ঢাকা ১০:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফরিদপুরে পুলিশের ওপর হামলা, জীবন বাঁচাতে গোপন টয়লেটে আশ্রয়

দৈনিক জাগ্রত বাংলাদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / 417

সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চলা সহিংস আন্দোলনে থানা ও সরকারি দপ্তরগুলোতে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডবে জীবন ফিরে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন হামলার শিকার পুলিশ সদস্যরা। তারা আবেগঘন কণ্ঠে বর্ণনা করেছেন সেদিনের ভয়াবহ পরিস্থিতি।

আবেগাপ্লুত সার্জেন্ট রাসেলের বর্ণনা

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট রাসেল বলেন, “এক থেকে দেড় হাজার আন্দোলনকারী একসঙ্গে আমাদের হাইওয়ে থানায় হামলা চালায়। আমাদের দোতলা ভবনের প্রতিটি কক্ষ লন্ডভন্ড করে দিয়েছে, এমনকি টয়লেটের কমোড প্যান পর্যন্ত ভেঙে ফেলেছে। এমন আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড জীবনে কোনো দিন দেখিনি। সবার হাতে ছিল বড় বড় রামদা আর বাঁশের লাঠি।”

রাসেল জানান, তারা একটি গোপন টয়লেটের ভেতরে ঢুকে হামলাকারীদের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের মাঝে এখনো আতঙ্ক কাটেনি, মনে হয়েছে যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “থানার প্রতিটি গাড়ি, অফিসারদের সব মোটরসাইকেল ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। আমাদের রেকার গাড়িটি পর্যন্ত ভেঙে ফেলেছে। এখন যদি সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হন, আমাদের যাওয়া কোনোমতেই সম্ভব না। আমাদের কী অপরাধ ছিল- যে আন্দোলনকারীরা এভাবে তাণ্ডব চালাবে, তার উত্তর আমরা এখনো পাইনি।”

ওসি’র কণ্ঠে হতাশা

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, “আমরা নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছি। আমাদের থানার বড় আটটি গাড়িসহ সর্বনিম্ন ২০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আমরা এখন পঙ্গু। আমাদের কী দোষ ছিল এভাবে আক্রমণ করবে?”

অন্যান্য দপ্তরে ভাঙচুর

অন্যদিকে, ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেন, তার কার্যালয়ের কিছু অংশে এবং নির্বাচন কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে আন্দোলনকারীরা।

প্রসঙ্গত, সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে স্থানীয়রা বেশ কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সোমবারের অবরোধ কর্মসূচির এক পর্যায়ে তা সহিংস রূপ নেয়।

ফরিদপুরে পুলিশের ওপর হামলা, জীবন বাঁচাতে গোপন টয়লেটে আশ্রয়

আপডেট সময় : ১১:৩৩:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় চলা সহিংস আন্দোলনে থানা ও সরকারি দপ্তরগুলোতে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডবে জীবন ফিরে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন হামলার শিকার পুলিশ সদস্যরা। তারা আবেগঘন কণ্ঠে বর্ণনা করেছেন সেদিনের ভয়াবহ পরিস্থিতি।

আবেগাপ্লুত সার্জেন্ট রাসেলের বর্ণনা

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট রাসেল বলেন, “এক থেকে দেড় হাজার আন্দোলনকারী একসঙ্গে আমাদের হাইওয়ে থানায় হামলা চালায়। আমাদের দোতলা ভবনের প্রতিটি কক্ষ লন্ডভন্ড করে দিয়েছে, এমনকি টয়লেটের কমোড প্যান পর্যন্ত ভেঙে ফেলেছে। এমন আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ড জীবনে কোনো দিন দেখিনি। সবার হাতে ছিল বড় বড় রামদা আর বাঁশের লাঠি।”

রাসেল জানান, তারা একটি গোপন টয়লেটের ভেতরে ঢুকে হামলাকারীদের কবল থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের মাঝে এখনো আতঙ্ক কাটেনি, মনে হয়েছে যেন নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি।”

তিনি আরও বলেন, “থানার প্রতিটি গাড়ি, অফিসারদের সব মোটরসাইকেল ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। আমাদের রেকার গাড়িটি পর্যন্ত ভেঙে ফেলেছে। এখন যদি সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ নিহত হন, আমাদের যাওয়া কোনোমতেই সম্ভব না। আমাদের কী অপরাধ ছিল- যে আন্দোলনকারীরা এভাবে তাণ্ডব চালাবে, তার উত্তর আমরা এখনো পাইনি।”

ওসি’র কণ্ঠে হতাশা

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান বলেন, “আমরা নতুন করে জীবন ফিরে পেয়েছি। আমাদের থানার বড় আটটি গাড়িসহ সর্বনিম্ন ২০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আমরা এখন পঙ্গু। আমাদের কী দোষ ছিল এভাবে আক্রমণ করবে?”

অন্যান্য দপ্তরে ভাঙচুর

অন্যদিকে, ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেন, তার কার্যালয়ের কিছু অংশে এবং নির্বাচন কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে আন্দোলনকারীরা।

প্রসঙ্গত, সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের প্রতিবাদে স্থানীয়রা বেশ কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। সোমবারের অবরোধ কর্মসূচির এক পর্যায়ে তা সহিংস রূপ নেয়।