মরদেহ নেই, গাড়ি মিলল: নিখোঁজ এমপি আনারের প্রাডো গাড়ি কুষ্টিয়ার সাফিনা টাওয়ারে
- আপডেট সময় : ১২:৫১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ জুন ২০২৫
- / 652
কুষ্টিয়া শহরের সাফিনা টাওয়ার নামে একটি আটতলা ভবনের পার্কিংয়ে পাওয়া গেছে ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো ব্র্যান্ডের একটি বিলাসবহুল গাড়ি। গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঘ ১২-৬০৬০। স্থানীয়দের সন্দেহ থেকে খবর পেয়ে সোমবার (৯ জুন) রাত ১২টার দিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িটি জব্দ করে।
মালিকানা নিয়ে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা
গাড়িটি থেকে উদ্ধার করা কাগজপত্র, সংসদ সদস্যের স্টিকার ও সিআইপি স্টিকার দেখে পুলিশ ধারণা করছে এটি ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের। কুষ্টিয়া মডেল থানার এসআই স্বপন জানান, গাড়ি ও তার কাগজপত্র থানায় নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাড়ি ছিল বহুদিন ধরে, চালক পালিয়ে যান
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাড়িটি কয়েকমাস ধরে ভবনের গ্যারেজে রাখা ছিল এবং মাঝেমধ্যে চালু করা হতো। গাড়ির চালক ‘শান্ত’ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ গাড়ির কাগজপত্র উদ্ধার করে নিশ্চিত হয় এটি এমপি আনারের নামেই রেজিস্ট্রার করা।
সিগারেট কোম্পানির সম্পৃক্ততা
তদন্তে উঠে এসেছে যে, ভবনের ২য়, ৩য় ও ৪র্থ তলা ভাড়া নিয়েছে ‘জেনুইন লিফ টোব্যাকো’ নামে একটি সিগারেট কোম্পানি। ভবনের কেয়ারটেকার আলমগীর হোসেন জানান, এই অফিসে বিদেশিরাও আসেন এবং তারাই গাড়িটি গ্যারেজে রাখার ব্যবস্থা করেছেন।
চালকের বক্তব্য ও কর্তৃপক্ষের অনুপস্থিতি
গাড়িচালক শান্ত জানান, তিনি আগে আওয়ামী লীগ নেতা আজগার আলীর ড্রাইভার ছিলেন, এখন জেনুইন লিফ টোব্যাকো কোম্পানিতে চাকরি করেন। জিএম বেলাল ও সিইও জাহিদের নির্দেশেই তিনি গাড়ি স্টার্ট দেন, মালিক কে তা তিনি জানেন না। ঘটনাস্থলে কোম্পানির কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে পাওয়া যায়নি।
ভবনের পার্কিং ভাড়া নিয়েছেন আরেক tobacco কোম্পানির অংশীদার
তদন্তে আরও জানা গেছে, ভবনের তিনটি ইউনিট ও পার্কিং ভাড়া নিয়েছেন মেহেরপুর জেলার মুস্তাফিজুর রহমান, যিনি ‘তারা টোবাকো’ নামে আরেকটি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার। ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে তিনি এ ভাড়া নেন।
সাবেক এমপি আনারের নিখোঁজ ও হত্যা প্রসঙ্গ
২০২৩ সালের ১২ মে পশ্চিমবঙ্গে যান তৎকালীন এমপি আনোয়ারুল আজীম আনার। ১৬ মে থেকে নিখোঁজ থাকার পর জানা যায়, তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে খণ্ড-বিখণ্ড করে ফেলা হয়। এখনো তার মরদেহ পাওয়া যায়নি।
তদন্ত ও শাস্তির দাবি
স্থানীয়রা এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একইসাথে ভবনে গাড়ি রাখার পেছনে কারা সহযোগিতা করেছে, তাও তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।











