ফরিদপুরে রাতভর ঘর খুঁড়েও মেলেনি নিখোঁজ সামিউলের লাশ
- আপডেট সময় : ০৪:০০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / 59
ঘরের তালাবদ্ধ ঘরের পাকা মেঝের নিচে কি তবে লুকিয়ে রাখা আছে সাড়ে চার মাস ধরে নিখোঁজ থাকা আট বছরের অবোধ শিশুটির মরদেহ? ৪ জন সন্দেহভাজনের জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে গভীর রাতে যে মেগা অভিযান শুরু হয়েছিল, ফায়ার সার্ভিসের শাবল-কোদালের আঘাতে ছাদ-মেঝে ভেঙে ছয় ফুট মাটি খোঁড়ার পর সেই অভিযান শেষ হলো চরম হতাশায়! প্রবাসীর সন্তান শিশু সামিউল মল্লিকের ভাগ্যে ঠিক কী ঘটেছে—তা নিয়ে ফরিদপুরের নয়াকান্দি জুড়ে এখন ঘনীভূত হচ্ছে এক গভীর ও কুয়াশাচ্ছন্ন রহস্য।
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সাড়ে চার মাস আগে নিখোঁজ হওয়া আট বছর বয়সী শিশু সামিউল মল্লিকের কোনো খোঁজ মেলেনি আজও। তবে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে—এমন আশঙ্কায় আটক ৪ জনের দেওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করে রোববার মধ্যরাতে এক নাটকীয় অভিযান চালিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
রোববার (১ নভেম্বর ২০২৬) রাত সাড়ে ১০টা থেকে শুরু হয়ে সোমবার ভোররাত ৩টা পর্যন্ত একটানা চলা এই অভিযানে একটি বসতবাড়ির তালাবদ্ধ ঘরের পাকা মেঝে ভেঙে প্রায় ছয় ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি খুঁড়েও শিশুটির মরদেহের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ঘটনার শিকার শিশু সামিউল সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মিরাজুল মল্লিকের ছেলে।
৪ জন আটক ও মধ্যরাতের রোমহর্ষক অভিযান
পিবিআই ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সামিউলের রহস্যজনক নিখোঁজের তদন্ত চলাকালে রোববার ফরিদপুর সদর ও সদরপুরের কৃষ্ণপুর থেকে চারজনকে আটক করে পিবিআই।
আটককৃতরা হলেন—নয়াকান্দি গ্রামের আলামিন (৩৬), মোস্তফা ফরাজী (৫০), নগরকান্দা উপজেলার ফরিদ মাতুব্বর (৩৫) এবং সুজন (৩৭)।
আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া চাঞ্চল্যকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পিবিআই দল রোববার রাত সাড়ে ১০টায় কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নয়াকান্দি গ্রামের সেকেন মোল্যার বাড়িতে হানা দেয়। সেকেন মোল্যার দ্বিতীয় স্ত্রী লাভলী বেগমের তালাবদ্ধ একটি কক্ষের পাকা মেঝের নিচে মরদেহ পুঁতে রাখার ইঙ্গিত পান তদন্তকারীরা।
পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় শাবল, ড্রিলিং মেশিন ও বিশেষ সরঞ্জাম দিয়ে কক্ষটির পাকা মেঝে ভাঙা হয় এবং প্রায় ৬ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়। তবে দীর্ঘ সাড়ে ৪ ঘণ্টার তল্লাশি শেষে কোনো মরদেহের আলামত না পাওয়ায় ভোররাত ৩টার দিকে পিবিআই অভিযান স্থগিত ঘোষণা করে।
ঘটনাস্থলে জনস্রোত ও প্রশাসনের উপস্থিতি
অভিযান চলাকালে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আশপাশের গ্রামগুলো থেকে শত শত কৌতুহলী ও আতঙ্কিত মানুষ সেকেন মোল্যার বাড়ির সামনে ভিড় জমান।
পুরো অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম, সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পলাশ উদ্দিন, সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আল মামুন শাহ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যগণ।
পারিবারিক দীর্ঘশ্বাস ও প্রশাসনের আশ্বাস
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন বাড়ির পাশ থেকেই হঠাৎ নিখোঁজ হয় শিশু সামিউল। পরদিন তার চাচা সদরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দীর্ঘ সাড়ে চার মাস ধরে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী ও স্বজনরা দিশেহারা হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। পরবর্তীতে থানা পুলিশ থেকে তদন্তভার পিবিআই-এর হাতে গেলে এই ৪ জন আটক হয়।
ফরিদপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম জানান, “শিশু সামিউলের নিখোঁজের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আটকদের তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য স্থানে তল্লাশি চালানো হয়েছে। শিশুটিকে উদ্ধার বা তার মরদেহের সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত পিবিআই-এর চেষ্টা থামবে না।”










