খাদিজার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং গোয়েন্দা সংস্থাও কাজ করছে।