ফরিদপুরে দিনদুপুরে যুবকের হাত-পায়ের রগ কেটে দিল সন্ত্রাসীরা
- আপডেট সময় : ০৯:৫২:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 114
আদালতের আশপাশ যেখানে আইনের রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত, সেখানেই ভরদুপুরে ঘটল চরম নৃশংসতা! শহরের প্রাণকেন্দ্রের আদালতপাড়া থেকে এক তরুণকে দিনে-দুপুরে সবার সামনে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে গিয়ে কোপানো হলো নির্মমভাবে। হাত ও দুই পায়ের রগ কেটে দিয়ে ফেলে রাখা হলো রেললাইনের ধারে—ফরিদপুর শহরের বুকে এ যেন এক ভয়াল ও মধ্যযুগীয় বর্বরতার চিত্র!
ফরিদপুর শহরের অত্যন্ত জনবহুল ও সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত আদালতপাড়া থেকে মো. বাচ্চু খাঁ (৩২) নামের এক ডেকোরেটর শ্রমিককে দিনদুপুরে ইজিবাইকে তুলে নিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে কুপিয়ে জখম করেছে সন্ত্রাসীরা।
গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুর শহরের লাশকাটা ঘর বস্তি সংলগ্ন রেললাইনের পাশে এই রোমহর্ষক ও নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
পরে স্থানীয় আশপাশের এলাকাবাসী আশঙ্কাজনক অবস্থায় রক্তাক্ত বাচ্চু খাঁকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালিত ট্রমা সেন্টারে ভর্তি করেন।
আদালতপাড়া থেকে অপহরণ ও নৃশংস হামলা
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহত বাচ্চু খাঁ ফরিদপুর শহরের লক্ষ্মীপুর ডগবস্তি এলাকার রিকশাচালক মো. লাবলু খাঁর ছেলে। স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। নিজে ডেকোরেটর শ্রমিক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন।
আহত বাচ্চু খাঁর ভাই মো. বাদল খাঁ জানান, গত বৃহস্পতিবার সকালে বাচ্চু তাঁর এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে শহরের আদালতপাড়া এলাকায় গিয়েছিলেন। ঠিক সেই সময়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী তাঁকে ঘেরাও করে জোরপূর্বক একটি ইজিবাইকে তুলে নিয়ে যায়।
এরপর সন্ত্রাসীরা বাচ্চুকে লাশকাটা ঘর বস্তি সংলগ্ন ফাঁকা রেললাইনের পাশে নিয়ে যায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলেপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। পরিবারের অভিযোগ, হামলা চালানোর সময় সন্ত্রাসীরা বাচ্চুর বাঁ হাতের এবং দুই পায়ের রগ অত্যন্ত নির্মমভাবে কেটে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
পুলিশের তৎপরতা ও তদন্তের নির্দেশ
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ফরিদপুর শহরজুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ফরিদপুরের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এক যুবককে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে ফরিদপুর ট্রমা সেন্টারে পুলিশের একটি বিশেষ দল পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।










