শ্রমিক আন্দোলনের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা
- আপডেট সময় : ০৭:১৮:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
- / 47
ন্যূনতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকদের ক্ষোভ যেমন ন্যায্য হতে পারে, তেমনই সেই ক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলে নিজের স্বার্থ হাসিলের ফন্দিও কি আঁটছে কোনো গোপন চক্র? পোশাকশ্রমিকদের রাজপথের লড়াইয়ের আড়ালে অন্য এক রাজনৈতিক সমীকরণ উন্মোচিত হতে শুরু করেছে। গাজীপুরের বিক্ষোভের ফ্রন্টলাইনে দেখা মিলেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক জবি শাখা নেতার—যার ভিডিও সামনে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয়েছে চরম তোলপাড়।
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের যৌক্তিক দাবিতে কয়েক দিন ধরে রাজধানীসহ শিল্পাঞ্চলগুলোতে পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ৬ সদস্যের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণের স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তবে এর পরও বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে।
পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের দাবি ছিল—সাধারণ শ্রমিকদের ঢাল বানিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র এই আন্দোলনে উসকানি দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশ্লেষণ এবং সম্প্রতি ফাঁস হওয়া একটি ভিডিও ফুটেজ গোয়েন্দাদের সেই ধারণাকেই জোরালোভাবে সত্য প্রমাণিত করেছে।
ভিডিওর পেছনের আসল মুখ: গাজীপুরের রাজপথে জবি ছাত্রলীগ নেতা
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের আন্দোলনের নামে চরম অরাজকতা ও উসকানিমূলক নেতৃত্ব দেওয়ার একটি ভিডিও সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়ে। সেই ভিডিও বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মিছিলে সাধারণ শ্রমিকের ছদ্মবেশে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাজবুল ইসলাম নামের এক তরুণ।
অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সাজবুল ইসলাম কোনো গার্মেন্টস কর্মী নন; তিনি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। তার নিজস্ব ফেসবুক পেজ এবং কার্যক্রম খতিয়ে দেখে এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা মিলেছে। এর ফলে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে তৈরি পোশাক খাতের উত্তাল পরিস্থিতিকে পুঁজি করে অস্থিতিশীলতা তৈরির ছক কষা হচ্ছিল।
‘রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠী আন্দোলনে যুক্ত হয়ে অরাজকতা করছে’: ডিএমপি
শ্রমিক আন্দোলন উসকে দেওয়ার পেছনে সাজবুলের মতো আরও অনেকে সক্রিয় রয়েছে বলে মনে করছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী বেশ কিছু গোষ্ঠী ও দুষ্কৃতকারীরা সাধারণ শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে এই আন্দোলনে ঢুকে পড়ছে এবং অরাজকতা বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে পুলিশ অত্যন্ত ধৈর্য ও শান্তভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।
ডিএমপির এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, “মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়টি ইতিমধ্যেই দেশের সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। সরকারের সদিচ্ছা স্পষ্ট। এর পরও সড়ক অবরুদ্ধ করে চরম জনভোগান্তি সৃষ্টি করা কিংবা ভাঙচুর-সহিংসতার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।”










