ঢাকা ০২:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সভাপতির ছেলের এইচএসসি পাসের খবরে ছাত্রদলের জেলা কমিটি বিলুপ্ত

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
  • / 159

ছেলের এইচএসসি পাসের পোস্টের পরই কোপ! বিলুপ্ত হলো চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর ছাত্রদল কমিটি
রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আনন্দ আর দলীয় শৃঙ্খলার রেখাটি কি বড্ড চিকন? ছেলের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খুশিতে নেতার আবেগঘন ফেসবুক পোস্টের একদিন না পেরোতেই এল চরম সাংগঠনিক আঘাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া তীব্র সমালোচনার ঝড়ের মাঝেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটি।

ছেলের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ প্রকাশের ঠিক পরদিনই নাটকীয়ভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি। একই সঙ্গে মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ।

রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছে

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানানো হয় যে, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা শাখার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। খুব দ্রুতই এই দুটি সাংগঠনিক ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

যে বিতর্কের জেরে এত বড় সিদ্ধান্ত

এর আগে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল। সেই ফলে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে কৃতকার্য হন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান মিয়ার ছেলে মাহির। ছেলের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে জেলা ছাত্রদল সভাপতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ছেলের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন— “আলহামদুলিল্লাহ। অনেক অনেক ভালবাসা, দোয়া ও শুভ কামনা রইলো বাজান।”

এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। একজন দীর্ঘসময়ের ছাত্রদল নেতার সাবালক বা কলেজপড়ুয়া সন্তান থাকা এবং তার ছাত্রদলের রাজনীতিতে পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

সমালোচনার মুখে নেতার সাফাই ও ক্ষোভ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা এই বিতর্কের পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান মিয়া। তিনি সাফ জানান, ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত। কিন্তু বিগত ১৭ বছর দল ক্ষমতার বাইরে থাকায় তখন অনেকে ছাত্রদল করার লোকই পেত না। সেই বিশেষ পরিস্থিতিতে তাকে সভাপতি করা হয়েছিল এবং ২০১৮ সালের সেই কমিটি এতদিন বহাল ছিল।

সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি সে সময় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “বিয়ে-শাদি মানুষ করবে না? বাচ্চা-কাচ্চা হবে না? আমার ছেলে ভালো কিছু করে, তার জন্য কি আমি আমার মনের আকাঙ্ক্ষা জানাতে পারব না?” তিনি আরও দাবি করেছিলেন, কমিটি গঠন বা ভাঙা দলের ওপর নির্ভর করে, ব্যক্তিগত ইচ্ছায় কিছু হয় না। বর্তমানে তার বয়স যুবদলের হলেও দলের নির্দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেই তিনি ছাত্রদলের পদে ছিলেন।

সভাপতির ছেলের এইচএসসি পাসের খবরে ছাত্রদলের জেলা কমিটি বিলুপ্ত

আপডেট সময় : ০৮:৩৩:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ছেলের এইচএসসি পাসের পোস্টের পরই কোপ! বিলুপ্ত হলো চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর ছাত্রদল কমিটি
রাজনীতিতে ব্যক্তিগত আনন্দ আর দলীয় শৃঙ্খলার রেখাটি কি বড্ড চিকন? ছেলের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খুশিতে নেতার আবেগঘন ফেসবুক পোস্টের একদিন না পেরোতেই এল চরম সাংগঠনিক আঘাত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া তীব্র সমালোচনার ঝড়ের মাঝেই বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটি।

ছেলের এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার খবর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই আনন্দের বহিঃপ্রকাশ প্রকাশের ঠিক পরদিনই নাটকীয়ভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি। একই সঙ্গে মেহেরপুর জেলা ছাত্রদলের কমিটিও বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ।

রবিবার (১ নভেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে যা বলা হয়েছে

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানানো হয় যে, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর জেলা শাখার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। খুব দ্রুতই এই দুটি সাংগঠনিক ইউনিটের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।

যে বিতর্কের জেরে এত বড় সিদ্ধান্ত

এর আগে গত শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রকাশিত হয় ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল। সেই ফলে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে কৃতকার্য হন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান মিয়ার ছেলে মাহির। ছেলের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হয়ে জেলা ছাত্রদল সভাপতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ছেলের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখেন— “আলহামদুলিল্লাহ। অনেক অনেক ভালবাসা, দোয়া ও শুভ কামনা রইলো বাজান।”

এই পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। একজন দীর্ঘসময়ের ছাত্রদল নেতার সাবালক বা কলেজপড়ুয়া সন্তান থাকা এবং তার ছাত্রদলের রাজনীতিতে পদে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে।

সমালোচনার মুখে নেতার সাফাই ও ক্ষোভ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা এই বিতর্কের পর নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহজাহান খান মিয়া। তিনি সাফ জানান, ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি রাজনীতির সাথে যুক্ত। কিন্তু বিগত ১৭ বছর দল ক্ষমতার বাইরে থাকায় তখন অনেকে ছাত্রদল করার লোকই পেত না। সেই বিশেষ পরিস্থিতিতে তাকে সভাপতি করা হয়েছিল এবং ২০১৮ সালের সেই কমিটি এতদিন বহাল ছিল।

সমালোচনার জবাব দিয়ে তিনি সে সময় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “বিয়ে-শাদি মানুষ করবে না? বাচ্চা-কাচ্চা হবে না? আমার ছেলে ভালো কিছু করে, তার জন্য কি আমি আমার মনের আকাঙ্ক্ষা জানাতে পারব না?” তিনি আরও দাবি করেছিলেন, কমিটি গঠন বা ভাঙা দলের ওপর নির্ভর করে, ব্যক্তিগত ইচ্ছায় কিছু হয় না। বর্তমানে তার বয়স যুবদলের হলেও দলের নির্দেশের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলেই তিনি ছাত্রদলের পদে ছিলেন।